Published : 23 Jul 2025, 08:49 PM
চট্টগ্রামে তিনজনের শরীরে জিকা ভাইরাস শনাক্ত হওয়ার তথ্য দিয়েছে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর)।
চলতি মাসের শুরুতে চট্টগ্রামে দুজনের শরীরে জিকা ভাইরাস ধরা পড়ার বিষয়টি সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে আইইসিডিসিআরকে জানানো হয়।
এর পরিপ্রেক্ষিতে আইইডিসিআরের ন্যাশনাল র্যাপিড রেস্পন্স টিম অনুসন্ধান চালিয়ে যে প্রতিবেদন দিয়েছে, তাতে তিনজনের শরীরে ভাইরাসটি থাকার কথা বলা হয়।
আইইডিসিআরের একটি কীটতাত্ত্বিক দল এইডিস মশা চিহ্নিতকরণে নগরীর ছয়টি এলাকায় জরিপও চালায়।
জরিপে ১২৮টি বাড়ি পরিদর্শন করা হয়, যার মধ্যে ৬২টিতে এইডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউিএইচও) ব্রেটো ইনডেইনডেক্স অনুসারে ছয়টি এলাকাতেই এইডিস মশার উপস্থিতি অধিক মাত্রায় পাওয়া গেছে, যা ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার জন্য ‘উচ্চ ঝুঁকির’ বলে প্রতিবেদনে বলা হয়।
চট্টগ্রাম নগরীর একটি বেসরকারি ল্যাবে ‘কম্বাইন্ড টেস্ট’ পদ্ধতিতে দুজনের শরীরে জিকা ভাইরাস শনাক্ত হওয়ার বিষয়টি ৮ জুলাই জানা যায়।
জিকা ভাইরাস ইন্টারন্যাশনাল হেলথ রেগুলেশনসের (আইএইচআর) তালিকাভুক্ত রোগ হওয়ায় এটি আইইডিসিআর নিশ্চিক করে থাকে। এ কারণে বিষয়টি তাদেরকে জানানো হয়। জানানো হয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কমিউনিকেবল ডিজিজ কন্ট্রোল (সিডিসি) বিভাগকেও।
এর ভিত্তিতে আইইডিসিআরের ‘র্যাপিড রেসপন্স টিম’ ১২ থেকে ১৮ জুলাই চট্টগ্রামের তিনটি সরকারি হাসপাতাল, পাঁচটি বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়গনস্টিক সেন্টার এবং নগরীর পাঁচটি ওয়ার্ডে অনুসন্ধান চালায়।
ওয়ার্ডগুলো হলো- ৯ নম্বর উত্তর পাহাড়তলি, ১৩ নম্বর পাহাড়তলি, ১৫ নম্বর বাগমনিরাম, ২৬ নম্বর উত্তর হালিশহর এবং ২৭ নম্বর দক্ষিণ আগ্রাবাদ ওয়ার্ড।
তদন্ত তত্ত্বাবধানকারী আইইডিসিআরের রোগতত্ত্ববিদ ডা. মো. ওমর কাইয়ুম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমাদের জরিপে প্রাপ্ত রোগতাত্ত্বিক ও কীটতাত্ত্বিক ফল আমরা প্রতিবেদনে তুলে ধরেছি। প্রতিবেদনটি স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগকে দেওয়া হয়েছে, তারা সে অনুসারে ব্যবস্থা নেবে।”
প্রতিবেদনে বলা হয়, জুলাই মাসে চট্টগ্রামে তিনজন জিকা রোগী নিশ্চিত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে দুজন পুরুষ ও একজন নারী। দুজন চল্লিশোর্ধ্ব এবং একজন পঞ্চাশোর্ধ্ব।
তিনজন রোগীরই জ্বর এবং অস্থিসন্ধি ও মাসংপেশিতে ব্যথা ছিল। এছাড়া দুজনের ত্বকে র্যাশ ও মাথাব্যথা ছিল। অন্য একজন রোগীর শরীরে ফোলা ভাব দেখা গেছে।
ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার উচ্চ ঝুঁকি
জরিপে নগরীর চট্টেশ্বরী রোড, ও আর নিজাম রোড, আগ্রাবাদ, পাহাড়তলী, হালিশহর ও ঝাউতলা এলাকার ১২৮টি বাড়ি পরিদর্শন করা হয়। যার মধ্যে ৬২টি বাড়িতে এইডিস মশার লার্ভা মেলে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নির্ধারিত ব্রেটো ইনডেক্স (বিআই) হল একটি কীটতাত্ত্বিক সূচক, যা মশার লার্ভা এবং পিউপা, বিশেষ করে এইডিস মশার ঘনত্ব পরিমাপে ব্যবহার করা হয়।
ব্রেটো ইনডেক্স ২০ এর বেশি হলে এলাকাটি উচ্চ ঝুঁকির বলে বিবেচিত হয়। জরিপ চালানো বাড়িগুলোতে গড় ব্রেটো ইনডেক্স পাওয়া গেছে ৭৫ দশমিক ২৯।
এরমধ্যে ব্রেটো ইনডেক্সের মান আগ্রাবাদে সর্বোচ্চ ১৩৪ দশমিক ৬২, পাহাড়তলিতে ১১০, চট্টেশ্বরী এলাকায় ৪৮ দশমিক ৩৯, ও আর নিজাম রোডে ৪২ দশমিক ৮৬, এবং ঝাউতলায় ৩৩ দশমিক ৩৩ পাওয়া যায় জরিপে।
প্রাপ্ত লার্ভা নমুনায় প্রজাতিভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৬৫ শতাংশই ছিল এইডিস ইজিপ্টিয়া, ৩২ দশমিক ৬৪ শতাংশ এইডিস এলবোপিকটাস এবং ২ দশমিক ৮৬ শতাংশ নমুনায় উভয় প্রজাতির মিশ্র উপস্থিতি পাওয়া যায়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এইডস ইজিপ্টিয়া মশার আধিক্য জিকা ভাইরাসের সংক্রমণের উচ্চ ঝুঁকির ইঙ্গিত দেয়।
চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “মশার ঘনত্ব তথা ব্রেটো ইনডেক্স বেশ উচ্চমাত্রার। একারণে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে।
“প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুসারে আমরা মশা নিয়ন্ত্রণে ওষুধ ছিটাতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনকে বলেছি। পাশাপাশি ওইসব এলাকার স্বাস্থ্য সহকারীদের জানিয়েছি সর্তকতা সৃষ্টিতে কাজ করতে। নগরবাসীর উচিত সতর্ক থাকা। বাসায় ছাদ, ফুলের টব বা পরিত্যক্ত সরঞ্জামে যেন পানি না জমে।”
কীটতাত্ত্বিক জরিপের ফলের ভিত্তিতে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাসমূহে অনতিবিলম্বে মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম পরিচালনা করা, পর্যায়ক্রমে সিটি করপোরেশনের অন্যান্য ওয়ার্ডগুলোকেও ওই কার্যক্রমের আওতায় আনা এবং মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে জনগণের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করার সুপারিশ করা হয় আইইডিসিআরের প্রতিবেদনে।
পুরনো খবর
চট্টগ্রামে দুজনের জিকা ভাইরাস বলে সন্দেহ