Published : 06 Nov 2025, 10:58 PM
রাউজানে বালুমহালের নিয়ন্ত্রণ এবং স্থানীয়ভাবে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ‘ভাড়াটে খুনি’ দিয়ে ব্যবসায়ী ও বিএনপিকর্মী আবদুল হাকিমকে হত্যা করা হয়েছে।
চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকা থেকে গত এক সপ্তাহে চারজনকে গ্রেপ্তার এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র ও মোটরসাইকেল উদ্ধারের পর চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য দিয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গ্রেপ্তার আসামিরা আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে এবং হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকার কথা স্বীকার করেছে।
গত ৭ অক্টোবর সন্ধ্যার কিছু আগে হাটহাজারী উপজেলার মদুনাঘাট ব্রিজের কাছে একদল লোক প্রাইভেট কার আটকে রাউজানের ব্যবসায়ী আবদুল হাকিমকে গুলি করে হত্যা করে। হাকিম রাউজানের হামিম অ্যাগ্রো ফার্মের মালিক এবং স্থানীয় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।
হাটহাজারী থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখা যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করে চারজনকে গ্রেপ্তার করে বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।
এ ঘটনার সাথে সম্পৃক্ততার অভিযোগে গেল ৩১ অক্টোবর রাউজানের বাগোয়ান ইউনিয়নের গরীব উল্লাহ পাড়া থেকে আব্দুল্লাহ খোকন ওরফে ল্যাংড়া খোকনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি ব্যবসায়ী হাকিম হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দিও দিয়েছেন।
তার দেওয়া তথ্যে রোববার রাউজানের নোয়াপাড়া থেকে হত্যাকাণ্ডের জড়িত অভিযোগে মারুফ নামে অপর একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। মারুফ জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্রের বিষয়ে তথ্য দেয় এবং সেটি সাকলায়েন নামে একজনের কাছে আছে বলে জানান।
মঙ্গলবার হাটহাজারী থানা পুলিশ উপজেলার নোয়াপাড়া থেকে সাকলায়েন হোসেনকে গ্রেপ্তার এবং তার কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি একনলা বন্দুক, একটি এলজি ও একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করে।
চট্টগ্রামে গাড়ি আটকে ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যা
চট্টগ্রামের হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মো. তারেক আজিজ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “গ্রেপ্তারকৃতদের তথ্য মতে রাউজানে বালুমহালের নিয়ন্ত্রণ ও স্থানীয়ভাবে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।”
ইতোমধ্যে চার আসামি গ্রেপ্তার হয়েছে তুলে ধরে তিনি বলেন, এর বাইরে আরও ১২ জনের মতো আসামি শনাক্ত করা গেছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ কর্মকর্তা তারেক আজিজ বলেন, গ্রেপ্তারকৃতরা জিজ্ঞাসাবাদে বলেছেন, তাদের হত্যাকাণ্ডের জন্য ‘ঠিক’ করা হয়েছিল।
তবে কারা হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনায় জড়িত সে বিষয়ে পুলিশ কর্মকর্তা বিস্তারিত আর কিছু বলেননি।
তিনি বলেন, “আমরা এ ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত আরও বেশ কয়েকজনকে চিহ্নিত করেছি। তদন্তের স্বার্থে এখনই নাম প্রকাশ করছি না।”