Published : 19 Dec 2025, 03:23 AM
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান বিন হাদির হত্যার প্রতিবাদে চট্টগ্রামে ভারতীয় সহকারি হাই কমিশন কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি শেষ হওয়ার পর আরেকটি পক্ষ গিয়ে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করেছে।
পরে পুলিশ কাঁদুনে গ্যাস ও লাঠিপেটা করে রাত ২টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এর আগে রাত ১২টা ৫৫ মিনিটে বিক্ষোভকারীরা অবস্থান কর্মসূচি শেষ করে ফিরে যায়।
এর কিছুক্ষণ পর আরেকটি মিছিল নিয়ে লোকজন ভারতীয় সহকারি হাইকমিশনের সামনে জড়ো হয়। এক পর্যায়ে পুলিশ তাদের বুঝিয়ে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলেও তারা যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শী একাধিক ব্যক্তি জানান, এর ৫ থেকে ৭ মিনিট পর অবস্থানকারীরা ভারতীয় সহকারি হাইকমিশন কার্যালয় লক্ষ্য করে ইট পাটকেল ছুড়তে শুরু করে।
একপর্যায়ে পুলিশ কাঁদুনে গ্যাস নিক্ষেপ করে। এসময় বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট ছোড়ে। পরে পুলিশ তাদের ধাওয়া দেয়। ধাওয়া খেয়ে তারা আশপাশের গলিতে ঢুকে পড়ে।
এসময় পুলিশ সদস্যরা ধাওয়া দিয়ে তাদের সরিয়ে দিলে রাত ২টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
এর আগে বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে নগরীর খুলশী এলাকায় কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেয় বিক্ষুব্ধ ছাত্র জনতা।
এই কর্মসূচির খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে অবস্থান নিয়েছিল। শুরুতে একবার বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দিলেও পরে তারা আবার জড়ো হয়।
হাদির মৃত্যু খবর প্রকাশের পরপরই রাত পৌনে ১১টার দিকে এ কর্মসূচি শুরু হয়। অন্যদিকে বিক্ষুব্ধ ছাত্র জনতার আরেকটি পক্ষ নগরীর ২ নম্বর গেটে অবস্থান নিয়েছিল।
খুলশীতে ভারতীয় সহকারি হাইকমিশন কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেয়ারা হাদির মৃত্যুর প্রতিবাদে আওয়ামী লীগ ও ভারতবিরোধী স্লোগান দিতে থাকে। পরে সেখানে পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত হয়ে তাদের কিছুটা দূরে সরিয়ে দেয়।
নগরীর খুলশী থানার ওসি শাহিন আলম তখন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছিলেন, যারা হাইকমিশনের সামনে অবস্থান নিয়েছিলেন তাদের সরিয়ে দেয়া হয়েছে। আমাদের পুলিশ সদস্যরা সেখানে আছে।
পরে বিক্ষুব্ধরা আবার জড়ো হয়। এসময় তারা ভারতীয় সহকারি হাইকমিশনের সামনের সড়কে অবস্থান নেয়।
বিক্ষোভকারীদের অবস্থানের কারণে এক পর্যায়ে উভয়মুখী সড়কটির জিইসিমুখী অংশে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। তখন বিপরতীমুখী সড়কটি দিয়ে দুই দিকের গাড়িই চলছিল।
এসময় বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দিতে থাকে- 'ভারতীয় আগ্রাসন রুখে দাঁড়াও', 'একটা একটা লীগ ধর, ধইরা ধইরা জবাই কর', 'আমরা সবাই হাদি হবো, গুলির মুখে লড়ে যাবো', 'আমার ভাইয়ের রক্ত বৃথা যেতে দেবো না', 'ইনকিলাব ইনকিলাব জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ', 'হাদি ভাইয়ের রক্ত, বৃথা যেতে দিবো না', 'নায়ারে তাকবির আল্লাহু আকবর'।
বিক্ষোভকারীরা বারবার ওই সড়কে মিছিল করছিল। কাছেই পুলিশ সদস্যরা অবস্থান নিয়ে ছিল।
রাত সাড়ে ১২টায় খুলশী থানার ওসি শাহিন আলম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "শুরুতে যারা জড়ো হয়েছিলেন তাদের সরিয়ে দেয়ার পরও আরো লোকজন এসে এখানে অবস্থান নেন। আমরা আছি।"
পরে রাত ঠিক ১২টা ৫৫ মিনিটে বিক্ষোভকারীরা ভারতীয় সহকারি হাইকমিশনের সামনের সড়ক থেকে অবস্থান কর্মসূচি শেষ করে চলে যান। এরপর সেখানে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
এর কিছুক্ষণ পর আবার মিছিল নিয়ে আসে বিক্ষোভকারীরা।