Published : 16 Dec 2025, 10:16 PM
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস নিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) উপ উপাচার্যের বিতর্কিত মন্তব্যের প্রতিবাদে আঁকা ব্যঙ্গচিত্র কালো কালিতে মুছে ফেলা হয়েছে।
সোমবার প্রশাসনিক ভবনের সামনে গোলাম আযম ও উপ–উপাচার্য অধ্যাপক শামীম উদ্দিন খানের ব্যঙ্গচিত্র আঁকেন শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার সকালে ব্যঙ্গচিত্রগুলো কালো কালি দিয়ে মুছে ফেলা অবস্থায় দেখতে পান তারা।
প্রশাসনিক ভবনের সামনে সোমবার রাতে দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তা প্রহরী আবুল হাশেম বলেন, “আমি ভোর ৪টা পর্যন্ত প্রশাসনিক ভবনের সামনে ছিলাম। এরপর ঘুমাতে যাই। সকাল ৬টার দিকে এসে দেখি ব্যঙ্গচিত্রে কালি দেওয়া হয়েছে। কে বা কারা দিয়েছে, আমি দেখিনি।”
এ ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা চলছে।
সুমাইয়া সিকদার নামে এক শিক্ষার্থী ফেইসবুকে লেখেন, “গতকাল প্রতিবাদস্বরূপ রাজাকারের ক্যারিকেচার করা হয়েছিল প্রশাসনিক ভবনের সামনে। জানা কথা, এটি মুছে ফেলা হবে—সেটাই হয়েছে। সকাল হওয়ার আগেই মুছে দিয়েছে। এর দায় এখন প্রশাসনের।”
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২১–২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী বাঁধন সরকার বলেন, “অনেকে এটিকে নেতিবাচকভাবে দেখলেও আমার কাছে ব্যঙ্গচিত্রে কালো কালি দেওয়াকে রাজাকারদের মুখে চুনকালি মাখার মতোই মনে হচ্ছে।”
চাকসুর এজিএস ও ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আইয়ুবুর রহমান তৌফিক বলেন, “মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে যারা ধারণ করে না, যারা গোলাম আযমের আদর্শে বিশ্বাস করে, তারাই হয়ত এ ধরনের কাজ করেছে। কারো কোনো ছবি বা প্রতিকৃতি পছন্দ না হলে সে তার বিপরীতে আরেকটি আঁকতে পারে। কিন্তু এভাবে ছবি মুছে দেওয়া স্পষ্টতই বলপ্রয়োগের শামিল। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উচিত এ ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করা।”
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর নুরুল হামিদ কানন বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত নন।

বুদ্ধিজীবী দিবসে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যলয় প্রশাসন আয়োজিত ‘মুক্তচিন্তা, মুক্তিযুদ্ধ এবং একাত্তরের বুদ্ধিজীবী হত্যা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবীদের হত্যার বিষয়টি ‘অবান্তর’ বলে মন্তব্য করেন উপ-উপাচার্য (অ্যাকাডেমিক) অধ্যাপক মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান।
অধ্যাপক শামীম বলেন, “যে সময় পাকিস্তানি সৈন্যরা আমাদের দেশ থেকে পালানোর চেষ্টা করছে, সে সময় পাকিস্তানি বাহিনীর সদস্যরা বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করবে, আমি মনে করি এটি রীতিমত অবান্তর। কারণ, ওই সময় তারা তাদের জীবন শঙ্কায় ছিলেন।”
অধ্যাপক মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খানের এ বক্তব্য ‘ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করে’ রোববার রাতে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিল, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন।
এরপর সোমবার দুপুরে ‘সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের’ ব্যানারে শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনের সব ফটকে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে শামীম উদ্দিন খানকে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে পদত্যাগ করতে বলেন। বিজয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে রাত সাড়ে দশটায় ভবনের সব ফটকের তালা খুলে দেয়া হয়।
এদিকে মঙ্গলবার বিজয় দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত আলোচনা সভায় উপ-উপাচার্য (অ্যাকাডেমিক) অধ্যাপক মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খানের উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে হট্টগোল হয়।
একপর্যায়ে ছাত্রদল থেকে নির্বাচিত এজিএস আইয়ুবুর রহমান তৌফিক মঞ্চে উঠে অনুষ্ঠান বর্জনের ঘোষণা দেন।