Published : 14 Jun 2026, 07:11 PM
উনিশ বছর পর বাজেট দিতে এসে বিএনপির নতুন সরকার সৃজনশীল অর্থনীতির বিকাশে নানা সুবিধা দেওয়ার কথা বলেছে, তবে ‘ক্রিয়েটিভ মিডিয়া’ সেবা দিয়ে একজন ব্যক্তি করদাতার যে আয়ের সুযোগ রয়েছে, তাতে উৎসে কর হার বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
বাজেটে প্রায় ৬ লাখ ৫ হাজার কোটি টাকা জোগানের লক্ষ্য দেওয়া হয়েছে কর আদায়কারী সংস্থা জাতীয় রাজস্ব বোর্ড-এনবিআরকে।
এ লক্ষ্য অর্জনে কর ভিত্তি বাড়াতে ‘ক্রিয়েটিভ মিডিয়া’ সেবায় উৎসে কর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা বলেছে এনবিআর।
এ বিষয়ে নতুন বিধান রেখে উৎসে কর বিধিমালা ২০২৬ প্রকাশ করেছে কর আদায়কারী সংস্থা, যা ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে।
বিধিমালায় বলা হয়েছে, ‘ক্রিয়েটিভ মিডিয়া’ সেবার ক্ষেত্রে যখন বিল পরিশোধ করা হবে তখন ৪ শতাংশ হারে উৎসে কর কেটে রাখতে হবে।
অর্থাৎ একজন ব্যক্তিশ্রেণির করদাতা ‘ক্রিয়েটিভ মিডিয়া’ সেবা দিয়ে যে অর্থ পাওয়ার কথা সেখান থেকে ৪ শতাংশ হারে কর আগেই কেটে রাখা হবে; বাকি অর্থ তিনি পাবেন।
চলতি অর্থবছরে এ সেবায় মোট বিলের ২ শতাংশ অথবা কমিশন বা ফি বাবদ অর্থের ১০ শতাংশ হারে উৎসে কর কাটার বিধান রয়েছে।
তবে শর্ত হচ্ছে- মোট বিলের ২ শতাংশ অথবা কমিশনের ১০ শতাংশের মধ্যে যেটি বেশি হবে টাকার অঙ্কে, সেটিই সরকারকে উৎসে পরিশোধ করতে হতো।
সাধারণত এ ধরণের সেবায় কমিশন বাবদ কম আয় হওয়ায় মোট বিলের উপরই কর দিতে হতো; এখন সেই করের পরিমাণ বেড়ে দ্বিগুণ হল। এতে করে তরুণরা যে ‘ক্রিয়েটিভ মিডিয়া’ নিয়ে কাজ করার স্বপ্ন দেখছে তা বাধাগ্রস্ত হবে।
একইভাবে ২ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪ শতাংশ উৎসে কর আদায় করা হবে আরও কিছু সেবাখাতে।
এর মধ্যে রয়েছে- ক্যাটারিং সেবা, জনসংযোগ সেবা, ইভেন্ট পরিচালনা, প্রশিক্ষণ ও কর্মশালা ইত্যাদি পরিচালনা, কুরিয়ার সার্ভিস, প্যাকিং ও শিফটিং, সংগ্রহ ও পুনরুদ্ধার এজেন্সি, প্রিন্টিং ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া এজেন্সি সেবা এবং একই প্রকৃতির অন্যান্য সেবার বিপরীতেও মোট বিলের ৪ শতাংশ উৎসে কর কাটার বিধান রাখা হয়েছে।
এর মধ্যে চলতি অর্থবছরে প্রিন্টিং ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া এজেন্সি সেবার বিপরীতে মোট বিলের দশমিক ৬৫ শতাংশ বা কমিশন বাবদ অর্থের ১০ শতাংশ হারে কর উৎসেই কাটার বিধান রয়েছে।
এখন কেবল মোট বিল হিসাব করা হবে এবং সেক্ষেত্রে ৪ শতাংশ হারে উৎসে কর কাটা হবে।
সরকার একদিকে সৃজনশীল অর্থনীতি বিকাশের কথা বলছে, তরুণ উদ্যোক্তা তৈরির কথা বলছে, রন্ধনশিল্পের বিকাশের কথা বলছে সৃজনশীল অর্থনীতির আওতায়, অন্যদিকে খাবার সরবরাহ ও ‘ক্রিয়েটিভ মিডিয়া’ সেবায় কর বাড়ানো মতো নীতি গ্রহণের বৈপরীত্য দেখা যাচ্ছে।