Published : 25 Sep 2025, 03:38 PM
বৃহস্পতিবার চাকসুর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের ২৬টি পদের বিপরীতে নির্বাচন করবেন ৪১৫ জন। আর ১৫টি হল ও একটি হোস্টেল সংসদের বিভিন্ন পদে ৪৯৩ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা অনুযায়ী, চাকসুর ভিপি পদে ২৪ জন, জিএস পদে ২২ এবং এজিএস পদে ২১ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
চাকসু নির্বাচন কমিশনের সদস্য সচিব অধ্যাপক এ কে এম আরিফুল হক সিদ্দিকী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “যাচাই-বাছাই, আপিল নিষ্পত্তি এবং প্রত্যাহার শেষে চাকসু নির্বাচনে ৪১৪ জন অংশগ্রহণ করবেন। আজ (বৃহস্পতিবার) থেকে প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিক প্রচারণা চালাতে পারবেন।”
প্রধান তিনটি পদ ছাড়া অন্যান্য পদের মধ্যে খেলাধুলা ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক পদে ১২ জন, সহ খেলাধুলা ও ক্রীড়া বিষয়ক সাম্পাদক পদে ১৪, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে ১৭, সহ সাহিত্য, সংস্কৃতি ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে ১৫, দপ্তর সম্পাদক পদে ১৭, সহ দপ্তর সম্পাদক পদে ১৪, ছাত্রীদের জন্য বরাদ্দ দুইটি পদের একটি ছাত্রী কল্যাণ সম্পাদক পদে ১৩, সহ ছাত্রী কল্যাণ সম্পাদক পদে ১০, বিজ্ঞান ও তথ্য প্রযুক্তি সম্পাদক পদে ১১, গবেষণা ও উদ্ভাবন সম্পাদক পদে ১২, সমাজসেবা ও পরিবেশ সম্পাদক পদে ২০, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক পদে ১৫, মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন বিষয়ক সম্পাদক পদে ১৭ জন করে, ক্যারিয়ার ডেভলপমেন্ট ও আন্তর্জাতিক সম্পাদক পদে ১৬, যোগাযোগ ও আবাসন সম্পাদক পদে ১৭ জন, সহ যোগাযোগ ও আবাসন সম্পাদক পদে ১৪ জন, আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক পদে ৯, পাঠাগার ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক পদে ২০ জন প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নেবেন।
এছাড়া পাঁচটি নির্বাহী সদস্য ৮৫ জনের চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন।
দীর্ঘ ৩৫ বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া চাকসু নির্বাচনে ৫২৯ জন মনোনয়ন সংগ্রহ করেছিলেন। তাদের মধ্যে ৪২৯ জন প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন।
নির্বাচন কমিশন প্রাথমিক যাচাই বাছাই শেষে গত ২২ সেপ্টেম্বর ৪১০ জনের খসড়া তালিকা প্রকাশ করে। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বাদ পড়া ১৯ জনের মধ্যে কয়েকজন প্রার্থিতা ফেরত পান। আর মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনে বুধবার বিভিন্ন পদে ১১ জন তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন।
সরকার দলীয় ছাত্র সংগঠনবিহীন এ নির্বাচনে ছাত্রদল স্বনামে এবং ইসলামী ছাত্রশিবির 'সম্প্রীতির শিক্ষার্থী জোট' নামে প্যানেল দিয়েছে।
'দ্রোহ পর্ষদ' নামে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, 'সচেতন শিক্ষার্থী সংসদ’ নামে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন, বিভিন্ন বাম ছাত্র সংগঠন ও পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ সম্মিলিত ভাবে ‘বৈচিত্র্যের ঐক্যসহ’ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনগুলো প্রায় ১২টি প্যানেল ঘোষণা করেছে।
হল সংসদ
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নয়টি ছাত্র, পাঁচটি ছাত্রী এবং একটি হোস্টেল সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন ৪৯৩ জন।
এরমধ্যে সোহরাওয়ার্দী হলে সর্বোচ্চ ৫৩ জন প্রার্থী হয়েছেন। এ হল সংসদের ১১টি সম্পাদকীয় পদের বিপরীতে ৪৪ জন করে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
এর মধ্যে ভিপি পদে চারজন, জিএস এবং এজিএস পদে পাঁচজন করে লড়বেন। এছাড়া তিনটি নির্বাহী সদস্য পদের বিপরীতে প্রার্থী হয়েছেন ৯ জন।
অন্যান্য ছাত্র হলগুলোর মধ্যে স্যার এফ রহমান হলে ৩৮ জন, আলাওল হলে ৩২ জন, অতীশ দীপঙ্কর হলে ৩৭ জন, শাহ আমানত হলে ৪৩ জন, শহীদ ফরহাদ হোসেন হলে ৪৫ জন, মাস্টার দা সূর্য সেন হলে ৩৭ জন, শহীদ আবদুর রব হলে ৩১ জন এবং শাহজালাল হলে ৩৪ জন প্রার্থী হয়েছেন।
ছাত্রী হলগুলোর মধ্যে অনেক পদে একক প্রার্থী রয়েছেন। নওয়াব ফয়েজুন্নেসা হলে ১৪টি পদের বিপরীতে প্রার্থী আছেন ১৭ জন। ১৪টি পদের মধ্যে ভিপিসহ ১১টি পদে একক প্রার্থী। আর জিএস, এজিএস এবং স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক পদে দুই জন করে প্রার্থী আছেন।
এ হলে আদিবাসী এবং বাঙালী বড়ুয়া সম্প্রদায়ের ছাত্রীরা মিলে ‘হৃদ্যতার বন্ধন’ নামে একটি পূর্ণাঙ্গ প্যানেল দিয়েছেন।
শামসুন নাহার হলে ১৪ পদের বিপরীতে প্রার্থী আছেন ২২ জন। তার মধ্যে নির্বাহী সদস্যের তিনটি পদের বিপরীতে প্রার্থী হয়েছেন তিন জন। যোগাযোগ ও আবাসন সম্পাদক, সমাজসেবা ও পরিবেশ সম্পাদক, রিডিং রুম, ডাইনিং ও হল লাইব্রেরী সম্পাদক, দপ্তর সম্পাদক পদে প্রার্থী একজন করে।
আর খেলাধুলা ও ক্রীড়া সম্পাদক পদে কোনো প্রার্থী নেই। এ হলে ভিপি, জিএস, সাহিত্য সংস্কৃতি এবং প্রকাশনা সম্পাদক পদে তিন জন করে প্রার্থী রয়েছেন।
ছাত্রীদের হলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৩০ জন প্রার্থী হয়েছেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া হলে। সেখানেও সমাজসেবা ও পরিবেশ সম্পাদক পদে প্রার্থী কেবল একজন।
এছাড়া বিজয়-২৪ হলে ২৮ জন, প্রীতিলতা হলে ২৬ জন করে প্রার্থী হয়েছেন।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় চারুকলা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ শিল্পী রশিদ চৌধুরী হোস্টেলে আটটি সম্পাদকীয় পদ এবং দুটি নির্বাহী সদস্য পদের বিপরীতে প্রার্থী হয়েছেন ২০ জন। তবে নির্বাহী সদস্যের দুটি পদের বিপরীতে শুধু দুইজন প্রার্থী।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় হল সংসদে ২২ প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বী নেই