Published : 18 Jun 2026, 06:26 PM
চট্টগ্রামে ১৩ বছর আগে ৪০ বোতল ফেনসিডিলসহ গ্রেপ্তারের ঘটনায় করা মাদক মামলায় এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।
চতুর্থ অতিরিক্ত চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আফরোজা জেসমিন কলি বৃহস্পতিবার এই রায় দেন।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী নাঈম হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, আসামির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে করা অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো তিন মাসের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।
দণ্ডিত নিকাশ চক্রবর্তী ওরফে সুমন (৪১) চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার বড় হাতিয়া গ্রামের মৃত পুলিন চক্রবর্তীর ছেলে। তিনি পলাতক রয়েছেন।
মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০১৩ সালের ২৬ এপ্রিল চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগে বিশেষ অভিযান চলাকালে নগরীর জেলা পরিষদ মার্কেটের সামনে থেকে তাকে আটক করা হয়।
তার কাছে থাকা একটি প্লাস্টিকের ব্যাগে ৪০ বোতল ফেনসিডিল পায় পুলিশ।
১৯৯০ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৯(১) ধারায় নিকাশ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে মামলা করেন চট্টগ্রাম নগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার এএসআই মো. আব্দুল জলিল।
এই মামলায় ছয়জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে বৃহস্পতিবার রায় দেওয়া হলো।
একই আদালতে অস্ত্র আইনের মামলায় আরেক ব্যক্তিকে ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে।
১১ বছর আগে একটি এক নলা বন্দুকসহ গ্রেপ্তারের ঘটনায় দণ্ডিত ৪৯ বছর বয়সি মো. জলিল বরগুনা জেলার পাথরঘাটা উপজেলার ছোট পাথরঘাটা গ্রামের মৃত তাজেম আলীর ছেলে। ঘটনার সময় তিনি নগরীর ডবলমুরিং থানার পান্না পাড়া এলাকায় থাকতেন।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী নাঈম হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইনের ১৯ (এ) ধারায় নিজের কাছে অবৈধ অস্ত্র রাখার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আসামি জলিলকে এই সাজা দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, আসামি জলিল পলাতক রয়েছেন।
মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০১৫ সালের ২১ জুলাই ডবলমুরিং থানাধীন চৌমুহনী মোড় এলাকায় অস্ত্র বিক্রির জন্য কয়েকজন ব্যক্তি অবস্থান করছেন, এমন তথ্য পান র্যাব সদস্যরা।
পরে জলিলকে একটি একনলা বন্দুকসহ গ্রেপ্তার করে র্যাব-৭।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জলিল জানিয়েছিলেন তিনি দীর্ঘদিন ধরে দেশিয় অস্ত্র কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত।
এই ঘটনায় র্যাব-৭ এর সদস্য মো. শামসুল হক বাদী হয়ে ডবলমুরিং থানায় অস্ত্র আইনে মামলাটি করেন।
সাতজন সাক্ষীর সাক্ষ্য নেওয়া হয় বৃহস্পতিবার মামলার রায় দেওয়া হল।