Published : 07 Mar 2024, 02:49 PM
একাত্তরে চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে বঙ্গবন্ধুর পক্ষে প্রথম স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ স্মরণীয় করে রাখতে বহদ্দারহাট চত্বরে উদ্বোধন করা হল 'বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ' স্মৃতি স্মারক।
বৃহস্পতিবার সকালে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা এম রেজাউল করিম চৌধুরী এই স্মৃতি স্মারক উদ্বোধন করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মেয়র বলেন, "চট্টগ্রাম থেকে বঙ্গবন্ধুর পক্ষে প্রথম স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করা হয়েছে। তার স্মৃতি ধরে রাখতে এই স্মৃতিফলক নির্মাণ করেছি। এই স্মৃতিফলক তরুণ প্রজন্মকে মনে করিয়ে দেবে স্বাধীনতা সংগ্রামে চট্টগ্রামের ভূমিকার কথা।"
মুক্তিযুদ্ধ ও জনগণকে সংঘঠিত করতে এই কালুরঘাট বেতারকেন্দ্রই প্রাথমিক ভূমিকা পালন করে। একাত্তরের ২৬ মার্চ সেখানে প্রতিষ্ঠিত হয় স্বাধীন বাংলা ‘বিপ্লবী’ বেতার কেন্দ্র, যা পরে ‘স্বাধীন বাংলা বেতার’ হিসেবে পরিচিতি পায়।
২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে আটক হওয়ার আগেই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশকে ‘স্বাধীন’ ঘোষণা করে দেশবাসীর উদ্দেশে একটি তারবার্তা পাঠান। ইপিআরের ওয়ারলেস বার্তায় প্রচার করা হয় তার স্বাধীনতার ঘোষণা।
বঙ্গবন্ধুর সেই স্বাধীনতার ঘোষণা ২৬ মার্চ দিনের বেলায় হ্যান্ডবিল আকারে ইংরেজি ও বাংলায় ছাপিয়ে চট্টগ্রামে বিলি করা হয়৷ আওয়ামী লীগ নেতা জহুর আহমেদ চৌধুরী বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা চট্টগ্রামের ইপিআর সদর দপ্তর থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে ওয়্যারলেস মারফত পাঠানোর ব্যবস্থা করেন৷ পরে কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে বঙ্গবন্ধুর পক্ষে সেই ঘোষণাপত্র পাঠ করেন চট্টগ্রাম জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ হান্নান।
১৯৭১ সালের ৩০ মার্চ পর্যন্ত চলে এ বেতার কেন্দ্রের কার্যক্রম। এ কয়দিনে স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান সম্প্রচার করা হয়। প্রতিকূল অবস্থার মধ্যে এ বেতার কেন্দ্র স্থানান্তর করা হয় ভারতের ত্রিপুরায়; পরে কলকাতায় স্থানান্তর করে সেখান থেকেই মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীন বাংলা বেতারের কার্যক্রম চলে।
সেই কালুরঘাট বেতার কেন্দ্রের অদূরে বহদ্দারহাট চত্বরে স্থাপন করা হয়েছে 'বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ' স্মৃতি স্মারক। কাচ দিয়ে নির্মাণ করা এ স্মারক পিরামিড আকৃতির। কাচের ফ্রেমের ভেতর রয়েছে মাইক্রোফোন।
কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠের সময় যে মাইক্রোফোন ব্যবহার করা হয়েছিল, এটি তার প্রতীকী রূপ। আর পিরামিডটি মুক্তিযুদ্ধকালীন সাত কোটি বাঙালির ঐক্যের প্রতীক।
নগর আওয়ামী লীগ নেতা ফরিদ মাহমুদ, কাউন্সিলর মো. এসরারুল হক, সিসিসির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ঝুলন কুমার দাশ, স্থপতি আবদুল্লাহ আল ওমর, উপ-প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা মোরশেদুল আলম, হেলাল আহমেদ, বস্তি উন্নয়ন কর্মকর্তা মঈনুল হোসেন জয়, স্থপতি আজমুল হক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।