Published : 03 Jun 2026, 09:00 PM
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার গুলিয়াখালী এলাকায় সমুদ্রে গোসলে নেমে ভেসে যাওয়া চার পর্যটককে উদ্ধার করেছেন গ্রাম পুলিশের সদস্যরা।
গত সোমবার দুপুরের ওই ঘটনার একটি ভিডিও বুধবার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি জানাজানি হয়। তবে যাদের উদ্ধার করা হয়েছে তাদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
চার পর্যটককে উদ্ধারকারী গ্রাম পুলিশ সদস্যদের একজন নুরুল আমিন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সেদিন সৈকতের বিভিন্ন অংশে আমরা গ্রাম পুলিশের ৯ জন ডিউটিতে ছিলাম। সৈকতের খালের মুখ অংশে ২৩ মে একজন পর্যটক মারা যান। ওই খালের মুখের কাছেই ঘটনা।

“তখন জোয়ার আসছিল। আমরা দেখতে পাই, কিছু পর্যটক সাঁতার কাটছেন। সাঁতার কাটতে কাটতে তারা বিপদসীমার বাইরে চলে যান। তখন সাঁতরে তীরের দিকে আসার চেষ্টা করলেও তারা এগোতে পারছিলেন না। তখন সেখানে ছিলাম আমি ও আমার সহকর্মী সফর আলী। স্থানীয় একজন বোট মালিকের কাছ থেকে তার বোট নিয়ে আমরা সাগরে নামি।"
নুরুল আমিন বলেন, “প্রায় তিনশ মিটার এগিয়ে যাওয়ার পর ৪ জন পর্যটককে আমরা উদ্ধার করি। তাদের সবার বয়স ১৮-২০ বছরের মধ্যে। তবে তারা কোথা থেকে এসেছেন সেটা জানা হয়নি।”
ঘটনার আগেও পর্যটকদের সেই দলটিকে সাগরের ওই বিপজ্জনক অংশে না নামতে নিষেধ করেছিলেন দাবি করে তিনি বলেন, “শুরুতে যখন আমরা যাই, তখন বেশ কয়েকজনকে সেখানে সাঁতার কাটতে দেখেছিলাম। তাদের নিষেধ করে আমরা অন্য দিকে গিয়েছিলাম। ফিরে এসে দেখি চারজন অনেক দূরে সরে গেছে এবং হাবুডুবু খাচ্ছে।”

এদিকে সোমবার দুপুরের ওই ঘটনার পর সৈকতের যেসব অংশ ঝুঁকিপূর্ণ এবং জোয়ারের সময় সাঁতার কাটা বিপজ্জনক, সে জায়গাগুলোতে লাল পতাকা দিয়ে নির্দেশনা দিতে এবং সাইনবোর্ড লাগাতে ইউনিয়ন পরিষদের সচিবের মাধ্যমে ইউএনওর কাছে আবেদন করেছে গ্রাম পুলিশ।
পরে ইউএনওর সম্মতি পেয়ে মঙ্গলবার সৈকতে চারটি লাল পতাকা ও সর্তকীকরণ বার্তা লেখা দুটি সাইনবোর্ড বসানো হয়েছে বলে তথ্য দেন গ্রাম পুলিশের সদস্য নুরুল আমিন।
এর আগে গত ২৩ মে গুলিয়াখালী সৈকতে সাগরে নেমে ভেসে গিয়েছিলেন পর্যটক মোহাম্মদ রিফাত হোসেন। পরদিন তার লাশ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস।