Published : 01 Jul 2026, 05:09 PM
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) এবং চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) বিদেশিদের ইজারা দিতে চাইলে ‘সারাদেশে প্রতিরোধ শুরু হবে’ হুঁশিয়ার করছে ‘বন্দর রক্ষা কমিটি, চট্টগ্রাম’।
বুধবার দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণে এ সংগঠনের এক সমাবেশে থেকে ‘দেশ ও জনগণের স্বার্থ বিবেচনা করে’ সিদ্ধান্ত নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বক্তারা।
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সভাপতি শাহ আলম সমাবেশে বলেন, “চট্টগ্রাম বন্দর বাংলাদেশের অস্তিত্বের বিষয়। বন্দর রক্ষা মানে বাংলাদেশ রক্ষা করা। এই বন্দর এসএসএ পোর্টকে দিতে চেয়েছিল আওয়ামী লীগের আমলে। তখনকার মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরী বন্দর রক্ষার পক্ষে ছিলেন।
“পরে আবার শেখ হাসিনা নুতন করে ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দিতে চেয়েছিল। শেখ হাসিনার সব কিছু ইউনূস সরকারের কাছে হারাম ছিল। কিন্তু এ প্রক্রিয়ার গতি তারা বাড়িয়ে দেয়। তখনকার নৌ পরিবহন উপদেষ্টাও বন্দর দিতে চেয়েছিলেন। গত জাতীয় নির্বাচনের তিন দিন আগে গোপন চুক্তি করে অন্তর্বর্তী সরকার। এটা এখন সরকারের গলার কাঁটা।
“এই গোলামি চুক্তির কারণে দেশ আমেরিকার গোলামে পরিণত হয়েছে। সংসদে সরকারি দল, বিরোধী দল বন্দর নিয়ে টু শব্দ করছে না। এরা কি দেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষা করছে?”
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উদ্দেশ করে শাহ আলম বলেন, “আপনি জনগণের ভোটে নির্বাচিত। জনগণের স্বার্থ রক্ষা করুন। তিনি (প্রধানমন্ত্রী) ক্ষমতা সংহত করতে পারছেন না এই গোলামি চুক্তির কারণে। প্রধানমন্ত্রী আপনি কম্প্রোমাইজ করবেন না। বন্দর আমাদের জাতির অস্তিত্ব। বন্দর দিতে চাইলে, সারাদেশে প্রতিরোধ শুরু হবে।”

কবি ও সাংবাদিক আবুল মোমেন বলেন, “বর্তমান বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় শক্তিধর রাষ্ট্রগুলো বাংলাদেশে নিজেদের প্রভাব বিস্তারে ক্রমেই সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এ অবস্থায় দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং জাতীয় অর্থনৈতিক নিরাপত্তা রক্ষায় জনগণকে ঐক্যবদ্ধ ও সচেতন থাকতে হবে।”
প্রকৌশলী সুভাষ বড়ুয়া বলেন, “এই বন্দর আমাদের; এটা কারো কাছে লিজ দেবার প্রয়োজন নেই। কাস্টমসের আমলাতান্ত্রিক জটিলতার জন্য সমস্যা হচ্ছে। সেগুলো সমাধান করা গেলে অনেক সক্ষমতা বাড়বে। বিদেশি অপারেটরের কোনো প্রয়োজন নেই।”
শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ) চট্টগ্রামের সভাপতি তপন দত্ত বলেন, “১৯৯৭ সালে বন্দর এসএসএ নামে একটি কোম্পানিকে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। সেটা দেশের মানুষ ও শ্রমিকরা বন্ধ করে দিয়েছিল। এখন আবার বন্দর দিয়ে দিতে হবে স্লোগান দিচ্ছে একটি পক্ষ। ৪০ বছর যেমন ঠেকিয়েছি; এবারও ঠেকাব। জান দেব, রক্ত দেব, বন্দর দেব না।”
বন্দর রক্ষা কমিটির সদস্য সচিব ফজলুল কবির মিন্টুর সঞ্চালনায় সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন কমিটির আহ্বায়ক দেলোয়ার মজুমদার।
আরো বক্তব্য দেন সিপিবি চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি অশোক সাহা, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার, বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি এস কে খোদা তোতন, স্কপ চট্টগ্রামের যুগ্ম আহ্বায়ক ইফতেখার কামাল খান, জাতীয়তাবাদী ডক শ্রমিকদলের সাধারণ সম্পাদক তসলিম হোসেন সেলিম, জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদল চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল বাতেন, প্রচার সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিকী, সহকারী সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান, শ্রমিক নেতা ইব্রাহীম ফরাজী, বাংলাদেশ যুব ইউনিয়ন চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সহসভাপতি রুপম কান্তি ধর।