Published : 18 Mar 2026, 04:14 PM
ঈদের ছুটিতে দর্শনার্থীদের জন্য চট্টগ্রাম নগরীর বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি।
ফয়’স লেক এলাকার চিড়িয়াখানা নগরীতে বিনোদনের অন্যতম কেন্দ্র। ঈদের ছুটিতে শিশুদের নিয়ে চিড়িয়াখানায় আসেন অভিভাবকরা।
এবার ঈদের ছুটির পাঁচ দিনে চিড়িয়াখানায় ৭০ হাজার দর্শনার্থীর সমাগম হতে পারে বলে কর্তৃপক্ষের ধারণা।
চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় আছে বেঙ্গল টাইগার ও সাদা বাঘ, কুমির, জলহস্তি, সিংহ, ভালুক, ক্যাঙ্গারু, জেব্রা, ওয়াইল্ডবিস্ট, ময়ূর, সজারু, নানা প্রজাতির সাপ ও দেশি-বিদেশি বিভিন্ন জাতের পাখি।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন পরিচালিত এই চিড়িয়াখানায় ৬২টি প্রজাতির মোট ৫২০ পশু-পাখি আছে।
চিড়িয়াখানার ডেপুটি কিউরেটর শাহাদাত হোসেন শুভ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ঈদের ছুটিতে লোক সমাগম হবে। সেজন্য পরিচ্ছন্নতার কাজ চলছে। আশা করছি এবার ৭০ হাজার লোক সমাগম হবে।”

তিনি বলেন, “চিড়িয়াখানার সীমানা বৃদ্ধির কাজ চলছে। সেই কাজ শেষ হলে আয়তন বেড়ে দ্বিগুণ হবে। তখন পশুপাখির সংখ্যা আরো বাড়ানো সম্ভব হবে। বর্ধিত কলেবরে যাত্রা শুরু করলে দর্শনার্থীর সংখ্যাও অনেক বাড়বে।”
চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় টিকেটের মূল্য জনপ্রতি ৭০টাকা।
শতবর্ষী ফয়’স লেক ঘিরে গড়ে উঠেছে অ্যামিউজমেন্ট পার্ক। হ্রদ, পাহাড় আর বনে ঘেরা বিনোদনকেন্দ্রটিতে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সঙ্গে আছে বিনোদনের নানা উপাদান।
ফয়’স লেক কমপ্লেক্সের পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান কনকর্ডের ব্যবস্থাপক (বিপণন) বিশ্বজিৎ ঘোষ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমাদের অ্যামিউজমেন্ট পার্ক, ওয়াটার পার্ক এবং বেইসক্যাম্পের পাশাপাশি দূর দূরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীদের থাকার জন্য আছে রিসোর্ট ও বাংলো।
“লম্বা ছুটির দিনগুলোতে পরিবার কিংবা বন্ধুরা মিলে সবুজ-প্রকৃতিময় স্বচ্ছ হ্রদের জলরাশি আর পাহাড় ঘেরা পরিবেশে সময় কাটানোর সব আয়োজন করা হয়েছে।”

অ্যামিউজমেন্ট পার্ক অংশে এবারের ঈদে থাকছে রাইড টর্নেডো ৩৬০ ডিগ্রি, এয়ারবোর্ন শট, ফ্লাইং বাস, স্কাই হুপার, হ্যাপি ক্যাঙ্গারু, সান-মুনসহ বাম্পার কার, ফ্যামিলি রোলার কোস্টার, পাইরেট শিপ, ফেইরিস হুইল, অ্যাপোলো ফ্লাইট, শিশু কিশোরদের জন্য হ্যাপি জাম্প, পনি অ্যাডভেঞ্চার, বেবি ড্রাগন, সার্কাস ট্রেন, কিডল টাওয়ার ও বাম্পার বোটস। নির্দিষ্ট সময় লেক ভ্রমণের জন্য রয়েছে ইঞ্জিন সংযোজিত নৌকা, প্যাডেল বোট ও কাওয়া কিং।
লেকের অপর প্রান্তে ‘সি ওয়ার্ল্ড ওয়াটার পার্ক’ এ ওয়াটার রাইডস এর মধ্যে আছে -ওয়েভ পুল, ফ্যামিলি পুল, মাল্টি স্লাইড, ডোম স্লাইড, ড্যানসিং জোন, চিলড্রেন জোন সহ নানা রকম রাইড। সি ওয়ার্ল্ড অংশেই লেকের পাড়ে আছে লেকভিউ রিসোর্ট।
এছাড়া বেইস ক্যাম্প এলাকায় আছে- আর্চারি, ক্লাইম্বিং ওয়াল ও ট্রি টপ অ্যাকটিভিটি। সেখানে সকালে বা শেষ বিকেলে দেখা মিলতে পারে বানরসহ বিভিন্ন প্রাণীর।
গত ডিসেম্বরে নগরীর আগ্রাবাদ এলাকায় চালু হওয়া ওয়ান্ডারল্যান্ড শিশু পার্কটিও ঈদে শিশু-কিশোরদের অন্যতম গন্তব্য হবে আশা করা হচ্ছে।
ঈদের ছুটিতে নগরীতে সবচেয়ে বেশি লোক সমাগম হয় পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে। চট্টগ্রাম নগরী ও জেলার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ সৈকতে সূর্যাস্ত দেখতে ভিড় করেন।

ট্যুরিস্ট পুলিশের পতেঙ্গা জোনের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. হাসান ইমাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, প্রতি বছর ঈদে পতেঙ্গাসহ চট্টগ্রামের অন্যান্য পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে অনেক লোক সমাগম হয়। পর্যটকরা যাতে নিরাপদে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পারেন সেজন্য আমাদের সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
“ঈদের আগের দিন থেকে পুরো ঈদের ছুটি পর্যন্ত এই ব্যবস্থাপনা থাকবে। পতেঙ্গায় আমাদের দলের পাশাপাশি স্থানীয় থানা, র্যাব, ডিএসবি এবং পুলিশ লাইনের দলও দায়িত্ব পালন করবে।”
পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে ট্যুরিস্ট পুলিশের হেল্প ডেস্কে যে কোনো প্রয়োজনে জানানোর আহ্বান জানিয়ে পুলিশ কর্মকর্তা মো. হাসান ইমাম বলেন, “সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে বা বেশি লোক সমাগমের দিনে কোনো কোনো শিশু হারিয়ে যায়। আমাদের জানালে আমরা তাদের খুঁজে দিই।

“ঈদের ছুটিতেও এ ধরনের কোনো সমস্যা বা যে কোনো সমস্যায় ভ্রমণকারীরা আমাদের হেল্প ডেস্কে যোগাযোগ করলে আমরা সবরকম সহযোগিতা করব।”
পতেঙ্গা সৈকতের পাশাপাশি নগরীর অন্য বিনোদন কেন্দ্রগুলোতেও ট্যুরিস্ট পুলিশের মোবাইল টিম কাজ করবে বলে জানিয়েছেন তিনি।