Published : 05 Jan 2026, 03:23 PM
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে চাওয়া ৮৯ শতাংশের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।
মনোনয়নপত্রের সঙ্গে এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরযুক্ত নথিতে গড়মিলের কারণে এসব মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে বলে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কার্যালয় জানিয়েছে।
চট্টগ্রামের ১৬টি আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন মোট ১৪৩ জন, তাদের মধ্যে ১৮ জন ছিলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী। বাতিল হওয়া মোট ৪১টি মনোনয়নপত্রের মধ্যে ১৬টিই স্বতন্ত্র প্রার্থীদের।
গত ১ থেকে ৪ জানুয়ারি চট্টগ্রামের তিন রিটার্নিং কর্মর্তার কার্যালয়ে প্রার্থী ও তাদের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে মনোনয়নপত্র যাচাই বাচাই হয়।
চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনের মধ্যে চট্টগ্রাম-৪, ৫ ও ৮ থেকে ১০ নম্বর সংসদীয় আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা বিভাগীয় কমিশনার। চট্টগ্রাম-১ থেকে ৩ ও ১২ থেকে ১৬ নম্বর আসনের দায়িত্বে আছেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও চট্টগ্রাম-১১ আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বে আছেন আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা।
চট্টগ্রামের অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাখাওয়াৎ হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মনোনয়নপত্রের সাথে নিজ এলাকার এক শতাংশ ভোটারের সমর্থনযুক্ত যে কাগজ জমা দিতে হয় সেখানে ভোটারদের স্বাক্ষর থাকতে হয়।
“জমা দেয়া তালিকায় কমিশন থেকে দ্বৈচয়নের ভিত্তিতে ১০ জনের নাম স্থানীয়ভাবে পাঠানো হয়। পরে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা সেগুলো যাচাই বাছাই করেন। এ ১০ জনের মধ্যে একজন ভোটার যদি ভুল পাওয়া যায় তাহলে সে মনোনয়ন ফরম বাতিল হয়ে যায়।”
চট্টগ্রাম-১ (মিরাসরাই উপজেলা) আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া ১০ জনের মধ্যে এক জন, চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) নয় জনের মধ্যে দুই জন, চট্টগ্রাম- ৩ (সন্দ্বীপ) পাঁচ চনের মধ্যে এক জন ছিলেন ছিলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী।
তাদের মধ্যে মিরসরাই ও ফটিকছড়ি আসনে তিন স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে ভোটার সমর্থনের তথ্যে গড়মিল পাওয়ার কারণে।
চট্টগ্রাম-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মোয়াহেদুল মাওলার মনোনয়ন বাতিল হয়েছে সমর্থনযুক্ত ভোটার তালিকার গড়মিলের পাশাপাশি ঋণ খেলাপী হওয়ার কারণে।
চট্টগ্রাম-৫ (হাটাহাজারি উপজেলা ও নগরীর ১ ও ২ নম্বর ওয়ার্ড) আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া ১০ জনের মধ্যে তিনজন ছিলেন স্বতন্ত্র।
বিএনপি থেকে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক উপ কোষাধ্যক্ষ এসএম ফজলুল হক ও সাবেক হুইপ ওয়াহিদুল আলমের মেয়ে ব্যারিস্টার সাকিলা ফারজানা স্বতন্ত্র হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। এছাড়া স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচন করতে চেয়েছিলেন মোহাম্মদ ইমাম উদ্দিন রিয়াদ নামে একজন ব্যক্তি। তাদের সবার মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।
রিটার্নিং কর্মর্তার কার্যালয় থেকে তাদের মনোনয়ন বাতিল হওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এক শতাংশ ভোটারের তথ্য দ্বৈবচয়নের ভিত্তিতে যাচাই বাছাই করে সঠিক প্রমাণিত হয়নি।
একইভাবে চট্টগ্রাম-৮, ৯ ও ১৬ নম্বর আসনে একজন করে এবং ১০ ও ১২ নম্বর আসনে দুইজন করে এবং চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ ও সাতকানিয়া আংশিক) আসনে তিন জন স্বতন্ত্র প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন।
তাদের মধ্যে চট্টগ্রাম-১৪ আসনে শফিকুল ইসলাম রাহী ও চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনে মোহাম্মদ লেয়াকত আলীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।
মনোনয়নপত্র বৈধ হওয়া দুই জনের মধ্যে রাহী চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি। আর লেয়াকত বাঁশখালীর গণ্ডামারা ইউনিয়ন পরিষদের তিন দফায় নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলেন। সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে তিনি ওই পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন।
অতিরিক্ত নির্বাচন কর্মকর্তা সাখাওয়াত বলেন, “স্বতন্ত্র প্রার্থীরা এক শতাংশ ভোটারের সমর্থনযুক্ত যে তালিকা জমা দিয়েছেন আমাদের মাঠ পর্যায়ের কর্মীরা যখন সেগুলো যাচাই বাছাই করতে গেছেন, দেখা গেছে তাদের অনেকেই সমর্থনের কোনো স্বাক্ষর বা টিপসই কিছুই দেননি।
“এমনকি তারা জানেনও না তাদের স্বাক্ষরসহ নাম জমা দেওয়া হয়েছে। সে কারণে এসব মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।”
মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্ত এবং বৈধ প্রার্থীদের বিরুদ্ধে সোমবার থেকে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনে আপিল করতে পারবেন সংক্ষুব্ধরা। ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি আপিল আবেদন নিষ্পত্তি করবে ইসি। ২০ জানুয়ারি প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময় শেষ হবে।
এরপর নির্ধারণ হবে চূড়ান্ত প্রার্থী। ভোটগ্রহণ হবে ১২ ফেব্রুয়ারি।