চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার সেই ২৮ অজগর ছানার নতুন ঠিকানা সীতাকুণ্ড

প্রাকৃতিক পরিবেশে টিকে থাকার মত সক্ষম হয়ে ওঠার পর চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় কৃত্রিম উপায়ে ফোটানো ২৮টি অজগর ছানা পাহাড়ে অবমুক্ত করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম ব্যুরোবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 14 July 2021, 01:27 PM
Updated : 14 July 2021, 01:30 PM

বুধবার সীতাকুণ্ড ইকোপার্কের পাহাড়ি জঙ্গলে অজগর ছানাগুলো অবমুক্ত করে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ।

চিড়িয়াখানার খাঁচায় অজগরের দেওয়া ৩১টি ডিম থেকে গত ২২ জুন কৃত্রিম উপায়ে জন্ম নেয় ২৮টি ছানা। হাতে তৈরি ইনকিউবেটরে ৬৭ দিন সংরক্ষণ করার পর সেসব ডিম ফুটে অজগর ছানাগুলো বেরিয়ে আসে।

মুক্ত প্রাকৃতিক পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার মত উপযুক্ত হওয়ার অপেক্ষায় অজগর ছানাগুলোকে প্রায় এক মাস চিড়িয়াখানাতেই পরিচর্যা করা হয়। 

চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার ভারপ্রাপ্ত ডেপুটি কিউরেটর ও চিকিৎসক শাহাদাৎ হোসেন শুভ বলেন, “কৃত্রিম উপায়ে জন্ম নেওয়া এসব অজগর ছানার শেডিং (চামড়া বদল) এবং প্রথম খাওয়া দেওয়া পর্যন্ত আমরা অপেক্ষা করেছি।

চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় কৃত্রিম উপায়ে ফোটানো ২৮টি অজগর ছানা বুধবার সীতাকুণ্ড ইকোপার্কের পাহাড়ি জঙ্গলে ছেড়ে দেওয়া হয়। ছবি: সুমন বাবু

“এরপর জেলা প্রশাসক সেগুলো প্রাকৃতিক পরিবেশে ছেড়ে দেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন। অনুমতির পর স্থানীয় উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় ও সীতাকুণ্ড ইকো পার্কের ব্যবস্থাপনায় সেগুলো এখানে ছাড়া হয়েছে।”

চিকিৎসক শুভ জানান, অজগরের বাচ্চাগুলোর জন্য সীতাকুণ্ড ইকোপার্কের পরিবেশ একদম উপযুক্ত। পাহাড়, জঙ্গল ও ঝরনা আছে এখানে, সাপের জন্য পর্যাপ্ত খাবারও আছে।

চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় কৃত্রিম উপায়ে ফোটানো ২৮টি অজগর ছানা বুধবার সীতাকুণ্ড ইকোপার্কের পাহাড়ি জঙ্গলে ছেড়ে দেওয়া হয়। ছবি: সুমন বাবু

অবমুক্ত করা ২৮টি অজগর ছানার মধ্যে অধিকাংশই এ পরিবেশে টিকে থাকতে পারবে- এমন আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “চট্টগ্রামে যেসব অজগর সাপ উদ্ধার করা হচ্ছে, সেগুলোর বেশিরভাগই সীতাকুণ্ড থেকে। এখনও পর্যন্ত সীতাকুণ্ড অজগর সাপের জন্য ভালো জায়গা। এখানকার বনজঙ্গলগুলো সংরক্ষণ করা গেলে সাপের জন্য অনুকূল পরিবেশ পাওয়া যাবে।”

অজগরের দেওয়া ডিমগুলো খাঁচায় রেখে দিলে নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল বলে জানান চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার ভারপ্রাপ্ত ডেপুটি কিউরেটর। তাই ইনকিউবেটরে বিভিন্ন তাপমাত্রায় রেখে ডিমগুলো ফোটানো হয়।

এর আগে ২০১৯ সালে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় অজগর সাপের ৩৫টি ডিম ইনকিউবেটরে পরীক্ষামূলকভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছিল। সেখান থেকে ২৬টি ছানার জন্ম নেয়। সেগুলোও একইভাবে ছেড়ে দেওয়া হয়।

চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় কৃত্রিম উপায়ে ফোটানো ২৮টি অজগর ছানা বুধবার সীতাকুণ্ড ইকোপার্কের পাহাড়ি জঙ্গলে ছেড়ে দেওয়া হয়। ছবি: সুমন বাবু

চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা পরিচালনা পর্ষদের সচিব রুহুল আমিন জানান, প্রথমবার জন্ম নেওয়া অজগর ছানাগুলো প্রায় তিন মাস পর্যবেক্ষণে রেখে প্রাকৃতিক পরিবেশে ছাড়া হলেও এগুলো এক মাসের মধ্যে অবমুক্ত করা হয়েছে।

“চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা শুধু বিনোদন কেন্দ্র বা কোনো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান নয়। বন্য প্রাণী বিষয়ক শিক্ষা, প্রজনন ও সংরক্ষণের জন্যও কাজ করে যাচ্ছে। এ ধরনের কাজ আমরা আরও বেগবান করতে চাই।”

 
তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক