Published : 05 Jan 2026, 11:03 PM
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের ১৬টি আসনে ৪১ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করেছে রিটার্নিং কর্মকর্তারা, যার মধ্যে ২৩টি মনোনয়নপত্র বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের।
মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দলীয় মনোনয়নপত্র যথাযথভাবে না দেওয়া, স্বাক্ষরে গরমিল, দ্বৈত নাগরিকত্ব ও ঋণখেলাপিকে এসব মনোনয়নপত্র বাতিলের কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে।
তবে মনোনয়নপত্র বাতিল ও বৈধ প্রার্থীদের বিরুদ্ধে সোমবার থেকে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনে আপিল করতে পারবেন সংক্ষুব্ধরা।
যে কারণে যারা বাদ পড়লেন
চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই): এ আসনে বিএনপি, জামায়াত, স্বতন্ত্রপ্রার্থীসহ ১০ জন তাদের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। বিএনপি দলীয় মনোনয়ন দিয়েছে উত্তর জেলা কমিটির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল আমিনকে।
তবে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক শহীদুল ইসলাম চৌধুরী ‘বিএনপির নামে’ মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। তিনি দলীয় মনোনয়নপত্র জমা দিতে না পারায় রিটার্নিং কর্মকর্তা তার মনোনয়নপত্র বাতিল করে দিয়েছেন।
জাতীয় পার্টির মোহা. এরশাদ উল্যারও মনোনয়ন বাতিল করা হয় দলীয় মনোনয়ন যথাযথভাবে না দেওয়ায়।
চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি): নির্বাচনি ব্যয় ফরম, ব্যক্তিগত সম্পদ বিবরণী ও হলফনামা দাখিল না করায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের এইচএম আশরাফ বিন ইয়াকুবের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। সমর্থনকারীর স্বাক্ষর না থাকায় বাতিল করা হয়েছে গণঅধিকার পরিষদের রবিউল হাসানের মনোনয়ন।
চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ): দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোহাম্মদ আমজাদ হোসেনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম-৫ (হাটাহাজারী উপজেলা ও নগরীর ১ ও ২ নম্বর ওয়ার্ড): দলীয় মনোনয়ন ‘সঠিক না থাকায়’ এ আসনে জাতীয় পার্টির একাংশের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া): সমর্থকের স্বাক্ষর, আয়কর সংক্রান্ত তথ্য ও ব্যক্তিগত অঙ্গীকার নামা না থাকায় এবি পার্টির মো. আবদুর রহমান, দলীয় মনোনয়নপত্র ‘সঠিক না থাকায়’ বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি- সিপিবির প্রমোদ বরণ বড়ুয়া এবং গণঅধিকার পরিষদের বেলাল উদ্দীনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে ‘সঠিক দলীয় মনোনয়ন প্রদান না করার’ পাশাপাশি নিজের অঙ্গীকার নামা না দেওয়ায়।”
চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী উপজেলা, চান্দগাঁও এবং বায়েজিদ ও পাঁচলাইশের আংশিক): এ আসনে জমা দেওয়া দলীয় মনোনয়নপত্রের নমুনা স্বাক্ষর ‘গ্রহণযোগ্য না হওয়ায়’ সিপিবি প্রার্থী মো. সেহাব উদ্দিনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী, বাকলিয়া): ‘দ্বৈত নাগরিত্ব ছাড়ার জন্য করা আবেদন গৃহীত হওয়ার কোনো কাগজ জমা না দেওয়ায় জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী একেএম ফজলুল হকের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।
জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) প্রার্থী আবদুল মোমেন চৌধুরীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে হলফনামায় স্বাক্ষর ও আয়কর রিটার্নের কাগপত্র জমা না দেওয়ায়। আর খেলাপি ঋণ, সিটি করপোরেশনের বকেয়া বিল এবং হলফনামার শিক্ষা সনদের মিল না থাকায় নাগরিক ঐক্যের নুরুল আবছার মজুমদারের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।
চট্টগ্রাম-১০: হলফনামায় স্বাক্ষর না থাকায় খেলাফত মজলিসের মো. আলী ওসমান, ভুল কোডে জামানতের টাকা জমা দেওয়ায় বাংলাদেশ লেবার পার্টির মো. ওসমান গণি, ফরম-১১ যথাযথ পূরণ না করায় জাতীয় পার্টির মুহাম্মদ এমদাদ হোসাইন চৌধুরীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।
চট্টগ্রাম- ১১ (বন্দর, পতেঙ্গা): মনোনয়নপত্রে প্রার্থীর নাম, আসন ও ভোটার নম্বর না লেখায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মো. নূর উদ্দিনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।
এছাড়া ঋণ খেলাপি হওয়ায় বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী একেএম আবু তাহের এবং সিটি করপোরেশনের পাওনা ৯৭ হাজার ১৭৫ টাকা পরিশোধ না করায় গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী মুহাম্মদ নেজাম উদ্দীনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া): ঋণখেলাপি হওয়ায় এলডিপি প্রার্থী সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। আর দলীয় মনোনয়ন ঠিক না থাকায় বাদ দেওয়া হয়েছে জাতীয় পার্টির সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর মনোনয়ন।
চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা): এ আসনে দলীয় মনোনয়ন ছাড়া বিএনপি প্রার্থী হিসেবে মনোনয়পত্র জমা দেওয়া এবং ‘নিজেই নিজের প্রস্তাবক’ হওয়ায় আলী আব্বাস এবং ঋণখেলাপি হওয়ায় গণঅধিকার পরিষদের মো. মুজিবুর রহমানের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী): হলফনামায় স্বাক্ষর না করায় গণঅধিকার পরিষদের মো. আরিফুল হকের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।
আরও পড়ুন-
দ্বৈত নাগরিকত্ব: চট্টগ্রাম-৯ আসনের জামায়াত প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল
সংসদ নির্বাচন: চট্টগ্রামের ১৮ স্বতন্ত্র প্রার্থীর ১৬ জনই বাদ