Published : 01 Feb 2026, 01:29 AM
আঁটসাঁট মুদ্রানীতিতে ব্যাংক ঋণের সুদহার বাড়িয়ে টানা কয়েক বছরের উচ্চ মূল্যস্ফীতির লাগাম টানার চেষ্টা এক জায়গায় এসে থমকে গেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছিল, মূল্যস্ফীতি ৬ শতাংশে না আসা পর্যন্ত সংকোচনমূলক মুদ্রানীতির ধারা বজায় রাখা হবে। দেড় বছরের চেষ্টার পরও তা ৮ শতাংশের নিচে নামাতে না পারার বিষয়টি এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের ভাবিয়ে তুলেছে।
এ পরিস্থিতিতে মূল্যস্ফীতি কেন আরো কমছে না, সে বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন চাওয়া হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সর্বশেষ সভায়।
নীতি সুদ হার আর না বাড়ালেও ১০ শতাংশে অপরিবর্তিত রেখে নতুন মুদ্রানীতি দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বলা হচ্ছিল, অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধের জন্য এই মুদ্রানীতি বৃহস্পতিবার ঘোষণা করা হতে পারে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা হয়নি।
সংবাদমাধ্যমের খবর বলছে, উচ্চ সুদহারের কৌশল মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আর কাজ না করায় কয়েকজন পরিচালকের আপত্তিতে বিষয়টি আরো পর্যালোচনা করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
শুধু মুদ্রানীতি নির্ভর কৌশল নেওয়ার কারণেই মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টায় হোঁচট খেতে হচ্ছে বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন।
তার মতে, মূল্যস্ফীতি কমানোর পরের ধাপে যেতে হলে মুদ্রানীতির সঙ্গে বাজার কাঠামো শক্তিশালি করার পাশাপাশি অর্থনীতির আগাম বার্তা জেনে সক্রিয় পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
আর সুদের উচ্চ হার দীর্ঘদিন ধরে রাখলে কমংসস্থান, বিনিয়োগ ও জিডিপি প্রবৃদ্ধির সঙ্গে মজুরি বৃদ্ধিও যে বড় ঝুঁকিতে পড়বে, সে কথা মনে করিয়ে দিয়ে সতর্ক করেছেন অর্থনীতির অধ্যাপক হেলাল উদ্দিন।

আগের ধাঁচেই নতুন মুদ্রানীতি
ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমতে শুরু করলে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে মূল্যস্ফীতির পারদ ৯ দশমিক ৫২ শতাংশে উঠে যায়। আগের মাস অগাস্টেও তা ছিল ৭ দশমিক ৫৬ শতাংশ।
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ২০২২ সালের শেষ দিক থেকে নীতিসুদ হার বাড়াতে শুরু করে বাংলাদেশ ব্যাংক। নানামুখী চেষ্টার পরও ২০২৪ সালের জুলাই মাসে মূল্যস্ফীতির হার রেকর্ড ১১ দশমিক ৬৬ শতাংশে পৌঁছায়।
ওই মাস থেকে শুরু হওয়া শিক্ষার্থীদের আন্দোলন পরের মাসে সরকার পতনের আন্দোলনে পরিণত হয়। ৫ অগাস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে।
অন্তবর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর পুরোমাত্রায় সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি কার্যকর করা হয়। ২০২৪ সালের অগাস্টে মূল্যস্ফীতির হার ১০ দশমিক ৪৯ শতাংশে নামে।
ধাপে ধাপে আরো কমে ২০২৫ সালের অক্টোবরে ৮ দশমিক ১৭ শতাংশে নেমে আসে মূল্যস্ফীতি। কিন্তু এরপর টানা দুইমাস বেড়ে ডিসেম্বরে ৮ দশমিক ৪৯ শতাংশ হয়।
এদিকে মূল্যস্ফীতি কমানোর চেষ্টায় বাংলাদেশ ব্যাংক নীতিগত সুদহার বা পলিসি রেপো রেট ধাপে ধাপে বাড়িয়ে ১০ শতাংশে তুলেছে।
সবশেষ মুদ্রানীতিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এসএলফ রেট সাড়ে ১১ শতাংশ ও এসডিএফ ৮ শতাংশ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) পরামর্শ দিয়েছে, মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশের নিচে নামা পর্যন্ত নীতিসুদ হার যেন কমানো না হয়।
সে কারণে আগামী ছয় মাসের জন্য মুদ্রানীতিতে ওই সুদহারে স্থির থাকারই পরিকল্পনা নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ২০২৪ সালের শেষ দিক থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক সংকোচনমূলক মুদ্রানীতিতে চলছে।

মূল্যস্ফীতি প্রত্যাশিত মাত্রায় কমছে না কেন
অর্থনীতির বিশ্ব স্বীকৃত তত্ত্ব অনুযায়ী, মূল্যস্ফীতির লাগাম টানতে নীতিসুদ হার বাড়িয়ে ঋণের খরচ বাড়ানো হয়।
তাতে ব্যক্তি ও উদ্যোক্তাদের হাতে অর্থের প্রবাহ কমে গিয়ে বিলাসী ও অনাবশ্যক পর্যায়ে ভোক্তা ব্যয় কমলে মূল্যস্ফীতির পারদ নিচে নামতে শুরু করে।
বাংলাদেশ ব্যাংকও সেই কৌশল নিয়েছে। তাতে মূল্যস্ফীতির পারদ দুই অংকের ঘর থেকে নামলেও গত দেড় বছরে কাঙ্ক্ষিত জায়গায় পৌঁছেনি।
গভর্নর ঘোষণা দিয়েছেন, মূল্যস্ফীতি ৬ শতাংশে নেমে না আসা পর্যন্ত মুদ্রানীতির সংকোচনমুখী ধারা অব্যাহত থাকবে।
কিন্তু এর ফলে কমেছে বেসরকারি ঋণ প্রবৃদ্ধির হার। একইভাবে মজুরি প্রবৃদ্ধির হারও কমেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, অর্থনীতির সব তত্ত্বেরই ফল পাওয়া যায় অর্থনীতির সব সূচক স্বাভাবিক থাকলে। কিন্তু বাংলাদেশের অর্থনীতি গত এক থেকে দেড় দশকে ‘স্বাভাবিক জায়গায় ছিল না’।
ব্যাংক ব্যবস্থা ব্যবহার করে বিশাল অঙ্কের টাকা পাচারের মত ঘটনা অন্য কোনো দেশের অর্থনীতিতে ঘটেনি মন্তব্য করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, “তাই মুদ্রানীতিও পুরাপুরিভাবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম না।”
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, ‘‘মূল্যস্ফীতি দুই দিক থেকে হয়। সরবরাহ জনিত দিক থেকে কোনো কারণে পণ্য কমে গেলে, আর হঠাৎ পণ্যর চাহিদা বেড়ে গেলেও মূল্যস্ফীতি হয়।’’
বিষয়টি ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, পণ্যের যোগান কম হলে ব্যবসায়ীরা দাম বাড়িয়ে দেন। কোনো কারণে ব্যবসায়ীরা যদি মনে করেন যে চাহিদা বাড়তে পারে, তাহলেও পণ্যর দাম বেড়ে যায়।

‘‘সাধারণত পরিস্থিতিতে সামগ্রিক চাহিদা হঠাৎ করেই বাড়ে না। বন্যা বা অন্য কোনো প্রাকৃতিক কারণ হলে তা ভিন্ন কথা। মূলত সমস্যা হয় যোগানের দিক থেকে। এদিকটা সবচেয়ে বেশি নজর রাখতে হয়।’’
বাজার কাঠামো তদারকি করে সরবরাহ ও যোগানের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে রাষ্ট্রের যন্ত্রগুলোকে বেশি নজরে রাখতে হয় জানিয়ে তিনি বলেন, ‘‘তেলাপিয়া, কার্প জাতীয় মাছ, পাঙ্গাস ও ডিমের দাম কিন্তু গত কয়েক মাস ধরে একই স্থানে রয়েছে। এখানে মূল্যস্ফীতি নেই। ডিমের দাম বেড়েছিল, আবার ১১০ টাকা ডজন হয়েছে। কারণ হল, সরবরাহ ভালো। চাষাবাদ বেশি হওয়ায় কেউ দাম বাড়ানোর সাহস করবে না।’’
কিন্তু ইলিশ উৎপাদনে খরচ নেই, খরচ যা হয়, তা সংগ্রহ পর্যায়ে। তারপরও ইলিশের দাম কেন এত বেশি, সে প্রসঙ্গও টানেন অধ্যাপক হেলাল।
তিনি বলেন, ‘মাছ কি ধরা পড়ছে না? না কি, কেউ বেশি দিন মজুত করছে। সেটাই সরকারকে জানতে হবে। মাছের সরবরাহ বেশি থাকলে দাম কোনোভাবেই বাড়বে না।’’
বাংলাদেশে খাদ্য মূল্যস্ফীতি সবচেয়ে বেশি। এখন হঠাৎ-হঠাৎ একেকটি পণ্যের দাম একেক সময়ে বেড়ে যায়। দেশীয় ও আমদানি–উভয় পর্যায়ে এ সমস্যা হচ্ছে।
সে কারণে আমদানির দুয়ার সব সময়ে খোলা রাখার পরামর্শ দিয়েছেন বিশ্ব ব্যাংকের সাবেক লিড ইকোনোমিস্ট জাহিদ হোসেন।
তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ব্যবসায়ীরা যদি জানতে পারেন বা বুঝতে পারেন যে পণ্যর শর্টেজ হবে, তাহলেই দাম বেড়ে যাবে। এটা কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না।
“আমাদের দেশে সমস্যা হওয়ার পরে পদক্ষেপ নেওয়া হয়। কেন? এটা তো আগেই নেওয়া যেত। দাম বাড়ার পর কমতে অনেক সময় লাগে। এর মাঝে ব্যবসা করে নেন একটি শ্রেণি। তাদের থামাতে হলে আগাম পদক্ষেপ নিয়ে পণ্যর সরবরাহ বাড়াতে হবে।’’

দাম যেভাবে বাড়ে, সেভাবে কমে না
আমদানি নির্ভর দেশ হওয়ায় দেশি পণ্য উৎপাদনেও কৃষি খাতের কীটনাশক ও সারসহ অনেক কাঁচামাল আমদানি করতে হয়। ডলারের দামের ওঠা-নামাও মূল্যস্ফীতিতে প্রভাব রাখে।
জাহিদ হোসেন বলেন, “আমি দেখেছি, ডলারর দাম এক টাকা বেড়ে গেলে পণ্যর দাম কমপক্ষে ৫০ পয়সা বেড়ে যায়। কিন্তু ডলারের দর কমলে বা শুল্ক তুলে নেওয়ার পর এক টাকা খরচ কমলে মূল্যস্ফীতি বা পণ্যর দর ১০ থেকে ২০ পয়সার বেশি কমে না।’’
যেখান থেকে মূল্যস্ফীতি শুরু হয়, কমে যাওয়ার পর পণ্যর দাম সেই আগের জায়গায় যে আর ফেরে না, সে কথাও তিনি বলেন।
“এখানেই বাজার কাঠামো কাজ করছে না। কারণ ব্যবসায়ীরা বলেন, তাদের অন্যান্য খরচ তো কমেনি। ঋণ সুদ হার একই আছে। চাঁদাবাজি যা অর্থনীতিতে আন-অফিসিয়াল কস্ট বলা হয়, তা তো আছে।
‘‘এখন খুচরা পর্যায়ের ব্যবসায়ীদের হয়ত মুনাফা বাড়বে মূল্যস্ফীতি কমলে, সার্বিকভাবে কিন্তু ভোক্তা পর্যায়ে মূল্যস্ফীতির সুফল পাওয়া যাবে না। কারণ এই অতিরিক্ত (চাঁদা) খরচ তো কমছে না।’’
বাজার কাঠামো ঠিক রাখতে আগাম পূর্বাভাস দিয়ে পণ্যর সরবরাহের দিকটি নিশ্চিত করতে পারলে মুদ্রানীতি কাজ করবে বলে মনে করেন এই অর্থনীতিবিদ।

আঁটসাঁট মুদ্রানীতিতে অর্থনীতির ঝুঁকি
ব্যাংকিং খাতে তারল্য সংকটের পাশাপাশি বিদেশি মুদ্রার সংকট তৈরি হলে আমদানি দায় পরিশোধে বিপাকে পড়ে যায় বিগত আওয়ামী লীগ সরকার।
সংকট উত্তোরণে আইএমএফ এর সঙ্গে ঋণ চুক্তি হয় ২০২২ সালে। ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে ৫ বিলিয়ন ডলারের ঋণের প্রথম কিস্তি বাংলাদেশ হাতে পায়।
গত ১০-১৫ বছরে অর্থনীতি থেকে যে অঙ্কের টাকা পাচার হয়েছে, তাতে দুয়েক বছরে সমস্যার সমাধান হবে না মন্তব্য করে অধ্যাপক হেলাল উদ্দিন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এখন মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আপাততো নীতিসুদ হার যা কাজ করছে, তা দিয়েই মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। অর্থনীতির আজকের অবস্থা এক দিনে হয়নি, পুরো সিস্টেম ঠিক-ঠাক করতে ৫-৭ বছর সময় দিতে হবে।’’
তবে দীর্ঘ সময়ের সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি যে কর্মসংস্থান ও জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে, সে কথা তুলে ধরে হেলাল উদ্দিন বলেন, “একটা পর্যায় গিয়ে আমাদের বিনিয়োগ বাড়াতে হবে, একটু উদার হতে হবে। সেটা না হলে অর্থনীতি একটি ঘোরের মধ্যে পড়ে যাবে।’’
বেসরকারি বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধি কমতে কমতে গত নভেম্বরে ৬ দশমিক ৫৮ শতাংশে নেমে আসে। আগের বছরের নভেম্বরে ছিল ৭ দশমিক ৬৬ শতাংশ।
বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ কমায় পণ্য উৎপাদন ও মজুরি হারে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আগামীতে নির্বাচিত সরকার এসে কোন দিকে অগ্রাধিকার দেবে তা দেখে হয়ত বাংলাদেশ ব্যাংকের মুদ্রানীতি রিভাইজ করতে হবে।”
আবার মুদ্রানীতি এখনই উদার করলে ‘আরো ঝুঁকি তৈরি হতে পারে’ মন্তব্য করে জাহিদ হোসেন বলেন, ‘‘নীতিসুদ হার কমানো হলে মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে গিয়ে নতুন বিপদ তৈরি করতে পারে। তাই আপাততো মূল্যস্ফীতি একই জায়গায় রাখতে নীতিসুদহার না কমিয়ে সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি করার দিকে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক।’’
বাজারে ঋণের চাহিদাও বেশি নেই–এমন পর্যবেক্ষণ দিয়ে তিনি বলেন, “বিনিয়োগের জন্য শুধু সুদহার দায়ী না। এর সঙ্গে অনেক কিছু রয়েছে-পরিবেশ, জ্বলানি, বিদ্যুত ও চাহিদা।
“সুদহার কমিয়ে তো অনেক টাকা বের করে নেওয়া হল। সেই সময়ের সঙ্গে তুলনা করলে ঋণের প্রবৃদ্ধি কম, কারণ এখন প্রয়োজনের চেয়ে বেশি টাকা কেউ নিচ্ছে না।”
বর্তমানে ঋণ চাহিদা বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন জাহিদ হোসেন।

তিনি বলেন, “টাকার প্রয়োজন যদি হতই, তাহলে ডলারের দাম আরো বেড়ে যেত। বিনিময় হার তো এখন একটা জায়গায় এসে স্থিতিশীল অবস্থায় আছে। নির্বাচনের পরে হয়ত বিনিয়োগে আরেকটু গতি আসতে পারে। তখন প্রবাহ বাড়বে।”
বিআইডিএসের (বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা ইনস্টিটিউট) সাবেক মহাপরিচালক মোস্তফা কে মুজেরি বলছেন, মূল্যস্ফীতির লাগাম টানার মুদ্রানীতি বাস্তবায়নে অর্থনীতি পুরো সচল হওয়া প্রয়োজন।
তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বিনিয়োগের সঙ্গে রাজনৈতিক নেতৃত্বের একটি সংযোগ রয়েছে। রাজনৈতি সরকারের স্থিতিশীলতা সরকারি নীতির ধারবাহিকতা রক্ষা করতে পারে। পরিস্থিতি সামাল দিতে উদ্যোগ নিতে পারে। এখন অর্থনীতি যেমন বিশেষ অবস্থায় রয়েছে, বিশেষ সময়ের জন্য বিশেষ সরকার দেশ চালাচ্ছে।
‘‘রাজনৈতিক দল দায়িত্ব নিলে অর্থনীতির সংস্কার কার্যক্রম আরো গতি পাবে। তখন অর্থনীতিও পুরো মাত্রায় সচল হবে, ঋণের চাপ বাড়লে সুদহার কমে যাবে, মুদ্রানীতি কাজ করবে।’’
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে একইসঙ্গে বাজার কাঠামোকে শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাওয়া দরকার বলে মনে করেন মুজেরি।
অন্যদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম জাহীদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “শুধু চাহিদা কমিয়ে অর্থনীতির কোনো সিদ্ধান্ত দীর্ঘ মেয়াদে সুফল বয়ে আনে না। এখন উপায় না পেয়ে সংকোচনমূলক মুদ্রানীতিতে চলছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
“ঋণ চাহিদা না থাকলে সুদহার কমিয়েও লাভ হবে না। অনেকে তো ঋণ নিয়ে উৎপাদনে যাননি। সেটাও বিবেচনায় নিতে হবে। এখন রাজনৈতিক দলের সরকার এসে যদি অর্থনীতির চাকা একটা সমঝোতার মাধ্যমে চালু রাখতে পারে, তখন অর্থনীতির মিস-ম্যাচগুলো সমাধান হবে।”