Published : 10 Nov 2025, 10:05 PM
সরকার, সিটি করপোরেশন, ঠিকাদার বা তৃতীয় কোনো পক্ষের অর্থায়নে নয়, নিজ খরচেই লন্ডনে যাচ্ছেন বলে দাবি করেছেন চট্টগ্রামের মেয়র শাহাদাত হোসেন।
৮ নভেম্বর কাতার এয়ারওয়েইজের একটি ফ্লাইটে ঢাকা থেকে রওনা দেন মেয়র শাহাদাত। বিমানে দোহা হয়ে লন্ডনে পৌঁছান রোববার।
রোববার বিকেলে শাহাদাত হোসেনের ফেসবুক পেইজে কয়েকটি ছবি দিয়ে একটি পোস্টে বলা হয়, লন্ডনে পৌঁছানোর পরে হিথ্রো বিমানবন্দরে যুক্তরাজ্য বিএনপির নেতাকর্মীরা তাকে ফুল দিয়ে বরণ করে নিয়েছেন।
লন্ডন সফর শেষে ২১ নভেম্বর তার ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে। তবে তিনি লন্ডন সফরে কী কী করবেন বা কাদের সাথে সাক্ষাত করবেন সে বিষয়ে শনিবার ও রোববারের বিবৃতিতে কিছু বলা হয়নি।
এদিকে মেয়র শাহাদাত লন্ডনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। গত জুলাই মাসে ২৫ দিনের জন্য কানাডা সফরে ছিলেন মেয়র।
কানাডা ও লন্ডন সফরের সময় তিনি কাকে দায়িত্ব দিয়ে গেছেন, নিজ খরচে নাকি সরকারি খরচে তিনি বিদেশ সফরে গেছেন এবং এই সফরে তিনি সরকারি বেতন-ভাতা পাবেন কিনা–এসব নিয়ে নানা আলোচনা চলতে থাকে।
এরপর রোববার বিকেলে এক বিবৃতিতে এসব বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন মেয়র শাহাদাত হোসেন।
সেখানে তিনি দাবি করেন, লন্ডন সফরের সম্পূর্ণ খরচ তিনি ব্যক্তিগতভাবে বহন করছেন। এর আগে মেয়রের কানাডার টরেন্টো সফরের খরচও ব্যক্তিগতভাবে বহন করেছেন।
“সরকার, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, ঠিকাদার বা তৃতীয় কোনো পক্ষ এই সফরের অর্থায়ন করছে না।”
বিবৃতিতে মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেন, শুক্রবার ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন দাপ্তরিক দায়িত্ব পালন করলেও সিটি করপোরেশনের গাড়ি অথবা জ্বালানি ব্যবহার করেন না। সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে তিনি ব্যক্তিগত গাড়ি এবং জ্বালানি ব্যবহার করেন।
“এ বিষয়ে কোনো ধরনের বিভ্রান্তি বা গুজবে কাউকে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানাই।”
বিবৃতির সঙ্গে মেয়র শাহাদাত স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-সচিব মো. ফিরোজ মাহমুদ স্বাক্ষরিত একটি অফিস আদেশ যুক্ত করে দিয়েছেন।
চলতি বছরের ৬ অক্টোবরের ওই অফিস আদেশে মেয়র শাহাদাত হোসেনের বিদেশ সফরের অনুমোদনের কথা আছে।
আদেশে বলা হয়, এই সফরের সময়ে মেয়র বাংলাদেশি মুদ্রায় নিয়মিত বেতন-ভাতা পাবেন, দেশে ফিরে তিনি সরকারকে অবহিত করবেন এবং সফরের সকল ব্যয় মেয়র শাহাদাত হোসেন নিজে নির্বাহ করবেন।
রোববার বিবৃতিতে মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেন, তার লন্ডন সফরকালে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রশাসনিক কার্যক্রমের তদারকি করবেন সচিব ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আমিন।
স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন ২০০৯ এর ২১ ধারায় বলা আছে- “অনুপস্থিতি বা অসুস্থতা হেতু বা অন্য কোন কারণে মেয়র দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হইলে তিনি পুনরায় স্বীয় দায়িত্ব পালনে সমর্থ না হওয়া পর্যন্ত এই আইনের ধারা ২০ অনুযায়ী জ্যেষ্ঠতার ক্রমানুসারে মেয়রের প্যানেলের কোন সদস্য মেয়রের সকল দায়িত্ব পালন করিবেন।”
গত বছরের ২৭ সেপ্টেম্বর দেশের ১২টি সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলরদের অপসারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করে স্থানীয় সরকার বিভাগ।
সে কারণে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে বর্তমানে কোনো কাউন্সিলর নেই।
এরআগে গত ৫ অগাস্ট প্রবল গণআন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার ১১ দিনের মাথায় ১৯ আগস্ট দেশের সব সিটি করপোরেশনের মেয়রদের অপসারণ করা হয়।
এরপর ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর চট্টগ্রামের নির্বাচনি ট্রাইব্যুনাল শাহাদাত হোসেনকে মেয়র ঘোষণা করে রায় দেয়। তার প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে সিসিসি নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলে মামলাটি করেছিলেন শাহাদাত।
পুরনো খবর
সিসিসির মেয়র ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার দ্বন্দ্ব: কারণ জানবে তদন্ত কমিটি
চট্টগ্রাম সিটির মেয়র হলেন বিএনপির শাহাদাত
ভোটের সাড়ে তিন বছর পর শাহাদাতকে চট্টগ্রামের মেয়র ঘোষণার রায়
মেয়রদের সরিয়ে ১২ সিটিতে প্রশাসক
এবার সিটি করপোরেশন-পৌরসভার কাউন্সিলরদের অপসারণ