Published : 14 Jul 2025, 07:06 PM
করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) থাকার পরও ব্যক্তিশ্রেণীর করদাতাদের মধ্যে ৭২ লাখই আয়কর বিবরণী বা ‘রিটার্ন’ দাখিল করেন না বলে তথ্য দিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান।
তিনি বলছেন, যে করদাতারা রিটার্ন দাখিল করেন, তাদের মধ্যে প্রায় ৩০ লাখই কোনো আয়কর পরিশোধ করছেন না।
চেয়ারম্যানের বরাতে সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য তুলে ধরেছে এনবিআর।
জুলাই মাসের আয়কর বিভাগের রাজস্ব আহরণ পর্যালোচনা সভার তথ্য দিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, টিআইএন থাকা সত্ত্বেও যারা রিটার্ন দাখিল করেননি (ননফাইলার) তাদের রিটার্ন দাখিলে উদ্বুদ্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন এনবিআর চেয়ারম্যান।
এ ক্ষেত্রে জনবলের সর্বোচ্চ ব্যবহার করে রিটার্ন দাখিল নিশ্চিতের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, “আয় ও সম্পদ বৈষম্য কমিয়ে একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠন এবং রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহের ক্ষেত্রে মোট রাজস্ব আদায়ে আয়করের হিস্যা বাড়ানোর কোন বিকল্প নেই। এ লক্ষ্য অর্জনে আমরা বার বার ব্যর্থ হচ্ছি। বিদায়ী অর্থবছরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর্তৃক মোট রাজস্ব আদায়ের বিপরীতে আয়কর খাতের আদায়ের হার বৃদ্ধি না পেয়ে বরং কিছুটা কমেছে।”

চেয়ারম্যানকে উদ্ধৃত করে এনবিআরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “আয়কর আদায় বাড়াতে হলে টিআইএন থাকা স্বত্ত্বেও যারা আয়কর রিটার্ন দাখিল করেন না, এমন ৭২ লাখ করদাতা এবং রিটার্ন দাখিল করলেও যেসকল করদাতা আয়কর পরিশোধ করছেন না, এরূপ প্রায় ৩০ লাখ করদাতা এই ১ কোটি করদাতার নিকট থেকে তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী আয়কর আদায় করতে হবে।”
নতুন ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এই ১ কোটি করদাতাকে অগ্রাধিকার দিতে আয়কর কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান আবদুর রহমান খান।
এছাড়া জরিপ এবং স্পট অ্যাসেসমেন্ট কার্যক্রম জোরদার করে নতুন করদাতা খুঁজে বের করার নির্দেশনা দেন তিনি।
এনবিআর চেয়ারম্যানের সভাপতিত্বে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের রাজস্ব ভবনে অনুষ্ঠিত এ সভায় আয়কর বিভাগের সদস্যরা, ঢাকার কমিশনার ও মহাপরিচালকরা, প্রথম ও দ্বিতীয় সচিবরা (আয়কর বিভাগ) উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ঢাকার বাইরের আয়কর বিভাগের কর্মকর্তারা ভার্চুয়ালি বৈঠকে যুক্ত হন।
আলোচনায় বকেয়া কর আদায় বাড়াতে সভায় অংশগ্রহণকারী কমিশনারদের নির্দেশ দেন এনবিআর চেয়ারম্যান।
সংশ্লিষ্ট কমিশনারের কাছ থেকে তিনি জোনভিত্তিক আদায়ের অগ্রগতি সম্পর্কে অবগত হন। বকেয়া আদায়ে কোনো সমস্যা হচ্ছে কিনা, তা জানতে চান এবং আদায় বাড়াতে করণীয় বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেন।
তিনি করদাতাদের ‘হয়রানিমুক্ত সেবা নিশ্চিতে’ চলতি মাসের মধ্যেই সকল নথি ট্রান্সফার সম্পন্ন করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেন।