চবিতে যৌন নিপীড়ন: দুই ছাত্রকে চিরতরে বহিষ্কার

বাকিরা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হওয়ায় ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যকে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হবে।

চট্টগ্রাম ব্যুরোবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 23 July 2022, 02:57 PM
Updated : 23 July 2022, 02:57 PM

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এক ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই ছাত্রকে আজীবন বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

শনিবার বিকালে উপাচার্য অধ্যাপক শিরীণ আখতারের সভাপতিত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব হেলথ, রেসিডেন্স অ্যান্ড ডিসিপ্লিনারি কমিটির বিশেষ সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া বলে জানিয়েছেন প্রক্টর ড. রবিউল হাসান ভূঁইয়া।

বহিষ্কৃতরা হলেন- ইতিহাস বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মো. আজিম, নৃবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী নুরুল আবছার বাবু।

প্রক্টর ড. রবিউল হাসান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মো. আজিম এবং নৃবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী নুরুল আবছার বাবু শৃঙ্খলা পরিপন্থী কাজে জড়িত থাকায় তাদের আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। একইসঙ্গে নিপীড়নকারীদের বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

আজিম ও বাবু ছাড়া অন্য অভিযুক্তদের বিষয়ে তিনি বলেন, “বাকিরা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হওয়ায় ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যকে এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হবে।”

প্রক্টর বলেন, “বোর্ড অব হেলথ, রেসিডেন্স অ্যান্ড ডিসিপ্লিননারি কমিটির আজকের সভায় বেশ কয়েকটি সুপারিশ এসেছে। আমরা সেগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করব।”

গত ১৭ জুলাই রাতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের হতাশার মোড় থেকে হলে ফেরার পথে এক ছাত্রী ও তার বন্ধুকে আটকে বোটানিক্যাল গার্ডেন এলাকায় নিয়ে যৌন নিপীড়ন করে কয়েকজন। ওই ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টাও করা হয় বলে অভিযোগ।

Also Read: চবিতে যৌন নিপীড়ন: আরেক যুবক গ্রেপ্তার

পরে ওই শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ে অভিযোগ করলে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ২০ জুলাই ওই শিক্ষার্থী হাটহাজারী থানায় মামলা করেন।

এই ঘটনায় শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ-বিক্ষোভের মধ্যে শুক্রবার রাতে নগরীর বিভিন্ন স্থান থেকে চারজন এবং শনিবার বহদ্দারহাট এলাকা একজনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে র‌্যাব।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- মোহাম্মদ আজিম (২৩), নুরুল আবছার বাবু (২২), নূর হোসেন শাওন (২২), মাসুদ রানা (২২) ও সাইফুল ইসলাম (২৪)।

তাদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র মোহাম্মদ আজিমকে ঘটনার হোতা বলছে র‌্যাব। ইতিহাস বিভাগের এই ছাত্রের বাড়ি নোয়াখালীর হাতিয়ার চর ভারত সেনে। তার বাবার নাম আমির হোসেন। এখন হাটহাজারীর ফতেহপুরে থাকেন তারা।

আর নৃবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র নুরুল আবছার বাবুর বাবার নাম বেলায়েত হোসেন। তাদের বাড়ি ফেনীর পরশুরামের বেড়াবাড়িতে। এখন থাকেন হাটহাজারীর ফতেহপুরে।

বাকিদের মধ্যে শাওন ও রানা হাটহাজারী কলেজের শিক্ষার্থী, সাইফুল একই প্রতিষ্ঠানের সাবেক শিক্ষার্থী।

গ্রেপ্তাররা নিজেদের ছাত্রলীগের কর্মী দাবি করেছেন বলে র‌্যাব কর্মকর্তাদের ভাষ্য।

তবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল হক রুবেল বলেছেন, এই অপকর্মের দায় সংগঠন নেবে না।

যদিও ঘটনার পরদিন সোমবার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে ভুক্তভোগী লিখিত অভিযোগ দিতে গেলে খোদ রুবেলের বাধায় তা দিতে পারেননি বলে অভিযোগ করেছেন ওই ছাত্রীর এক বন্ধু।

তবে রেজাউল হক রুবেলের দাবি, তিনি ওই ছাত্রীকে অভিযোগ দিতে বাধা নয়, বরং সহযোগিতা করেছেন।

ইতিমধ্যে রুবেলকে ‘শৃঙ্খলা পরিপন্থী’ কাজ করায় শোকজ করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। সেই নোটিস পেয়ে বুধবার ঢাকায় যান রুবেল।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক