Published : 27 Nov 2024, 09:50 PM
সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাশ ব্রহ্মচারীকে কারাগারে নেওয়ার সময় চট্টগ্রামে আদালত এলাকার অদূরে সংঘর্ষ চলাকালে নিহত আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে সমাহিত করা হয়েছে।
বুধবার বিকেলে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি ইউনিয়নের ফারেঙ্গা গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে কবর দেওয়া হয়।
বুধবার দিনভর নগরীতে বিভিন্ন সংগঠন এই হত্যার প্রতিবাদে নানা কর্মসূচি পালন করেছে।
সকাল ১০টার দিকে চট্টগ্রাম আদালত ভবন এলাকায় সোনালী ব্যাংক চত্বরে প্রতিবাদ সমাবেশ শুরু করেন আইনজীবীরা।
বেলা সাড়ে ১০টায় পুরনো আদালত ভবন চত্বরে আলিফের প্রথম জানাজা হয়। এতে উপদেষ্টা এ এম হাসান আরিফ, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি নাজিম উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক আশরাফ হোসেন চৌধুরী রাজ্জাক অংশ নেন।
দ্বিতীয় জানাজা হয় নগরীর জমিয়তুল ফালাহ জাতীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে। এতে জামায়াত ও বিএনপির নেতাকর্মীদের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য।
সেখানে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক সারজিস আলম হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সংগঠন আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ– ইসকনকে নিষিদ্ধ ঘোষণার দাবি জানান।
জানাজায় চট্টগ্রামের সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেন, বিএনপি নেতা গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী ও আবুল হাশেম বক্কর এবং জামায়াতে ইসলামীর চট্টগ্রাম মহানগরের আমির শাহজাহান চৌধুরী, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহও উপস্থিত ছিলেন।
বেলা ১২টার দিকে নগরীর টাইগারপাস মোড়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আয়োজনে শোক ও সম্প্রীতি সমাবেশ হয়। সেখানে আলিফ হত্যায় জড়িতদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের দাবি ওঠে।
সমাবেশে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, “ধর্মের দোহাই দিয়ে উগ্রবাদী সংগঠন পরিচালনা করলে বাংলাদেশে এক হাত জায়গাও দেওয়া হবে না। আমার ভাই সাইফুলকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। এই ইসকনকে ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’ হিসেবে নিষিদ্ধ করতে হবে।”
তবে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে এক সভায় ভূমি উপদেষ্টা এ এফ হাসান আরিফ বলেন, “কাউকে কোনো সংগঠনের বলাটা আমরা পরিহার করি। একক অপরাধের জন্য কোনো সংগঠন, দল বা কোন গোষ্ঠীকে আঙুল তোলা উচিত নয়। কেউ অপরাধ করলে তার দায় ব্যক্তির, কোনো দল বা গোষ্ঠীর নয়।”
ওই সভায় শাহাদাত হোসেন, হাসনাত আবদুল্লাহ, সারজিস আলমও উপস্থিত ছিলেন।
বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে জাতীয় নাগরিক কমিটি, চট্টগ্রাম বিভাগ সংবাদ সম্মেলন করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সবাইকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানায়।
সেখানে নাগরিক কমিটির কেন্দ্রীয় সদস্য মোহাম্মদ হাসান আলী বলেন, “এই মুহূর্তে আমাদের সবাইকে খুবই সতর্কতার সাথে এগিয়ে যেতে হবে।”
বিকেলে নগরীর বহদ্দারহাট এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করে ইসলামী ছাত্র শিবির।
মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (মিডিয়া) কাজী মো. তারেক আজিজ জানিয়েছেন, বুধবারের আদালত প্রাঙ্গণ, রঙ্গম সিনেমা হল ও কোতয়ালি মোড়ে তিন জায়গায় পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় তিনটি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় মোট ২৮ জনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
আলিফ হত্যায় আলাদা মামলা হবে। গ্রেপ্তার হওয়া ২৮ জনের মধ্যে আট জন এই খুনের সন্দিগ্ধ আসামি বলেও জানান তিনি।
তবে কাদেরকে আসামি করা হয়েছে এবং কাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে, সে বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি পুলিশ কর্মকর্তারা।
আলিফ হত্যার প্রতিবাদে বুধবার আদালত বর্জন করা আইনজীবীরা বৃহস্পতিবারও একই কর্মসূচি রেখেছেন।
জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আশরাফ হোসেন চৌধুরী রাজ্জাক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, “আলিফের পরিবার হয়ত মামলা করবে। যদি তারা মামলা না করে সেক্ষেত্রে আইনজীবী সমিতি সিদ্ধান্ত নিয়ে এগিয়ে যাবে।”
সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাশ ব্রহ্মচারীকে মঙ্গলবার কারাগারে নেওয়ার সময় চট্টগ্রাম আদালত ভবন ও জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনের সড়কে ‘হামলায়’নিহত হন আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ।
রিলেটেড লিংক
অপরাধের দায় ব্যক্তির, দল বা গোষ্ঠীর নয়: উপদেষ্টা হাসান আরিফ
বৃহস্পতিবারও কর্মবিরতি পালনের সিদ্ধান্ত চট্টগ্রামের আইনজীবীদের
চট্টগ্রামে বুধবার আদালত বর্জনের ঘোষণা আইনজীবী সমিতির
চট্টগ্রামে সংঘাতের ঘটনায় তিন মামলা
আইনজীবী হত্যা: ভিডিও দেখে ৬ জন আটক