Published : 29 Dec 2025, 04:52 PM
চট্টগ্রামের পুরাতন সার্কিট হাউজের ১১২ বছর বয়সী জিয়া স্মৃতি জাদুঘর ভবনের কয়েকটি স্থানে ভূমিকম্পের পর ফাটল দেখা দিয়েছে।
২ ডিসেম্বরের ভূমিকম্পে এই ফাটল সৃষ্টি হয় এবং কয়েকটি স্থানে পলেস্তারার কিছু অংশ খসে পড়ে। এরপর জাদুঘরটি দর্শনার্থীদের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়।
মঙ্গলবার সকালে জিয়া স্মৃতি জাদুঘর ঘুরে দেখেন সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেন। তিনি ভবনে ফাটল হওয়ার বিষয়ে সংবাদমাধ্যমে কথা বলেন।
জিয়া স্মৃতি জাদুঘরের প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তা অর্পিতা দাশ পুপ্তা এসময় জানান, জাদুঘরের নিচতলার তিন নম্বর গ্যালারি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি সিঁড়ির উপর খসে পড়া পলেস্তারা ও দেয়ালে হওয়া ফাটল মেয়রকে দেখান।
সার্কিট হাউজ ঘুরে দেখার পর মেয়র বলেন, “এটা ১১৩ বছরের পুরনো ভবন। এখানে বেশ কয়েকটা ফাটল দেখা দিয়েছে। আমরা এখন দেখলাম। আমি ইতোমধ্যে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের উর্ধতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছি।
“উনারা বুয়েট থেকে ইঞ্জিনিয়ার পাঠিয়ে কীভাবে এটাকে মজবুত ও টেকসই রাখা যায়, সেটা চিন্তাভাবনা করছেন। এ ব্যাপারে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়সহ অন্যান্য যেসব মন্ত্রণালয় ও সরকারি সংস্থা আছে, সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাই।”
মেয়র বলেন, “এটা সংরক্ষণ করার দায়িত্ব আমাদের সবার। এজন্য সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়, জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক ও চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনসহ সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানাই। আশা করি, অনতিবিলম্বে এটার কাজ শুরু হবে।”

জানতে চাইলে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক তানজিম ইবনে ওয়াহাব বিডিনিউজ টোঢেন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "জিয়া স্মৃতি জাদুঘরের এই ভবনে কয়েক দিন আগে ভূমিকম্পের কারণে ফাটল ধরে। এরপর থেকে দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে আমরা জাদুঘরটি বন্ধ রেখেছি।
"আমরা বুয়েটের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে যোগাযোগ করছি। উনারা এলে অতি দ্রুত মেরামত করে জাদুঘরটি আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়া হবে।"
জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক তানজিম ইবনে ওয়াহাব বলেন, "এই ভবনের নিরাপত্তা ও সার্বিক উন্নয়ন একটা বিষয়। আরেকটা বিষয় হলো নতুন আঙ্গিকে কিউরেশন। জাদুঘরের কনটেন্ট ও ডিসপ্লে আরো শক্তিশালী করা হবে।
"আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিষয়টি দেখছি। বুয়েটের বিশেষজ্ঞ দল আসার পর যতটুকু সংস্কার, তা দ্রুত সেরে ফেলব।"
চলতি বছরের ১৯ মে পরিদর্শন শেষে চট্টগ্রামে এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী 'জিয়া স্মৃতি জাদুঘর' ঘিরে পরিকল্পনা জানিয়ে বলেছিলেন, “জিয়া স্মৃতি জাদুঘর গত ১৬ বছর প্রায় নিষ্ক্রিয় ছিল। মন্ত্রণালয়ে তিন মাস আগে এক সভায় এর বাজেট বরাদ্দ দ্বিগুণ করা হয়েছে। আজ পরিদর্শন করেছি। শুধু বরাদ্দ বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ না। এটা পূর্ণাঙ্গ মিউজিয়ামে রূপান্তর করা হবে। এজন্য প্রয়োজন প্রপার কিউরেটর।”

জিয়া স্মৃতি জাদুঘরের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুসারে, ব্রিটিশ আমলে ১৯১৩ সালে ভবনটি নির্মাণ করা হয়। ইংরেজ গর্ভনরের বাসভবন হিসেবে তখন এটি ব্যবহৃত হত। নাম ছিল ‘লাল সাহেবের কুঠি’। পাকিস্তান আমলে ভবনটি চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজ হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
১৯৮১ সালের ৩ জুন সেসময়ের মন্ত্রিসভা চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজকে ‘জিয়া স্মৃতি জাদুঘরে’ রূপান্তরের সিদ্ধান্ত নেয়।
১৯৯৩ সালের ৯ জানুয়ারি চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ভবনটি বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করে। সংস্কার ও উন্নয়ন কাজের জন্য তখন ভবনটির দায়িত্ব গণপূর্ত অধিদপ্তরকে দেয় জাদুঘর কর্তৃপক্ষ।
বর্তমানে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে জাতীয় জাদুঘর কর্তৃপক্ষ এটি পরিচালনা করে। এখানে ৯০২টি স্মারক সংরক্ষিত আছে।
এই স্মারক জাদুঘরটিতে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতি এবং ব্যক্তিগত জিনিসপত্র ও মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন নিদর্শন রয়েছে। এটি ১২টি গ্যালারি নিয়ে ১৯৯৩ সালে যাত্রা শুরু করে।
১৯৯৩ সালের ৬ সেপ্টেম্বর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ‘জিয়া স্মৃতি জাদুঘর’ উদ্বোধন করেন। ৩ দশমিক ১৭ একর জায়গা নিয়ে জিয়া স্মৃতি জাদুঘরটির অবস্থান।
৫-১০ বছরের করণীয় ঠিক করা হচ্ছে: সংস্কৃতি উপদেষ্টা
চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজের মাঠে 'গ্রিন পার্ক' করতে চান মেয়র শাহাদাত