Published : 23 Jan 2026, 02:37 PM
চট্টগ্রামের জে এম সেন হল প্রাঙ্গণে একসঙ্গে ১৫টি প্রতিষ্ঠানের আয়োজনে চলছে বিদ্যাদেবী সরস্বতীর আরাধনা।
শুক্রবার সকাল থেকে মণ্ডপগুলোয় ভিড় করতে থাকেন বিভিন্ন বয়সি শিক্ষার্থীরা। এছাড়া সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ঘরে ঘরেও সরস্বতীর আবাহন দেখা গেছে।
উৎসবের আমেজে বিদ্যা ও সংগীতের দেবীর পূজা হয়েছে জানিয়ে চট্টগ্রাম মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নিখিল কুমার নাথ বলেন, নগরীতে এবার আনুমানিক দেড় হাজার মণ্ডপে সরস্বতী পূজার আয়োজন করা হয়েছে।

“এর মধ্যে চট্টগ্রামের জে এম সেন হল মাঠে একসঙ্গে ১৫টি মণ্ডপে পূজার আয়োজন করেছে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। নগরীতে সবচেয়ে বেশি দর্শনার্থীর ভিড় হয়েছে এখানেই।”
সকালে নগরীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা দলে দলে ভিড় করেন জে এম সেন হলে। সেখানে পূজা আয়োজন করে—চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক কলেজের সনাতনী শিক্ষার্থীবৃন্দ (নিশার নবদ্যুতি), সনাতনী চট্টগ্রাম (বিদ্যামঞ্জুশ্রী), বাংলাদেশ চাটার্ড অ্যাকাউন্ট্যাসি শিক্ষার্থী সংঘ, পোর্ট সিটি বাণী অর্চনা পরিষদ, আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (জ্যেতির্ময়ী), সাউদার্ন ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ, চট্টগ্রাম আইনজীবী বিজয়া সম্মিলন পরিষদ, চট্টগ্রাম আইন কলেজ, ওমরগণি এম ই এস কলেজ (পদ্মরাগে সারদা), বাংলাদেশ হিন্দু ছাত্র পরিষদ, ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটি, চট্টগ্রাম কর আইনজীবী সমিতি, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, চিটাগাং ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি এবং মাস্টারদা সূর্য সেন ক্লাব পূজার আয়োজন করেছে।

শতবর্ষী জে এম সেন হলের ভেিতর সূর্য সেন ক্লাবের মণ্ডপ সজ্জা সবার নজর কেড়েছে। সরোবরের মাঝখানে বিদ্যাদেবী ঠাঁই নিয়েছেন নিজের বাহন হংসকে নিয়ে। দেবীর হাতে বীণা। আশেপাশে শোভা পাচ্ছে ফুল। ঝরনার আদলে জল ঝরছে সরোবরে।
শিক্ষার্থী সমিত চৌধুরী বলেন, “প্রতি বছর এখানে পূজা দেখতে আসি। একসাথে এতগুলো মণ্ডপে পূজার আয়োজন চট্টগ্রামে আর কোথাও হয় না।
“গতবারের তুলনায় এবার পূজার সংখ্যা আরো বেড়েছে। এখানে এলে অনেক বন্ধুদের সাথেও দেখা হয়ে যায়।”

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ চট্টগ্রাম মহানগরের আয়োজনে সরস্বতী পূজা উপলক্ষে পিঠা উৎসব ও কম্বল বিতরণ অনুষ্ঠানে এসেছিলেন চট্টগ্রামের সিটি মেয়র শাহাদাত হোসেন।
তিনি বলেন, “শিক্ষা সবার মৌলিক অধিকার। রাষ্ট্র এটা নিশ্চিত করতে হবে। অনেকে অর্থের অভাবে শিক্ষার সুযোগ পায় না। এটা হতে পারে না।
“সবার জন্য একটি নিরাপদ নগরী গড়ার ঘোষণা আমি দিয়েছিলাম। আমাদের দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানও বলেছেন সবার জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ গড়বেন। আপনারা যদি কখনো অনিরাপদ মনে করেন, আমার দরজা সবসময় খোলা। আমরা অসাম্প্রদায়িক নিরাপদ বাংলাদেশের কথা বলেছি।”

বিকালে সাংস্কৃতিক আয়োজনের পুরস্কার বিতরণ ও বস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার হাসিব আজিজের।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, ভগবানের জ্ঞান ও বিদ্যার রূপ হলেন দেবী সরস্বতী। প্রতিবছর মাঘ মাসের শুক্লপক্ষের শ্রী পঞ্চমী তিথিতে বিদ্যাদেবীর পূজা হয়। হাতে বীণা থাকে বলে সরস্বতীকে বীণাপাণিও বলা হয়।
সাদা রাজহাঁস এ দেবীর বাহন। ঐতিহ্য অনুযায়ী, এদিন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা পুরোহিতের মন্ত্র পাঠের মধ্য দিয়ে বিদ্যাদেবীর মন্দিরে সন্তানদের প্রথম বিদ্যার পাঠের হাতেখড়ির আয়োজন করেন।
দেবী সরস্বতী ব্রহ্মস্বরূপা, পরমা, জ্যোতিরূপা ও সনাতনী। তিনি সর্ববিদ্যার অধিশ্বরী দেবী। বিদ্যার্থীরা জ্ঞান অর্জনের জন্য দেবীর আরাধান করে।
পূজা উদযাপন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নিখিল কুমার নাথ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সকাল থেকে বাণী অর্চনা, আরতি ও ভক্তদের পুষ্পাঞ্জলিতে পূজার আনুষ্ঠানিকতা পালন করা হয়েছে।

“এরপর শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে হয়েছে পিঠা উৎসব। তারপর অতিথিদের উপস্থিতিতে দরিদ্রদের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। সন্ধ্যায় হবে আরতি।”
জে এম সেন হল প্রাঙ্গণ ছাড়াও নগরীর রামকৃষ্ণ মিশন চট্টগ্রাম, চেরাগী পাহাড় মোড়, দেওয়ানজি পুকুর পাড়, ফিরিঙ্গি বাজার, পাথরঘাটা, জামালখান, আগ্রাবাদ গোসাইলডাঙ্গা, কাট্টলী, হালিশহর ও চকবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় মণ্ডপে মণ্ডপে বিদ্যাদেবীর আরাধনা চলছে।
বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নগরীর মণ্ডপগুলোতে ভিড় বাড়তে থাকে। শাড়ি ও পাঞ্জাবিতে সজ্জিত হয়ে শিশু-কিশোরসহ বিভিন্ন বয়সের দশনার্থীরা পূজা দেখছেন ঘুরে ঘুরে।