Published : 09 May 2026, 03:46 PM
ব্লকবাস্টার হিট সিনেমা সিরিজ ‘অ্যাভাটারের’ পরিচালক জেমস ক্যামেরন ও এর প্রযোজক ডিজনির বিরুদ্ধে মামলা করেছেন পেরুভিয়ান-জার্মান অভিনেত্রী কোরিয়ানকা কিলশার।
কিলশারের দাবি অ্যাভাটারের অন্যতম কেন্দ্রীয় একটি চরিত্র তার চেহারার আদলে তৈরি করা হয়েছে।
বিবিসি জানিয়েছে, ৩৬ বছর বয়সী কিলশার অভিযোগ করেছেন ২০০৫ সালে ১৪ বছর বয়সে তিনি ‘দ্য নিউ ওয়ার্ল্ড’ নামের একটি সিনেমায় অভিনয় করেছিলেন। ওই সিনেমায় তার চেহারার আদল অ্যাভাটারের চরিত্রে ব্যবহার করেছেন ক্যামেরন।
বিবিসি লিখেছে, ক্যালিফোর্নিয়ার আদালতে দায়ের করা মামলার নথিতে বলা হয়েছে, ক্যামেরন তার ডিজাইন টিমকে কিলশারের চেহারার আদলে অ্যাভাটারের অন্যতম কেন্দ্রীয় চরিত্র নেইতিরির চেহারা তৈরি করতে বলেন।
এ প্রসঙ্গে বিবিসি ক্যামেরন ও ডিজনির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছে।
২০০৯ সালে মুক্তি পায় অ্যাভাটারের প্রথম পর্ব। যেটি এখন ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি আয় করে বক্স অফিস ইতিহাসে সর্বোচ্চ আয়ের রেকর্ড গড়েছে। এরপর ২০২২ সালে মুক্তি পায় ‘অ্যাভাটার: দ্য ওয়ে অফ ওয়াটার’ ও এর তিন বছর পর মুক্তি পায় ‘অ্যাভাটার: ফায়ার অ্যান্ড অ্যাশ’।

সিরিজে নেইতিরির চরিত্রে অভিনয় করেছেন অভিনেত্রী জোয়ি সালডানা। অ্যাভাটারের চরিত্রগুলো ফুটিয়ে তুলতে লাইভ-অ্যাকশন পারফর্ম্যান্স সঙ্গে কম্পিউটার জেনারেটেড ক্যারেক্টারের সংমিশ্রণ ঘটানো হয়েছে।
কিলশার ক্ষতিপূরণ ও সিনেমার লভ্যাংশ চাইছেন। তার দাবি, ডিজনি ও ক্যামেরন তার চেহারার অনুলিপি করে একে বাণিজ্যিক ভাবে প্রয়োগ ও ব্যবহার করেছেন।
মামলার নথিতে আরও বলা হয়েছে, ২০১০ সালে একটি অনুষ্ঠানে জেমস ক্যামেরনের সঙ্গে দেখা না হওয়া পর্যন্ত তার চেহারার ব্যবহার সম্পর্কে কিলশারের কোনো ধারণা ছিল না। ওই অনুষ্ঠানে ক্যামেরন তাকে একটি উপহার দেন।
কিলশারকে ক্যামেরনের দেওয়া উপহারটি ছিল নেইতিরির একটি স্কেচ। ক্যামেরনের স্বাক্ষরিত এই ছবিতে তিনি লিখেছিলেন, “নেইতিরির জন্য তোমার সৌন্দর্যই ছিল প্রাথমিক অনুপ্রেরণা। দুর্ভাগ্য যে তুমি তখন অন্য একটি ছবির শুটিং করছিলে। পরের বার।”

কিলশারের আইনজীবী জানিয়েছেন, অ্যাভাটারের প্রযোজকেরা কখনোই তাকে সিনেমায় নেয়ার কোনো চেষ্টা করেননি। তার এজেন্ট সে সময় অ্যাভাটারের অডিশনের জন্য চেষ্টা করলেও কোনো সাড়া পাননি।
গেল বছরের শেষের দিকে কিলশার জানতে পারেন যে, ক্যামেরন কতটা নিখুঁতভাবে তার মুখের বৈশিষ্ট্য অনুসরণ করে নেইতিরি চরিত্রটি তৈরি করেছেন। ‘অ্যাভাটার: ফায়ার অ্যান্ড অ্যাশ’ মুক্তির সময় সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পুরনো সাক্ষাৎকার ছড়িয়ে পড়লে এই বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
ওই সাক্ষাৎকারে ক্যামেরন এলএ টাইমসের প্রচ্ছদে কিলশারের একটি ছবি দেখিয়ে উল্লেখ করেন, ‘এটি প্রকৃত উৎস’। মামলার নথিতে আরও বলা হয়েছে, ক্যামেরন ওই সাক্ষাৎকারে আরও বলেন, “এটা আসলেই সেই...তার চেহারার নিচের ভাগ। তার খুবই আকর্ষণীয় একটা চেহারা ছিল।”