Published : 17 May 2026, 05:36 PM
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় সন্ত্রাসীদের দীর্ঘদিনের ‘দুর্ভেদ্য সাম্রাজ্য’ জঙ্গল ছলিমপুরে সরকার পুলিশ ট্রেনিং একাডেমি নির্মাণের পরিকল্পনা করেছে বলে জানিয়েছেন নবনিযুক্ত পুলিশ সুপার মাসুদ আলম।
রোববার চট্টগ্রামের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি সরকারের এ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা জোনের ‘আলোচিত’ ডিসি মাসুদ আলম সম্প্রতি চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপারের দায়িত্ব পান। তার সঙ্গে সাংবাদিকদের মতবিনিময় সভায় প্রথমেই উঠে আসে ‘সন্ত্রাসের জনপথ’ হিসেবে কুখ্যাতি পাওয়া জঙ্গল ছলিমপুর ও রাউজান উপজেলার কথা।
মাসুদ আলম বলেন, “জঙ্গল ছলিমপুরে দুইটি পুলিশ একাডেমি বা ট্রেনিং সেন্টার করার পরিকল্পনা আছে সরকারের। সম্প্রতি পুলিশ সপ্তাহে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা বলেছেন।”
পুলিশ সুপার বলেন, চট্টগ্রাম জেলায় যোগদানের আগে থেকেই জঙ্গল ছলিমপুর নিয়ে বিভিন্ন কথা শুনেছেন।
“এখন সেখানে দুটো স্কুলে অস্থায়ী দুটো পুলিশ ক্যাম্প আছে। তাদের জন্য স্থায়ীভাবে বসবাসের জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে। পুলিশ ট্রেনিং একাডেমি হবে, অন্যান্য বাহিনীরও তৎপরতা থাকবে। সেক্ষেত্রে জঙ্গল ছলিমপুরের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে বেশি সময় লাগবে না।
জঙ্গল ছলিমপুরকে বলা হত রাষ্ট্রের ভেতর আলাদা আরেক রাষ্ট্র। দখলদারদের অনুমতি ছাড়া সেখানে কেউ প্রবেশ করতে সাহস করতেন না।
২০২২ সালে এই খাস জমি দখলমুক্ত করে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার, স্পোর্টস ভিলেজ, ক্রিকেট স্টেডিয়াম, আইকনিক মসজিদ, ইকো পার্কসহ বিভিন্ন স্থাপনা করার পরিকল্পনা নিয়েছিল আওয়ামী লীগ সরকার। কিন্তু উচ্ছেদ অভিযানে গিয়ে বারে বারে বাধার মুখে পড়ে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
গত ১৯ জানুয়ারি র্যাবের একটি দল কয়েকটি মাইক্রোবাসে করে সেখানে অভিযানে যায়। সেখানে ‘মাইকে ঘোষণা’ দিয়ে র্যাব সদস্যদের ঘিরে তিনজনকে আটকে ফেলে স্থানীয়রা। তাদের পিটুনিতে নিহত হন র্যাবের উপ-সহকারী পরিচালক নায়েক সুবেদার মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া।

এরপর গত ৯ মার্চ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তিন হাজার ১৮৩ জন সদস্যকে নিয়ে সেখানে অভিযানে যায় স্থানীয় প্রশাসন। তাদের মধ্যে সেনাবাহিনীর ৪৮৭, বিজিবি ১২২ জন, র্যাবের ৩৭১ জন সদস্য ছিলেন। তিনটি হেলিকপন্টার, ১৫টি এপিসি, ডগ স্কোয়াড, ১২টি ড্রোন ব্যবহার করা হয় অভিযানে।
জঙ্গল ছলিমপুর এলাকায় নিয়ন্ত্রেণে থাকা ইয়াছিনেকে সরিয়ে আরেকটি পক্ষকে এর নিয়ন্ত্রণ দিতে সেখানে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর এ অভিযান হয়েছে বলে সে সময় কথা উঠে।
সেই প্রসঙ্গ এলে চট্টগ্রামের এসপি মাসুদ আলম রোববারের আলোচনায় বলেন, “এখানে একটা কথা উঠে আসছে একটা পক্ষকে বিতাড়িত করে আরেকটি পক্ষকে ঢোকানো। এরকম কোনো ইনসেটনশন আমাদের নেই। এ জায়গাটি নিয়ে কেউ যেন বলতে না পারে সেটা রাষ্ট্রের ভেতর আরেকটা রাষ্ট্র। কেউ যেন সে এলাকাটা আইসোলেটেড করে রাখতে না পারে।”
রাউজান উপজেলা নিয়ে পুলিশ সুপার বলেন, “রাউজানের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে পুলিশ র্যাব, সেনাবাহিনী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কাজ করছে। অচিরেই দেখতে পাবেন সেখানে আমরা একটি বড় আকারে কাজ করব।”
গরুর হাট নিয়ে পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, চট্টগ্রাম জেলায় এবার ২৪৫টি হাটে কোরবানির পশু কেনাবেচা হবে। এর বাইরেও বিভিন্ন এলাকাভেদে কিছু হাট হবে। পশুর হাটে বড় টাকার লেনদেন হয়।
“কারো কাছে যদি বেশি পরিমাণ টাকা থাকে এবং সে টাকা বহনে কেউ যদি নিরাপত্তাপ শঙ্কাবোধ করেন, সেক্ষেত্রে আমাদের কেউ সহায়তা চাইলে তাকে পুলিশ এস্কট দেওয়া হবে।”
পুরানো খবর:
জঙ্গল ছলিমপুরে অভিযানের এক মাস: এখনও ভয়, উৎকণ্ঠা
জঙ্গল ছলিমপুর: অধরা 'নিয়ন্ত্রকরা' তবুও 'নিয়ন্ত্রণ' নিতে পারার স্বস্তি
জঙ্গল ছলিমপুর: আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর নজর রাখতে ‘টাওয়ার ও সিসি ক্যামেরা’
জঙ্গল ছলিমপুরে যৌথ বাহিনীর অভিযান শুরু