Published : 15 Jun 2026, 07:58 PM
বিরোধী সংসদ সদস্যদের তুমুল বিরোধিতার মধ্যে নতুন অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটে অর্থ বিভাগের জন্য ২৩ হাজার ৬৫৫ কোটি টাকার মঞ্জুরি দাবি জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে।
সোমবার অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী অর্থ বিভাগের জন্য এই অর্থ মঞ্জুরির দাবি সংসদে উত্থাপন করেন।
তার আগে এই মঞ্জুরি দাবি নিয়ে ব্যাংক খাতের ‘দুর্বলতা’, খেলাপি ঋণের ঊর্ধ্বগতি, বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ কমে যাওয়া এবং বাজেট ঘাটতি অর্থায়নের সক্ষমতা বিরোধী সংসদ সদস্যরা নানা প্রশ্ন তোলেন। কিন্তু তাদের সেই ছাটাই প্রস্তাব কণ্ঠভোটে নাকচ হয়ে গেলে মঞ্জুরি দাবিটি পাস হয়।
তাদের অভিযোগের জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “সরকারের অগ্রাধিকার অনুযায়ী ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণের আসল ও সুদ মওকুফ এবং এডিপিভুক্ত দুটি ও এডিপিবহির্ভূত চারটি প্রকল্পে প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান করায় এই অতিরিক্ত বরাদ্দ প্রয়োজন হয়েছে।
“অর্থ বিভাগের নিজস্ব ব্যয় মেটানোর জন্য এ অতিরিক্ত বরাদ্দ চাওয়া হয়নি। বাড়তি বরাদ্দের প্রস্তাবটি যৌক্তিক। এ কারণে ছাটাই প্রস্তাবগুলো গ্রহণ করা সম্ভব নয়।”
বিরোধী সংসদ সদস্যরা বলেন, খেলাপি ঋণ ও তারল্য সংকটের মধ্যে সরকার একদিকে ব্যাংক থেকে বড় অঙ্কের ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে, অন্যদিকে সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংকগুলোর জন্য সহায়তা তহবিল গঠন করছে। এতে আর্থিক খাতের ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে।
সম্পূরক বাজেটের নির্দিষ্টকরণ (সম্পূরক) বিল অনুযায়ী, অর্থ বিভাগের মোট সম্পূরক বরাদ্দ ২৮ হাজার ৬৫৫ কোটি ৫৪ লাখ ৫ হাজার টাকা। এর মধ্যে সংযুক্ত তহবিলের ওপর দায়যুক্ত ব্যয় ৫ হাজার কোটি টাকা এবং সংসদে ভোটে গৃহীত মঞ্জুরি ২৩ হাজার ৬৫৫ কোটি ৫৪ লাখ ৫ হাজার টাকা।
চলতি অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটে মোট ৫৬ হাজার ১১৭ কোটি ৫৯ লাখ ৪১ হাজার টাকার অতিরিক্ত বরাদ্দ অনুমোদন করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬ হাজার ১১১ কোটি ৭৭ লাখ ৫৬ হাজার টাকা দায়যুক্ত ব্যয় এবং ৫০ হাজার ৫ কোটি ৮১ লাখ ৮৫ হাজার টাকা সংসদে ভোটে গৃহীত মঞ্জুরি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ঢাকা-৪ আসনে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য সৈয়দ জয়নুল আবেদীন ব্যাংক খাত থেকে সরকারের প্রস্তাবিত ঋণ গ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, “ইসলামী ব্যাংকিং খাতের আমানত ও বিনিয়োগ পরিস্থিতি বিবেচনায় নিলে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে বিপুল অঙ্কের ঋণ সংগ্রহ কতটা সম্ভব, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। অর্থমন্ত্রী যে বাজেট উপস্থাপন করেছেন, সেখানে ব্যাংক থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এটা কীভাবে সম্ভব? এই টাকা কোথা থেকে আসবে?
“একদিকে সরকার ৪০ হাজার কোটি টাকার রেসকিউ ফান্ড গঠনের কথা বলছে, অন্যদিকে একই ব্যাংকিং খাত থেকে বিপুল ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে। তাহলে বিষয়টা এলোমেলো হয়ে গেল।”
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির কয়েকটি সূচক তুলে ধরে বলেন, গত ১৫ বছরে ব্যাংক খাতকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।
“যাদের দৃশ্যমান কোনো ব্যবসা নেই, তাদের ঋণ দেওয়া হয়েছে। পরিবারের হাতে একের পর এক ব্যাংক তুলে দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে সুদের হার ও ডলারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।”
তিনি ব্যাংক খাত ও বৈদেশিক ঋণনির্ভর অর্থায়নের সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
কুষ্টিয়া-২ আসনে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য আবদুল গফুর বলেন, “নির্ধারিত বরাদ্দের মধ্যে ব্যয় সীমাবদ্ধ রাখতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে। এই অতিরিক্ত চাহিদা প্রমাণ করে, সরকারি ব্যয়ে কোনো নিয়ন্ত্রণ ও মিতব্যয়িতা ছিল না।”
তার মতে, অর্থবছরের শুরু থেকেই ব্যয় ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা থাকলে অতিরিক্ত বরাদ্দের প্রয়োজন অনেকাংশে এড়ান যেত।
পরে রুমিন ফারহানা, শাহজাহান চৌধুরী ও মো. আবদুল গফুরের আনা ছাটাই প্রস্তাব কণ্ঠভোটে নাকচ হয়ে যায়।