Published : 22 Jul 2026, 03:11 PM
শেরপুর সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক সেলিম মিঞাকে বিশেষ ‘ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-ওএসডি’ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ আদেশ জারি করা হয়।
ময়মনসিংহ বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. প্রদীপ কুমার সাহাও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ওএসডি করার পর ডা. সেলিম মিঞাকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, মহাখালীতে সংযুক্ত করা হয়েছে।
সেলিম মিঞা ২০২৪ সালের জুলাইতে নেত্রকোণার সিভিল সার্জন পদ থেকে বদলি হয়ে ১০ জুলাই শেরপুর সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে যোগ দেন।
দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ ওঠে। এসব অভিযোগে স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্যোগে মানববন্ধনসহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্মারকলিপিও দেওয়া হয়।

ওএসডি করার বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে সেলিম মিঞা বলেন, “আমি গত কিছুদিন ধরে নিজে থেকেই বদলির চেষ্টা করছিলাম। অতি সম্প্রতি ‘রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে’ প্রশাসনিক বিভিন্ন কাজকর্ম করতে গিয়ে নানা জটিলতা সৃষ্টি হওয়ায় আমার পক্ষে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করা সম্ভব হচ্ছিল না।
“আমি মঙ্গলবার দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়েছি। বুধবার ঢাকায় নতুন কর্মস্থলে যোগদান করতে যাচ্ছি।”
শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালের নতুন তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ডা. মুহাম্মদ এমরান হোসেন। এর আগে তিনি খুলনার বক্ষব্যাধি হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের দায়িত্ব পালন করেন।
এমরান হোসেনের বাড়ি শেরপুরের নকলা উপজেলায় এবং তিনি আগামী রোববার দায়িত্ব গ্রহণ করবেন বলে জানা গেছে।
শেরপুর প্রেসক্লাবের কার্যকরী সভাপতি রফিক মজিদ বলেন, “ডা. সেলিম মিঞা ২০১৮ সালে গঠিত স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) শেরপুর জেলা শাখার নির্বাহী কমিটির একজন শীর্ষ নেতা ও সদস্য ছিলেন। হাসপাতালের কোটি কোটি টাকার দরপত্র, কেনাকাটা, ওষুধ বিতরণ এবং আউটসোর্সিং জনবল নিয়োগের মতো আর্থিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো তার তত্ত্বাবধান ও নির্দেশনায় পরিচালিত হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।”
তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ১৭ নভেম্বর শেরপুরে সময় টিভির জেলা প্রতিনিধি শহিদুল ইসলাম হিরাকে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় সেলিম মিঞার বিরুদ্ধে সাংবাদিক ও স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। ওই সময় তার অপসারণ ও শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ-মিছিলও হয়।
রফিক মজিদের ভাষ্য, “পরে রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে কোনো জবাবদিহিতা ছাড়াই সেলিম মিঞা জেলা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে ফিরে আসেন। দায়িত্বে ফিরে তিনি আবারও একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলে প্রশাসনিক স্বেচ্ছাচারিতা চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।”
সেলিম মিঞার বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে ময়মনসিংহ বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক প্রদীপ সাহা বলেন, “বিষয়টি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কর্তৃপক্ষই ভালোভাবে বলতে পারবে।”