Published : 26 May 2026, 08:48 PM
ঈদুল আজহার দুই দিন আগে জমে উঠেছে চট্টগ্রামের কোরবানির পশুর হাটগুলো।
স্থানীয় যোগানের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পর্যাপ্ত গরু এসেছে। তবে বেচাকেনায় কিছুটা বাগড়া দিচ্ছে বৃষ্টি।
ঈদের বাকি আর দুই দিন। ইতোমধ্যে সরকারি ছুটি শুরু হয়ে গেছে। নগরীর বাসিন্দারা তাই মঙ্গলবার সকাল থেকেই হাটমুখী।
মঙ্গলবার বিকেলে নগরীর বাকলিয়া এলাকায় ‘কর্ণফুলী পশু বাজার’ (নূর নগর হাউজিং এস্টেট এর মাঠ) এ গিয়ে দেখা যায় প্রচুর ক্রেতা গরু কিনতে হাটে ভিড় করেছেন।
এ বাজারে ভোলা থেকে গরু নিয়ে আসা ব্যাপারী সাইফুল আলম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “তিনদিন আগে ৪০টা গরু নিয়ে আসছি। গতকাল পর্যন্ত পাঁচটা গরু বেচা হইছিল। আজকে কাস্টমার বেশি। আজকে ১০টা গরু বেচছি। লোকজন আসতেছে, গরুও কিনতেছে। আশা করি কালকে সকালের ভেতর সব বেচা হয়ে যাবে।”
তার কথার সত্যতা মিলল হাটের প্রবেশ পথে ২৫ মিনিট দাঁড়িয়ে। এই সময়ের মধ্যে অন্তত ২০টি গরু কিনে ক্রেতাদের ফিরতে দেখা গেল। ৮০ হাজার টাকা থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকায় এসব গরু বিক্রি হয়েছে।

নগরীর বহদ্দারহাট এলাকার বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন ছেলেদের নিয়ে গরু কিনতে এসেছিলেন কর্ণফুলী পশু বাজারে। ১ লাখ ৮০ হাজার টাকায় একটি পাকড়া জাতের গরু কিনে খুশি মনেই বাসায় ফিরেছেন তিনি।
মোরশেদ আলম নামের আরেক ক্রেতা তিন ভাইয়ের সঙ্গে এই বাজারে এসেছিলেন দুপুরে। বিকেল ৫টার দিকে তিন লাখ ৬০ হাজার টাকায় একটি লাল রঙের ষাড় কেনেন তারা।
মোরশেদ বলেন, “বাজারে আজ অনেক গরু। আরো গরু আসছে। হাতে আছে দুই দিন। ব্যাপারীরাও গরু এখন ছেড়ে দিচ্ছেন। যে দামে আজ গরু কিনেছি তাতে আমরা খুশি।”
এই হাটের অন্যতম আকর্ষণ দুটি গোলাপী রঙের অ্যালবিনো মহিষ। হাটে ঢোকার পরই দক্ষিণ পাশে মহিষ দুটি রাখা। ব্যতিক্রমী এই মহিষ জোড়া দেখতে ভিড় করছেন হাটে আসা লোকজন। আর মহিষ ঘিরে স্থানীয় শিশুদের ভিড় লেগেই আছে।
চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার লেলাং এলাকা থেকে গোলাপী মহিষ দুটি বাজারে নিয়ে এসেছেন মো. নুরুল আলম। মহিষ দুটির দাম সাড়ে ১১লাখ টাকা চাইছেন তিনি। তবে এখনো কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় মহিষ দুটি বিক্রি হয়নি।

কর্ণফুলী পশু বাজারে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে গরু নিয়ে ব্যাপারীরা এসেছেন। তাদের মধ্যে একজন চাঁপাইনবাবগঞ্জের মোহাম্মদ রফিক।
তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা দুই ভাই ২৫টা গরু নিয়ে আসছিলাম। আর দুইটা গরু আছে। একটা বড় গরু আরেকটা ছোট গরু বাকি আছে। বড় গরুটা একজন দরদাম করছেন। উনার সাথে বনিবনা হলে বিক্রি করে ফেলব। এই দুইটা বিক্রি হয়ে গেলে আজই বাড়ির দিকে রওনা দেব।”
হাটে ক্রেতা-বিক্রেতার দরদাম উত্তাপ ছড়ালেও সকাল থেকে থেমে থেমে বৃষ্টি বিপত্তিতে ফেলছে। বৃষ্টির কারণে হাটের বিভিন্ন অংশ কর্দমাক্ত হয়ে গেছে।

এই অস্থায়ী হাটের ইজাদার মো. ইব্রাহিম সওদাগর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “গত কয়েকদিন তেমন বিক্রি হয়নি। আজ বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু বৃষ্টির কারণে সমস্যা হচ্ছে। হাটে প্রচুর গরু আছে। বিভিন্ন জায়গা থেকে আরো গরু আসছে।”
চট্টগ্রাম নগরীতে এবার তিনটি স্থায়ী ও সাতটি অস্থায়ী পশুর হাট বসেছে।

জানতে চাইলে চট্টগ্রামের জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আলমগীর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “হাটগুলো ঘুরে দেখেছি, জমজমাট বেচাকেনা চলছে। প্রতিটি হাটে পশুকে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়ার জন্য আমাদের মেডিকেল টিম কাজ করছে।”
এখন পর্যন্ত চট্টগ্রামের বাজারগুলোতে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ৫০ হাজার গরু এসেছে বলে তথ্য দেন তিনি।

বৃষ্টি হওয়ায় ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “এবার ক্ষুরা রোগের প্রভাব আছে আগে থেকেই। বৃষ্টির কারণে ক্ষুরা রোগ বাড়তে পারে। তাই সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।”
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, এবারের ঈদে চট্টগ্রাম জেলায় ৮ লাখ ১৮ হাজার ৬৭১টি কোরবানির পশুর চাহিদা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর কোরবানিযোগ্য পশু আছে ৭ লাখ ৮৩ হাজার ১৫১টি।