Published : 09 Jul 2026, 01:19 PM
চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও তিন পার্বত্য জেলায় ভূমিধসের বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
বুধবার রাতে এ সতর্কবার্তা জারি করে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
এতে বলা হয়, ভারতের উত্তর পশ্চিম মধ্য প্রদেশ ও আশপাশের এলাকায় অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপ ও উত্তর বঙ্গোপসাগরে সক্রিয় প্রবল মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার পর্যন্ত কক্সবাজার, বান্দরবান, চট্টগ্রাম, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলায় ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টি হতে পারে।
গাণিতিক মডেলের পূর্বাভাস অনুসারে, এ সময়ে পাঁচ জেলায় মোট ২০০ মিলিমিটার থেকে সর্বোচ্চ ৫০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি ঝরতে পারে।
সতর্কবার্তায় ভূমিধসের উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করা হয়েছে। সেগুলো হল- কক্সবাজারের টেকনাফ, উখিয়া ও কক্সবাজার সদর উপজেলা। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ৭ নম্বর পশ্চিম ষোলশহর, ৮ নম্বর শুলকবহর, ৯ নম্বর উত্তর পাহাড়তলি ও ১৪ নম্বর লালখান বাজার ওয়ার্ড এলাকা। বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি, লামা ও বান্দরবান সদর উপজেলা এবং রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলা।
জানতে চাইলে আবহাওয়া ও ভূপ্রাকৃতিক কেন্দ্র চট্টগ্রামের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রহমান খান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সপ্তাহের শুরুতে ভারি বৃষ্টি শুরু হওয়ার পর থেকেই ভূমিধসের সতর্কতা দেওয়া হচ্ছিল। গতকাল রাতে গাণিতিক মডেলের তথ্যের ভিত্তিতে ভূমিধসের বিশেষ সতকর্তা জারি করা হয়েছে।
“হয়তো এখন বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কম, তবে আরও বৃষ্টি হবে। গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে এসব এলাকার পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে আছে, তাই পাহাড়ধসের ঝুঁকি বেড়েছে।”
আবহাওয়া অফিসের পতেঙ্গা কেন্দ্রে সকাল ৯টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ১৭১ দশমিক ৬ মিলিমিটার এবং বেলা ১২টা পর্যন্ত ১৯২ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
অন্যদিকে নগরীর কেন্দ্র আমবাগান আবহাওয়া অফিসে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ৩৩৬ মিলিমিটার এবং বেলা ১২টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ২১৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে সাড়ে ৯টা থেকে ১২টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম নগরীতে বৃষ্টির পরিমাণ কিছুটা কম থাকলেও বেলা সাড়ে ১২টার দিকে আবার মুষলধারে বৃষ্টি ঝরতে থাকে।
এদিকে বুধবার গভীর রাত থেকে বৃহস্পতিবার ভোরের মধ্যে বান্দরবানের লামা উপজেলার আজিজনগর ইউনিয়নের মিশন পাড়ায় পাহাড় ধসের দুটি পৃথক ঘটনায় ৫ জন এবং কক্সবাজারের চকরিয়ার বড়ইতলী ইউনিয়নের মছনিয়া কাটা এলাকায় পাহাড় ধসে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে।