Published : 07 Jul 2025, 08:20 PM
চট্টগ্রাম জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা প্রতিদিন বাড়ছে; পরিস্থিতি মোকাবেলায় জনসচেতনতার ওপর জোর দিচ্ছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
জুন মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে জেলায় ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়তে শুরু করে। সেসময় দিনে গড়ে ৫-৭ জন রোগী শনাক্ত হচ্ছিল।
সোমবার জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রতিবেদন অনুসারে, আগের ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে ২২ জন।
চলতি মাসের প্রথম ছয় দিনে রোগী শনাক্ত হয়েছে মোট ৮৩ জন। এরমধ্যে ৩৯ জন নগরীর এবং ৪৪ জন বিভিন্ন উপজেলার বাসিন্দা।
এরআগে জুন মাসে জেলায় মোট ১৭৬ জন রোগী শনাক্ত হয়েছিল। মে মাসে ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছিল ১১৬ জন।
নগরীর পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন উপজেলাতেও ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে পাল্লা দিয়ে। উপজেলাগুলোর মধ্যে বাঁশখালীতে সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে চলতি বছর।
জানতে চাইলে জেলা সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এখন বর্ষাকাল তাই ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে। আমরা সচেতনতা কার্যক্রম চালাচ্ছি। লিফলেট বিতরণ ও মাইকিং করা হচ্ছে।
“চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়রকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছি। পরে সভাও করেছি। সব জায়গায় যাতে মশার ওষুধ ছিটানো হয় তা বলেছি। মশক নিধন কার্যক্রম বাড়ানোরও পরামর্শ দিয়েছি। তারা নিয়মিত ওষুধ ছিটাচ্ছে।”
চলতি বছর এখনো মশক জরিপ হয়নি জানিয়ে সিভিল সার্জন জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, “এখন যেহেতু টানা বৃষ্টি চলছে, তাই জরিপ করা সম্ভব না। বৃষ্টি থামলে জরিপের কাজ শুরু হবে।
“সিটি করপোরেশনকে আমরা জানিয়েছি, নগরীর বাকলিয়া, শেরশাহ, হালিশহর ও বায়েজিদ বোস্তামি এলাকায় ডেঙ্গু রোগী বেশি শনাক্ত হয়েছে। তাই সেখানে তারা মশক নিধন কার্যক্রমে জোর দিয়েছে।”
চলতি বছর সোমবার পর্যন্ত জেলায় ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে ৫২৮ জন। তার মধ্যে নগরীতে ২৩৪ জন এবং বিভিন্ন উপজেলার বাসিন্দা ২৯৪ জন।
উপজেলাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বাঁশখালীতে এ বছর সর্বোচ্চ ৮৯ জন এবং সীতাকুণ্ডে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৬৭ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে।
সিভিল সার্জন বলেন, “বাঁশখালীতে ডেঙ্গু রোগী বেশি। সেখানে আমরা লিফলেট বিতরণ ও মাইকিং করছি। আমাদের পরামর্শ দিনে বা রাতে যখন কেউ ঘুমাতে যাবে যেন মশারি ব্যবহার করে।
“পাশাপাশি শিশুদের জন্য যেন মশা নিরোধক ক্রিম ব্যবহার করা হয়। জনগণ সচেতন না হলে ডেঙ্গু থেকে মুক্ত থাকা সম্ভব নয়।”
জুনের মধ্যভাগের পর থেকে জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্তের হার ক্রমাগত বাড়ছে। ১ জুন থেকে ১৬ জুন পর্যন্ত ৫০ জন রোগী শনাক্ত হয়। জুন মাসের শেষ ১৪ দিনে আরো ১২৬ জন রোগী শনাক্ত হয়।
রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকলেও এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যুর হার গত কয়েক বছরের তুলনায় কম। চলতি বছর এখন পর্যন্ত ২ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।
পুরনো খবর
চট্টগ্রামে ডেঙ্গুর বিস্তার, গুরুতর রোগী কম
চট্টগ্রামে ডেঙ্গু: রোগীর অবস্থার দ্রুত অবনতি ও মৃত্যু বাড়ার কারণ