Published : 27 Sep 2025, 10:53 PM
বর্তমানে চালের দাম স্থিতিশীল আছে দাবি করে খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার বলেছেন, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ‘প্রভাব’ দেখা গেছে চালের বাজারে।
শনিবার চট্টগ্রামে এক মতবিনিময় সভা শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “বর্তমানে চালের দাম স্থিতিশীল আছে। এক পর্যায়ে চালের দাম বেড়েছিল, সেটা কমানোর জন্য সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি ৫০ লাখ থেকে বাড়িয়ে বর্তমানে ৫৫ লাখ পরিবারকে প্র্রতিমাসে ৩০ কেজি করে চাল দেওয়া হচ্ছে।
“আগে এই কর্মসূচি শুরু হতো সেপ্টেম্বর থেকে, (চলতো) পাঁচ মাস। এখন শুরু হয়েছে অগাস্ট থেকে, (চলবে) ছয় মাস। এটার মূল উদ্দেশ্যটা হচ্ছে এই মানুষগুলো তো বাজারে চাল কিনতে যাবে না। এতে বাজারে সরবরাহটা বাড়লো, এবং দামের উপর প্রভাব পড়বে। আমরা লক্ষ্য করছি সেই প্রভাবটা অলরেডি পড়েছে।”
তিনি বলেন, “দামটা আরো কমলে আমিও খুশি হতাম, আপনারাও খুশি হতেন। কিন্তু যারা চাল উৎপাদন করেন তাদের আক্ষেপ আছে, তারা ন্যায্য মূল্যটা পাচ্ছে না। সেদিকটাও আমাদেরকে দেখতে হবে।”
উদ্বৃত্ত চালের মজুদ থাকা সত্ত্বেও সিন্ডিকেটের কাছে বাজার জিম্মি কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে উপদেষ্টা আলী ইমাম বলেন, “অবৈধ মজুদ দুই প্রকার হতে পারে, একটা হচ্ছে যদি লাইসেন্স না থাকে, এটাকে ধরা আইনত দায়িত্ব। আরেকটা হচ্ছে লাইসেন্স আছে, কিন্তু তার কতটুকু মজুদ করার ক্ষমতা আছে সেটা নির্ধারণ করা আছে। এর বাইরে যদি মজুদ করে সেটা ধরাও দায়িত্ব।
“এ ধরনের বাজার অস্থিতিশীল করার জন্য কেউ যদি অবৈধভাবে মজুদ করে আমাদের জানাবেন, আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
বাজারে খাদ্য কিনতে মানুষের ৭০ শতাংশ টাকা ব্যয় হচ্ছে। এ বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, “প্রকৃতির সাথে উৎপাদনের একটা সম্পর্ক আছে। এবার দেখেন সবজির দাম বেশি, ৮০ টাকার নিচে কিছু নেই। এটার কারণ হচ্ছে এবারের বৃষ্টিটা কিন্তু অনিয়মিতভাবে হচ্ছে। বৃষ্টি হলে কিন্তু শীতকালীন সবজি সব নষ্ট হয়ে যায়।
“এরপরও এখানে প্রশাসনের লোকজন আছেন, তারা যাতে বাজার মনিটরিংটা সঠিকভাবে করা হয়, যাতে সিন্ডিকেট বা চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অজুহাতে দাম বাড়াতে না পারে সেদিকে নজর দিতে হবে।”
অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব ছেড়ে যাওয়ার আগে পর্যাপ্ত খাদ্য মজুদ রেখে যাওয়া হবে তুলে ধরে তিনি বলেন, আগামী ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের পর অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব ছেড়ে যাওয়ার আগে, সে সময়ে যে পরিমাণ খাদ্য মজুদ থাকা উচিত এর চেয়ে ‘বেশি ছাড়া কম রেখে যাবে না’।
১৬ লাখ টন চাল ও ১ লাখ টন গম মজুদ থাকার তথ্য দিয়ে আলী ইমাম বলেন, “গমবাহী একটি জাহাজ বর্তমানে কুতুবদিয়া বহিঃনোঙ্গরে খালাসের জন্য অপেক্ষমান আছে। আমেরিকা এবং রাশিয়া থেকে দুটি জাহাজ আসছে। আমেরিকা থেকে গম কেনার জন্য আরও চুক্তি করা হচ্ছে।”
সার্কিট হাউজের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত খাদ্য বান্ধব এবং ওএমএস কর্মসূচি বিষয়ক এই মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দিন।
সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার, আর বিশেষ অতিথি ছিলেন খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আবুল হাসনাত হুমায়ুন কবীর।