Published : 14 Jun 2026, 11:21 PM
এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) বাজেট সহায়তা ঋণের ১ বিলিয়ন ডলার যোগ হওয়ার পর বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ ছাড়াল ৩১ বিলিয়ন ডলার।
রোববার দিন শেষে বিপিএম-৬ হিসাবে রিজার্ভ ৩১ দশমিক শূন্য ৭ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। আর গ্রস বা মোট হিসাবে রিজার্ভ পৌঁছেছে ৩৫ দশমিক ৬২ বিলিয়ন ডলারে।
বাংলাদেশ ব্যাংক মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, “প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সে উল্লম্ফন ও ডলার কেনার কারণে রিজার্ভ এমনিতেই সন্তোষজনক অবস্থানে ছিল। এডিবির ঋণে আরো বেড়েছে। এই সূচক নিয়ে আর উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা নেই।”
এডিবি ঢাকা অফিসের বহিঃসম্পর্ক বিভাগের প্রধান গোবিন্দ বর রোববার রাতে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এডিবির দুটি প্রকল্পের ১ বিলিয়ন ঋণের অর্থ ছাড় করা হয়েছে। সেটা বাংলাদেশের রিজার্ভে যোগ হয়েছে।
“প্রকল্প দুটির একটি সোশ্যাল সেফটি নেট প্রকল্পের আওতায়, আরেকটি আর্থিক খাতের রিফর্মস (সংস্কার) সংক্রান্ত।”
গত সপ্তাহের শেষ দিন ১১ জুন বিপিএম-৬ হিসাবে রিজার্ভ ছিল ৩০ দশমিক শূন্য ৫ বিলিয়ন ডলার; গ্রস হিসাবে ছিল ৩৪ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন ডলার।
এর আগে গত ৭ মে বিপিএম-৬ হিসাবে রিজার্ভ ছিল ৩০ দশমিক ৬৪ বিলিয়ন ডলারে উঠেছিল। গ্রস হিসাবে ছিল ৩৫ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন ডলার।
এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) ১ দশমিক ৫১ ডলার আমদানি বিল পরিশোধের পর বিপিএম-৬ হিসাবে রিজার্ভ ২৯ দশমিক ৫০ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে। গ্রস হিসাবে নামে ৩৪ দশমিক ১৫ বিলিয়ন ডলারে।
রেমিটেন্সে ভর করে রিজার্ভ বাড়তে থাকে। ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে ডলার কেনার কারণেও রিজার্ভ মজবুত হয়।
গত মে মাসে ৩ দশমিক ৪৩ বিলিয়ন ডলার রেমিটেন্স এসেছে দেশে, যা গত বছরের মে মাসের চেয়ে ১৫ দশমিক ৩৪ শতাংশ বেশি। চলতি জুন মাসের ১৩ দিনেই এসেছে ১ দশমিক ৩৬ বিলিয়ন ডলার। সব মিলিয়ে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ১৭ দিন বাকি থাকতেই ২৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিটেন্স পাঠান প্রবাসীরা।
অন্যদিকে জুন মাসের এ পর্যন্ত নিলামে ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার কেনা হয়েছে। সব মিলিয়ে বিদায়ী অর্থবছরে কেনা হয়েছে ৬ দশমিক ৪২ বিলিয়ন ডলার।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, ৩৯ মাস পর গত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে গ্রস রিজার্ভ ৩৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়ায়।
২০২২ সালের নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে রিজার্ভ ৩৫ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমেছিল। এরপর আর ৩৫ বিলিয়ন ডলারের উপরে ওঠেনি।
অর্থনীতির সামর্থ্য প্রকাশের গুরুত্বপূর্ণ সূচক রিজার্ভ। চব্বিশের গণ–অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের আগে রিজার্ভ কমতে কমতে ২০ বিলিয়ন ডলারের ঘরে নেমে এসেছিল। আর সেটা দেশের অর্থনীতির জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দেখা দেয়। সে বিবেচনায় সন্তোষজনক রিজার্ভ নিয়েই শুরু হয়েছে তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকারের যাত্রা।
রিজার্ভের প্রধান দুই উৎস হচ্ছে রপ্তানি আয় ও রেমিটেন্স। রপ্তানি আয় কমলেও রেমিটেন্সের উল্লম্ফন অব্যাহত রয়েছে।
প্রতিবার আকুর আমদানি বিল পরিশোধের পর রিজার্ভ খানিকটা কমে যায়।
জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি সময়ের আকুর বিল বাবদ ১ দশমিক ৩৭ বিলিয়ন ডলার পরিশোধ করা হয়েছিল মার্চের প্রথম সপ্তাহে।
এর আগে ২০২৫ সালের নভেম্বর-ডিসেম্বর মেয়াদের ১ দশমিক ৫৩ বিলিয়ন ডলার শোধ করা হয় জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে।
এক বছর আগে গত বছরের ৪ জুন বিপিএম-৬ হিসাবে রিজার্ভ ছিল ২০ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন ডলার। গ্রস হিসাবে ছিল ২৬ দশমিক শূন্য ছয় বিলিয়ন ডলার।
অর্থনীতির সামর্থ্য প্রকাশের গুরুত্বপূর্ণ সূচক রিজার্ভ নিয়ে বাংলাদেশে উদ্বেগ চলছে আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ সময় থেকেই। অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নিলেও উদ্বেগ কাটছিল না।
তবে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স, রপ্তানি আয় এবং বিশ্ব ব্যাংক, আইএমএফ ও এডিবিসহ অন্যান্য দাতা সংস্থার বাজেট সহায়তার ঋণে রিজার্ভ স্বস্তির জায়গায় এসেছে।
সাড়ে ৪ মাসের আমদানি ব্যয় মিটবে
বাংলাদেশ ব্যাংক বিপিএম-৬ হিসাবের রিজার্ভকে তাৎক্ষণিক ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ হিসেবে দাবি করে।
সবশেষ গত এপ্রিল মাসের আমদানির তথ্য প্রকাশ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তাতে দেখা যায়, ওই মাসে পণ্য আমদানিতে বাংলাদেশের ৭ দশমিক শূন্য ৭ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে।
সে হিসাবে বর্তমানের ৩১ দশমিক শূন্য ৭ বিলিয়ন ডলার তাৎক্ষণিক ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ দিয়ে সাড়ে ৪ মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব হবে।
আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, একটি দেশের কাছে অন্তত তিন মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর সমপরিমাণ বিদেশি মুদ্রা মজুদ থাকতে হয়।
আগামী জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহে আকুর মে-জুন মেয়াদের আমদানি বিল পরিশোধ করতে হবে। তার আগে রিজার্ভ আরো বাড়বে বলে আশা করছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা।