বীমা খাতে ‘আস্থার সংকট’ কাটাতে সংশ্লিষ্টদের তাগিদ দিলেন সচিব

সচিব বলেন, “বীমা খাত এমন একটি খাত যেখানে ৯৯ পয়েন্ট ৯৯ পেলেও হবে না; ১০০ তে ১০০ পেতে হবে।”

চট্টগ্রাম ব্যুরোবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 19 Nov 2022, 01:42 PM
Updated : 19 Nov 2022, 01:42 PM

অর্থনীতিতে বীমা খাতকে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে এতে সাধারণ মানুষের ‘আস্থার সংকট’ কাটাতে সংশ্লিষ্টতদের তাগিদ দিয়েছেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব শেখ মোহাম্মদ সলীমউল্লাহ।

শনিবার চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে ‘বীমা সম্পর্কে জনসচেতনা বৃদ্ধির’ লক্ষ্যে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এ তাগিদ দেন তিনি; ‘বীমা উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ’র আয়োজনের সভায় আস্থার সংকট ও উত্তরণসহ বিভিন্ন বিষয় ওঠে আসে।

মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের কর্মকর্তা সলীমউল্লাহ বলেন, কী কারণে সংকট, তা চিহ্নিত করতে হবে।

“১০০ জন গ্রাহকের মধ্যে ৯৯ জনকে সন্তুষ্ট করতে পারলেও একজনকে যদি সন্তুষ্ট করা না যায় উনি তার বিষয়টি প্রচার করবেন; কোম্পানির বদনাম করবেন। যাতে করে ৯৯ জনের ভালো কাজের কোন দাম থাকবে না।”

খাতটিকে সংবেদনশীল বর্ণনা করে তিনি আরও বলেছেন, “বীমাখাত এমন একটি খাত যেখানে ৯৯ পয়েন্ট ৯৯ পেলেও হবে না; ১০০ তে ১০০ পেতে হবে।

লাইফ ও নন-লাইফ, এই দুই ধরনের বীমা রয়েছে উল্লেখ করে সলীমউল্লাহ বলেন, আইনি বাধ্যবাধকতা থাকায় নন-লাইফ বীমা করতে অনেকে বাধ্য হন। কিন্তু জীবনবীমার জন্য আইনি কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।

“এজন্য অনেকে মনে করেন, এই খাতে মানুষ আসছে না।”

সংকট কাটাতে বীমা প্রতিষ্ঠানগুলোকেও স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান সচিব।

বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট শেখ কবীর হোসেন বলেন, “বীমাখাতে আস্থার সংকট আছে এটা আমরা অস্বীকার করতে পারি না। একবার একসভায় বীমা কোম্পানির একজন বললেন, আমাদের অবস্থা এত খারাপ হয়েছে যে, আমাদের ছেলে-মেয়েদের বিয়ে হচ্ছে না, কারণ আমরা ইন্স্যুরেন্স করি।

অতীতে এ সংকট ছিল না দাবি করে খাতের ঐতিহ্য ফেরাতে কাজ করার আহ্বান জানান বীমা সংস্থার এ নেতা।

খাতের সংশ্লিষ্টদের প্রশিক্ষণ প্রয়োজন জানিয়ে কবীর হোসেন বলেন, “সার্ভেয়ারদের মধ্যে গলদ আছে, একেক জন একেক প্রতিবেদন দেন।

“এজেন্টরা গ্রাহকের কাছ থেকে টাকা তুলছে। কিছু জমা দেয়, আর কিছু মেরে দেয়। কিন্তু গ্রাহকতো মনে করছে সে তার টাকা পরিশোধ করেছেন। এগুলো বন্ধ করতে হবে।

“বীমাখাতের ঐতিহ্য ফেরাতে শুধু আইন প্রণয়ন দিয়ে কিছু হবে না, তা পালনের মানসিকতার বিষয়টিও থাকতে হবে।”

বীমা খাতে আস্থার সংকট রয়েছে মন্তব্য করে চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি মাহবুবুল আলম বীমা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়ন্ত্রণে আনার কথা বলেন।

ব্যবসায়ী এ নেতার অভিযোগ, জীবন বীমা (রাষ্ট্রায়ত্ত্ব প্রতিষ্ঠান) ও বেসরকারি মানসম্পন্ন কয়েকটি কোম্পানি ছাড়া সব প্রতিষ্ঠান কিস্তি নিয়ে হয়রানি করেন।

সভাপতির বক্তব্যে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জয়নুল বারী বলেন, “একজন গ্রাহক যদি তার প্রিমিয়ামের টাকা সঠিক সময়ে ফেরত না পায়, প্রিমিয়াম নিয়ে যদি পকেটে রেখে দেওয়া হয়, গ্রাহককে হয়রানি করা হয় তাহলে এই ব্যবসা ধ্বংস হয়ে যাবে।”

এ ধরনের বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিয়মিত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টিও উল্লেখ করেন জয়নুল বারী।

বীমাখাত একটি টেকনিক্যাল বিষয়; বোঝা সহজ নয়। এজন্য বীমার বিষয়টি সাধারণ শিক্ষায় অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন বলেও মনে করেন তিনি।

চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার আনোয়ার পাশা, জেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক বদিউল আলম সভায় উপস্থিত ছিলেন।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক