Published : 11 Jul 2026, 06:50 PM
চট্টগ্রাম বন্দরের পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালে (পিসিটি) এলসিএল কার্গো থেকে পণ্য খালাসে বিলম্ব ফি চার গুণ করা হয়েছে।
একাধিক আমদানিকারকের পণ্য মিলিয়ে একটি কনটেইনারে করে আনা হলে, তাকে এলসিএল (লেস দ্যান কনটেইনার লোড) কার্গো বলে। এক্ষেত্রে বন্দরের শেডে এসব পণ্য সংরক্ষণ করা হয়। আমদানিকারকরা পরে নিজেদের পণ্য খালাস করে নেন।
বন্দরের পিসিটি পরিচালনা করে সৌদি আরবের কোম্পানি রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল (আরএসজিটি)।
কোম্পানিটি বলেছে, বারবার তাগাদা দেওয়ার পরও অনেকে পণ্য নেয় না। এ অবস্থায় শেডের কার্যক্রমের গতি ঠিক রাখতে বাধ্য হয়ে চার্জ বাড়ানো হয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দরের শুল্ক বিধিমালা অনুসারে, নির্ধারিত ১০ দিনের পরও শেডে পণ্য থাকলে সেক্ষেত্রে সংরক্ষণ চার্জ প্রতিদিন প্রতি টনে ২৭২ টাকা পরিশোধ করতে হবে। আগে একই পণ্যের জন্য দৈনিক ৬৮ টাকা ভাড়া দিতে হত। ১ জুলাই থেকে নতুন চার্জ কার্যকর হবে।
আরএসজিটির বাংলাদেশের বাণিজ্যিক ও জনসংযোগ প্রধান সৈয়দ আরিফ সারোয়ার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এলসিএল কার্গো রাখতে হয় শেডের ভেতর। ২৫-৩০ শতাংশ আমদানিকারক নির্ধারিত সময়ের পর দেড় থেকে তিন মাস পর্যন্ত পণ্য শেডে রেখে দেন।
“এতে শেডে পণ্যের স্তুপ জমে যাচ্ছে। এলসিএল কনটেইনার খুলে পণ্য আমদানিকারকদের দিতে হয়। এভাবে পণ্য জমে থাকলে নতুন আসা রাখার জায়গা পাওয়া যাচ্ছে না। এতে বন্দরের কার্যক্রমের গতি ধীর হচ্ছে।”
অনেকে বন্দরের শেডকে ‘প্রাইভেট গোডাউনের মত’ ব্যবহার করছেন মন্তব্য করে সৈয়দ আরিফ সারোয়ার বলেন, “দৈনিক মাত্র ৬৮টাকা চার্জের কারণে কেউ কেউ পণ্য এখানেই রেখে দিচ্ছেন। এক মাস আগেও আমার নোটিশ দিয়েছি। বারবার তাগাদা দিয়েও কোন সুফল মিলছে না।”
বেশি শুল্ক আদায়ের উদ্দেশ্যে চার্জ বাড়ানো হয়নি দাবি করে তিনি বলেন, “এলসিএল কার্গো আমাদের টার্মিনালের মোট কার্গোর মাত্র ২ শতাংশের মত হবে। আয় বাড়ানো আমাদের উদ্দেশ্য নয়। উদ্দেশ্য হলো কর্মক্ষমতা ঠিক রাখা।”
পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালে এলসিএল কার্গোর চার্জ বৃদ্ধির বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম কাস্টমস এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. শওকত আলী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের শিডিউল ট্যারিফ রুলস অনুসারে নির্ধারিত সময়ের পরেও শেডে পণ্য রাখা হলে পেনাল্টি চার্জ করা যায়।
“কেউ কেউ দীর্ঘদিন ধরে শেডে পণ্য রেখে দিয়েছেন। এটা তাদের চাপ দেওয়ার জন্য করা হয়েছে।”
এই সিদ্ধান্তকে বন্দরের কার্যক্রম গতিশীল রাখতে ‘বৃহত্তর স্বার্থে’ ইতিবাচক বলে মন্তব্য করেন তিনি।
২২ বছরের চুক্তিতে ২০২৪ সালের এপ্রিলে পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল আরএসজিটি এর কাছে হস্তান্তর করা হয়। ২০২৪ সালের জুন থেকে প্রতিষ্ঠানটি পিসিটি পরিচালনা শুরু করে।
পিসিটির বার্ষিক কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা প্রায় ৪ লাখ ৫০ হাজার টিইইউস (প্রতিটি ২০ ফুট দৈর্ঘে্যর কনটেইনার একক হিসেবে)।
২০২৫ সালে পিসিটিতে ১ লাখ ৫৪ হাজার ৫৬৪ টিইইউস কনটেইনার হ্যান্ডলিং করা হয়। ওই বছর জাহাজ এসেছিল ৭৮টি। এর মধ্যে রপ্তানি কনটেইনার ছিল ৯৩ হাজার ৩৪০ টিইইউস এবং আমদানি কনটেইনার ৬১ হাজার ২২৪ টিইইউস।
পুরনো খবর