Published : 21 Aug 2022, 10:09 PM
পাহাড়, টিলা কেটে গড়ে তোলা চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ‘আলী নগর আবাসিক প্রকল্প’ পরিদর্শন করেছে প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
রোববার বিকালে জঙ্গল সলিমপুরের আলীনগরে স্থানীয় সাংসদ, জেলা প্রশাসক, পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি, নগর পুলিশ কমিশনার, জেলা পুলিশ সুপার, র্যাব-৭ এর প্রধানসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা এলাকাটিতে যান।
জঙ্গল সলিমপুরের বেহাত হয়ে যাওয়া সরকারি বিভিন্ন পাহাড় কেটে গড়ে তোলা হয়েছে অবৈধ বসতি। ‘আলী নগর বহুমুখী সমবায় সমিতির’ নামে সেখানে নিজেদের মধ্যে বিকিকিনির মাধ্যমে বিভিন্ন স্থাপনাও গড়ে তোলা হয়।
খাস জমি দখল করে স্থাপনা নির্মাণের জন্য গড়ে তোলা সমিতিটিও নিবন্ধনভুক্ত বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এর নিবন্ধন নম্বর ৮২২১।
এদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, সরকারি খাস জমি ও পাহাড় কেটে অবৈধভাবে এসব স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে।
এসব খাস জমিতে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার, স্পোর্টস ভিলেজ, ক্রিকেট স্টেডিয়াম, আইকনিক মসজিদ, নাইট সাফারি পার্কসহ বিভিন্ন স্থাপনা তৈরির পরিকল্পনার কথা জানানো হয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে।
এরপর সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী ও উচ্চ পদস্ত কর্মকর্তারা জঙ্গল সলিমপুরের খাস জমিগুলো পরিদর্শন করেন। ২০ অগাস্টের মধ্যে দখল হওয়া এসব জমি ছেড়ে দেওয়ার জন্য গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। বিচ্ছিন্ন করা হয় বিদ্যুৎ সংযোগ।
জঙ্গল সলিমপুরে টানা অভিযান, বাসিন্দাদের বিক্ষোভ
রোববার স্থানীয় সাংসদ দিদারুল আলম, উপজেলা চেয়ারম্যান এসএম আল মামুন, সিএমপি কমিশনার কৃষ্ণপদ রায়, ডিআইজি আনোয়ার হোসেন, র্যাব-৭ এর অধিনায়ক লেফটেনেন্ট কর্নেল এমএ ইউসুফ ওই এলাকা পরিদর্শন করেন।
সেখানে ডিআইজি সাংবাদিকদের বলেন, “এখানে পাহাড় কেটে কীভাবে প্রকৃতিকে বিপর্যস্ত করা হয়েছে সেটা আমরা সরেজমিনে দেখেছি।”
তিনি বলেন, এ জায়গাটা সরকারি খাস জমি। যারা এখানে বসবাস করছে বা প্লট করে বিক্রি করেছে, পুরোটা অবৈধভাবে করেছে। কীভাবে সরকারি জায়গাগুলো উদ্ধার করা যায় সেটা নিয়ে পরিকল্পনা করব।”
জেলা প্রশাসক মো. মোমিনুর রহমান বলেন, “এটা পুরোটাই সরকারি খাস জায়গা। আপনারা দেখেছেন সরকারি পাহাড়, টিলা ও গাছপালা কেটে কীভাবে ধ্বংস করা হয়েছে।
“এটি অপরাধীদের স্বর্গ রাজ্য, এখানে দাগি সন্ত্রাসীরা বসবাস করে। এলাকাটা উদ্ধারের পরিকল্পনা হয়েছে। সেপ্টেম্বর থেকে বড়বড় অভিযানে সকল অবৈধ বসবাসকারীদের উচ্ছেদ করা হবে।”

এদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২০ অগাস্টের মধ্যে এলাকা ছেড়ে দেওয়ার কথা বলা হলেও অনেকেই ছাড়েননি। রোববার প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা সেখানে যাওয়ার খবর পেয়ে রাস্তা কেটে দেওয়া হয়। সকাল থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতিতে রাস্তা সংস্কার করে গাড়ি চলাচলের উপযোগী করা হয়।
স্থানীয়রা জানান, আলীনগর এলাকায় অন্তত ২০ হাজার লোকের বসবাস। যারা অল্প দামে জায়গা কিনে কিংবা ভাড়ায় ওই এলাকায় বসতি গড়েছেন।
স্থানীয় অধিবাসী দিলুয়ারা বেগম জানান, ২০০৯ সালে আলী নগর বহুমুখী সমবায় সমিতির কাছ থেকে প্রতিটি ৪০ বর্গফুটের দুইটি প্লট এক লাখ টাকায় তারা কিনেন।
সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইয়াসিনের ছোট ভাই ফারুকের কাছ থেকে প্লটগুলো কিনেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, জায়গা কেনার সময় তাদের কোনো কাগজপত্র দেওয়া হয়নি। আবার ১৫ হাজার টাকা করে তাদের কাছে ‘শেয়ার সার্টিফিকেট’ বিক্রি করা হয়েছে।
জঙ্গল সলিমপুরে হবে কারাগার স্টেডিয়াম, সঙ্গে ‘ছিন্নমূলদের’ পুনর্বাসনও: তথ্যমন্ত্রী
নিজেদের টাকায় ওই এলাকায় পানি নিষ্কাশনের জন্য নালা তৈরিসহ বিভিন্ন সংস্কার কাজ করেছেন। বছর পাঁচেক আগে সেখানে তারা বিদ্যুৎ সংযোগ পান বলে জানান দিলুয়ারা।
বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা বিভিন্ন দামে সমিতির কাছ থেকে প্লটগুলো কিনেন।
মিনি ট্রাক চালক আব্দুল হাই নামে এক ব্যক্তি জানান, ২০০৮ সালে তিনি ৩০ হাজার টাকা করে সমিতির কাছ থেকে দুটি প্লট কিনেন। কোনো কাগজ তাকে দেওয়া না হলেও টাকা নেওয়ার টোকেন দেওয়া হয়েছে।

আলী নগর এলাকায় প্লট তৈরি করে গড়ে তোলা হয়েছে প্রাথমিক ও উচ্চ বিদ্যালয় এবং মসজিদ।
তিনি জানান, প্রতিমাসে ১০০ টাকা করে তারা সমিতিকে চাঁদা দেন স্কুল ও মসজিদ পরিচালনার জন্য।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের এনডিসি তৌহিদুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, শুক্রবার তথ্যমন্ত্রীর সঙ্গে প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বৈঠকে আলী নগরের জায়গাগুলো সরেজমিনে দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা বলেছেন। এর অংশ হিসেবে পরিদর্শনে যাওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, ওই এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পর যে জেনারেটরগুলো থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছে, সেগুলো নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া হয়েছে। ওই এলাকায় কিছু গ্যাস সংযোগ সেখানে পুলিশ ক্যাম্পসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণের সময় এবং যান চলাচলে লাইনগুলোর যাতে সমস্যা না হয় সেগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে।