Published : 29 Jul 2025, 07:21 PM
চট্টগ্রামের রাউজানে বিএনপি নেতা গোলাম আকবর খোন্দকারের গাড়ি বহরে গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর অনুসারীদের হামলার পর দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়েছে।
মঙ্গলবার বিকালে উপজেলার সাত্তারঘাটা এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনায় গোলাম আকবর খোন্দকারসহ দুই পক্ষের অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন।
স্থানীয়রা জানান, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা গোলাম আকবর খোন্দকার বিকালে নেতাকর্মীদের নিয়ে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ও রাউজান উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদের কবর জিয়ারত করতে যাচ্ছিলেন। পথে তার গাড়ি বহরে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু হয়। আক্রমণকারীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে গাড়ি বহরে হামলা চালায়। পরে দুই পক্ষ ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। সংঘর্ষে গোলাম আকবর খন্দোকারের ব্যক্তিগত গাড়ি ভাঙচুর ও বেশকিছু মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়া হয়।
সংঘর্ষে তিনটি মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়া হয়েছে বলে চট্টগ্রাম বিভাগীয় ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ জানিয়েছে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিভিয়েছে।

গোলাম আকবরের ব্যক্তিগত সহকারী অর্জুন কুমার নাথ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা সুলতানপুরে প্রয়াত নেতা মহিউদ্দিন আহমেদের কবর জিয়ারতে যাচ্ছিলাম। সাত্তারঘাটা এলাকায় আমাদের ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে।
“হামলাকারীরা আগে থেকে ইটপাটকেল ও লাঠিসোঁটা নিয়ে অবস্থান নিয়েছিল। আমাদের গাড়িবহর মূল সড়ক দিয়ে যাওয়ার পথেই হামলা শুরু হয়। গুলিও ছোড়া হয়।”
হামলায় গোলাম আকবরসহ তাদের পক্ষের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হওয়ার কথা বলছেন অর্জুন।

ঘটনার পর গোলাম আকবর স্থানীয় সাংবাদিকদের বলেন, “গিয়াস উদ্দিন কাদের নির্দেশে এ অশুভ পরিকল্পনা হয়েছে। সকাল থেকে সাত্তারঘাটা থেকে সুলতানপুর পর্যন্ত এলাকাজুড়ে তাদের অবস্থান নেওয়ার খবর পেয়ে আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বলেছিলাম।"
তার অভিযোগ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের আশ্বস্ত করার পর তারা সেখানে গিয়েছিলেন এবং সাত্তারঘাটা সেতু পার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তার গাড়িতে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়।
হামলার অভিযোগের বিষয়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর মোবাইলে ফোনে ফোন করলে তিনি সংযোগ কেটে দেন।

বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হওয়ার কথা তুলে ধরে রাউজান থানার ওসি মনিরুল ইসলাম ভুঁইয়া বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।
‘হামলার শঙ্কার বিষয়টি পুলিশকে আগেই বলা হয়েছিল’- গোলাম আকবরের এমন বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি বলেন, “সকাল থেকে আমাদের টহল ও বিভিন্ন স্থানে অবস্থান ছিল। কিন্তু হামলাকারীদের সংখ্যা বেশি থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল। পরে অতিরিক্ত ফোর্স এনে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।”
গিয়াস উদ্দিন কাদেরের অনুসারীদের সঙ্গে গোলাম আকবর খোন্দকারের অনুসারীদের মধ্যে বিরোধ দীর্ঘদিনের। গত বছরের ৫ অগাস্ট সরকার পতনের পর দুই নেতার অনুসারীদের মধ্যে বেশ কয়েকবার সংঘর্ষ হয়েছে।