Published : 27 Apr 2026, 03:56 PM
টানা গরমের পর বন্দরনগরী চট্টগ্রামে স্বস্তির বৃষ্টি নেমেছে। তবে এই হালকা বৃষ্টিতেই নগরীর প্রবর্তক মোড় ও মুরাদপুর এলাকার সড়কে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।
চলতি বৈশাখ মাসে প্রথমবারের মত চট্টগ্রামে বৃষ্টি হয় রোববার রাতে। এরপর সোমবার সকালেও দমকা হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টি ঝরে।
বৈশাখের তীব্র গরমে গত সপ্তাহ দুয়েক ধরে জনজীবন ছিল অতিষ্ঠ। কাঙ্ক্ষিত এই বৃষ্টি স্বস্তি নিয়ে এলেও কয়েকটি স্থানে জলাবদ্ধতা ও সড়কে পানি জমে থাকায় তা অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
সোমবার সকালে নগরীতে টানা ঘণ্টাখানেক বৃষ্টি হয়। বেলা ১০টার পর আকাশ মেঘলা থাকলেও আর বৃষ্টি হয়নি। কিন্তু বেলা ২টা পর্যন্ত প্রবর্তক মোড় এলাকায় পানি জমে থাকতে দেখা যায়।
প্রবর্তক মোড়ের অদূরে বদনা শাহ মাজারের সামনের সড়কের দুই পাশেই পানি জমে যায়। পথচারী ও বিভিন্ন ধরনের যানবাহন সেই পানি ডিঙিয়েই চলাচল করে। সড়কের ওই অংশের পাশেই চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং একাধিক বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে।

লালখান বাজার এলাকা থেকে অসুস্থ আত্মীয়কে দেখতে চট্টগ্রাম মেডিকেলে যাচ্ছিলেন আজগর আলী। কিন্তু গোল পাহাড় মোড় পেরোতেই সড়কে জমে থাকা পানির কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েন তিনি।
আজগর আলী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “রাস্তায় পানি দেখে গাড়ি থেকে নেমে হাঁটতে শুরু করেছিলাম। কিন্তু হাঁটারও কোনো উপায় নেই, কারণ ফুটপাতেও পানি জমে গেছে। ময়লা পানির ভেতর দিয়েই হেঁটে পার হতে হল। এখানে মাসের পর মাস ধরে খালের কাজ চলছে। কবে কাজ শেষ হবে আর কবে পানি ওঠা বন্ধ হবে, কে জানে!”
রাস্তায় জমা পানি এড়িয়ে চলতে ওই অংশে অনেক পথচারীকে রোড ডিভাইডারের ওপর দিয়ে হেঁটে যেতে দেখা যায়। অদূরে প্রবর্তক মোড় অংশে গিয়ে দেখা যায়, হিজড়া খালের সেতু সংলগ্ন অংশ মাটি দিয়ে ভরাট করে যন্ত্রপাতি রেখে সংস্কার কাজ চলছে।
এদিকে সকাল ৯টার দিকে নগরীর মুরাদপুরের এন মোহাম্মদ এলাকাতেও মূল সড়কে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। শুরুতে পানি বেশি থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা কমতে থাকে।
মির্জারপুল এলাকার বাসিন্দা মো. পারভেজ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “মুরাদপুরের এই অংশে মাঝে বেশ কিছুদিন পানি ওঠেনি। এখন আবার কেন পানি উঠছে বুঝতে পারছি না। সকালে বাসা থেকে বের হয়ে মুরাদপুর এসে দেখি ময়লা পানিতে রাস্তা ভরে গেছে।”

অন্যদিকে নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী এলাকায় চা বোর্ডের কার্যালয়ের পাশের গলি এবং জামালখানের প্রচ্ছদ গলিতে সকালে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয় বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
পতেঙ্গা আবহাওয়া কার্যালয়ের পূর্বাভাস কর্মকর্তা ইসমাইল হোসেন ভূঁইয়া বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, বেলা ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসে ৯ দশমিক ৪ মিলিমিটার এবং আমবাগান আবহাওয়া অফিসে ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
“এখন কালবৈশাখীর মৌসুম, এ সময় বৃষ্টি হওয়াটা স্বাভাবিক। এভাবে আরও ৪-৫ দিন বিরতি দিয়ে বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা আছে। বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাত ও দমকা বাতাস বয়ে যেতে পারে। এছাড়া যেসব এলাকায় মেঘের ঘনঘটা আছে, সেখানে শিলাবৃষ্টিও হতে পারে।”
আসন্ন বর্ষা মৌসুম সামনে রেখে গত সপ্তাহ থেকে নগরীতে মাসব্যাপী নালা-খাল পরিষ্কারের কার্যক্রম শুরু করেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (সিসিসি)।
এর অংশ হিসেবে সোমবার সকাল থেকে নগরীর বান্ডেল খাল, বদরখালি খাল এবং বক্সিরহাট এলাকায় নালা পরিষ্কার কার্যক্রমে অংশ নেন সিটি মেয়র শাহাদাত হোসেন।
কার্যক্রম পরিদর্শনকালে মেয়র বলেন, “নগরীর বিভিন্ন স্থানে নালা-নর্দমা ময়লার স্তূপে পরিণত হয়েছে, যা জলাবদ্ধতার প্রধান কারণ। কিছু অসচেতন ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দা যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলে নালাগুলোকে কার্যত বর্জ্য ফেলার কেন্দ্রে পরিণত করেছেন।

“এ অবস্থা চলতে থাকলে কোনো উদ্যোগই টেকসই হবে না। জনগণকে সচেতন না করতে পারলে এই কর্মসূচি শতভাগ সফল করা সম্ভব নয়। এই শহর আমাদের সবার, এ শহরের প্রতি ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধ থাকতে হবে।”
নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে চলমান মেগা প্রকল্পের আওতায় ৩৬টি খাল সংস্কারের কাজ করছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)।
এই প্রকল্পের অধীনে বেশিরভাগ খালের কাজ সম্পন্ন হলেও নগরীর হিজড়া খাল ও জামালখান খালের সংস্কারকাজ এখনো চলছে।