Published : 24 Sep 2025, 11:37 PM
চট্টগ্রাম নগরীতে চলা যানবাহনের মধ্যে ৪৪ শতাংশই নির্ধারিত গতিসীমা মেনে চলে না বলে এক জরিপে উঠে এসেছে। আর গতিসীমা না মানা বাহনের মধ্যে ৭০ শতাংশই মোটরসাইকেল।
বুধবার নগরীর জিইসি মোড়ের একটি হোটেলে ‘রোড সেইফটি রিস্ক ফ্যাক্টরস ইন চিটাগং: স্ট্যাটাস সামারি রিপোর্ট ২০২৪’ শিরোনামের জরিপের ফল তুলে ধরা হয়।
‘ব্লুমবার্গ ফিলানথ্রপিস ইনিশিয়েটিভ ফর গ্লোবাল রোড সেইফটি’ (বিআইজিআরএস) কর্মসূচির আওতায় ‘জনস হপকিন্স ইন্টারন্যাশনাল ইনজুরি রিসার্চ ইউনিট’ (জেএইচ-আইআইআরইউ) এবং ‘সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন রিসার্চ বাংলাদেশ’ (সিআইপিআরবি) এর যৌথ উদ্যোগে জরিপ চালানো হয়।
২০২২ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৪ সালের নভেম্বর পর্যন্ত ছয় দফা পর্যবেক্ষণের সময় ৪ লাখ ৫৩ হাজারের বেশি যানবাহন পর্যবেক্ষণের কথা বলা হয় প্রতিবেদনে।
জরিপের ফল তুলে ধরে জেএইচ-আইআইআরইউ এর গবেষক শিরিন ওয়াধানিয়া বলেন, “চট্টগ্রাম সিটি রোড সেফটি রিপোর্ট ২০২১-২৩ অনুযায়ী নগরীতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের ৯২ শতাংশই ছিলেন ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক ব্যবহারকারী। যেমন- পথচারী, মোটরসাইকেল, থ্রি-হুইলার আরোহী।
“ডিসেম্বর ২০২২ থেকে নভেম্বর ২০২৪ পর্যন্ত বৈশ্বিক মানদণ্ড বিবেচনায় যানবাহনের গতি পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, নগরীর সড়কগুলোতে ৩৪ শতাংশ যানবাহনই নির্ধারিত গতিসীমা লঙ্ঘন করেছে। অন্যদিকে ‘লোকাল ও কালেকটর রোডে’ ৪৫ শতাংশ যানবাহন নির্ধারিত গতিসীমা অমান্য করেছে। তবে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) এর গতিসীমা নির্দেশিকা অনুসারে দেখা যায়, সকল ধরনের যানবাহন ও রাস্তা বিবেচনায় ৪৪ শতাংশ যানবাহন নির্ধারিত গতিসীমার চেয়ে বেশি গতিতে চলে।”
সিআইপিআরবির পরিচালক সেলিম মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ ২০২৪ সালের মে মাসে মোটরযানের গতিসীমা সংক্রান্ত নির্দেশিকা প্রকাশ করে। এতে হাইওয়ে ও এক্সপ্রেসওয়ের জন্য যানবাহনের সর্বোচ্চ গতিসীমা নির্ধারণ করা হয় ঘণ্টায় ৮০ কিমি। পাশাপাশি সড়ক ও যানবাহনের ধরন অনুযায়ী যানবাহনের গতিসীমা বাস্তবায়নের জন্য স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে কর্তৃত্ব দেওয়া হয়।”

শিরিন ওয়াধানিয়া বলেন, “যানবাহনের ধরন অনুযায়ী দেখা যায়, চট্টগ্রমা নগরীতে ৭০ শতাংশ মোটরসাইকেল নির্ধারিত গতিসীমা লঙ্ঘন করেছে। এছাড়া সপ্তাহের কর্ম দিবসের তুলনায় ছুটির দিনে গতিসীমা লঙ্ঘনের হার বেশি পাওয়া গেছে; কর্ম দিবসে ৪২ শতাংশ ও ছুটির দিনে ৪৭ শতাংশ।”
দুর্ঘটনা রোধে পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, “নগরীর সড়কগুলোকে নিরাপদ করার জন্য গতিসীমা নির্দেশিকা অনুসারে গতি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। এজন্য সড়কগুলোতে প্রয়োজন অনুসারে গতি নিয়ন্ত্রক, স্পিড সাইন ও যানবাহনের ধরন অনুসারে লেন নির্ধারণ করা জরুরি। পাশাপাশি পথচারীবান্ধব সড়ক নির্মাণের ওপর জোর দেন তিনি। সেই সাথে গতিসীমা বাস্তবায়নের জন্য চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশকে (সিএমপি) উদ্যোগ নিতে হবে।”
অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান বলেন, “একটি শহরের আয়তনের তুলনায় যে পরিমাণ সড়ক থাকা প্রয়োজন, চট্টগ্রামে তা নেই। তা ছাড়া বিভিন্ন বাস্তবিক কারণে সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে আমাদের পক্ষে সকল মানদণ্ড শতভাগ অনুসরণ করা সম্ভব হয় না।
সিআইপিআরবি’র রোড সেফটি প্রকল্পের ব্যবস্থাপক কাজী বোরহান উদ্দিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সিসিসির নির্বাহী প্রকৌশলী মাহমুদ শাফকাত আমিন। বিআরটিএ’র উপ-পরিচালক (প্রকৌশল) কে এম মাহাবুব কবির ও সিএমপির সহকারী পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক উত্তর) রুহুল আমিন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।