Published : 23 Jul 2026, 12:15 AM
দেশের কোনো পেট্রোল পাম্পে জ্বালানি তেলের সংকট নেই দাবি করে প্রয়োজনের অতিরিক্ত না কিনতে ক্রেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন পাম্প মালিকরা।
পাম্প মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম কাবুল বলেন, “বাংলাদেশের সকল পেট্রোল পাম্পে পর্যাপ্ত তেল মজুদ আছে, তেলের কোন সংকট নাই।”
বুধবার সংগঠনের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কোনো গুজবে কান না দিয়ে স্বাভাবিকভাবে প্রয়োজন অনুযায়ী তেল কেনার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অপ্রয়োজনীয়ভাবে তেল কিনলে সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে। এতে বিরূপ পরিস্থিতি বা কৃত্রিম সংকট তৈরির আশঙ্কা রয়েছে।
ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বা ভীতি থেকে গত ফেব্রুয়ারি থেকে সারা দেশে হঠাৎ তেল সংকট শুরু হয়। পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইনে রাতভর-দিনভর দাঁড়িয়ে তেল সংগ্রহ করতে হয় মানুষকে।
সরকার সরবরাহ বাড়িয়ে ফুয়েল পাস, অ্যাপ ইত্যাদি চালু করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করে। ভবিষ্যতে বেশি দামে বিক্রি করার আশায় কৃত্রিম সংকট তৈরি করারও অভিযোগ ওঠে।
সরকার তেলের দাম বাড়ানোর পর সেই সমস্যা কাটলেও এখন রাজধানীর সিএনজি ফিলিং স্টেশনতে গাড়ির লম্বা লাইন পড়ছে।
বুধবার সচিবালয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলন করে দেশে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই বলে জানিয়েছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ।
জ্বালানি বিভাগের মুখপাত্র ও যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী জানান, দেশে বর্তমানে ৩ লাখ ৪৪ হাজার টন ডিজেল মজুদ রয়েছে। এই মজুদ দিয়ে ৩১ দিনের চাহিদা পূরণ করা যাবে।
সরকারি হিসাবে দেশে ৩৬ দিনের অকটেন, ২০ দিনের পেট্রোল, ২৫ দিনের ফার্নেস অয়েল ও ২০ দিনের জেট ফুয়েল মজুদ রয়েছে।
বর্তমান ডিজেল মজুদ স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বেশি এবং জুলাই ও অগাস্টে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহের জন্য তা যথেষ্ট বলে দাবি করেছে জ্বালানি বিভাগ।
অগাস্টে আরও দুই লাখ ৪০ হাজার টন ডিজেল দেশে আসার কথা রয়েছে তুলে ধরে জ্বালানি বিভাগ বলেছে, আমদানি করা তেলের একটি অংশ পরিবহন ও খালাসের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
জ্বালানি তেলের মজুদ সক্ষমতা পর্যায়ক্রমে ৬০ দিনে এবং দীর্ঘ মেয়াদে ৯০ দিনে উন্নীত করার পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের।
জ্বালানি তেলের সংকটের গুজব এমন সময়ে ছড়িয়েছে, যখন দেশের একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বা এফএসআরইউতে কারিগরি সমস্যার কারণে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৪৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমে গেছে।
এতে শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র, আবাসিক গ্রাহক ও সিএনজি স্টেশনে গ্যাসের চাপ কমেছে। প্রয়োজনীয় পরিমাণ গ্যাস নিতে না পারায় কোনো কোনো সিএনজি স্টেশনে যানবাহনের দীর্ঘ সারিও তৈরি হয়েছে।
তবে এই সংকট গ্যাস সরবরাহে সীমাবদ্ধ এবং ডিজেল, পেট্রোল বা অকটেন সরবরাহের সঙ্গে এর সরাসরি সম্পর্ক নেই বলেছে জ্বালানি বিভাগ।
দেশে গ্যাসের দৈনিক চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। দেশি গ্যাস ও আমদানি করা এলএনজি মিলিয়ে দৈনিক ২৭০ থেকে ২৮০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে।
এর মধ্যে এলএনজি টার্মিনালে কারিগরি সমস্যার কারণে সরবরাহ আরও ৪৫ কোটি ঘনফুট কমে যাওয়ায় বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস সংকট তীব্র হয়েছে।
কারিগরি ত্রুটি মেরামত করে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও বিশেষজ্ঞরা কাজ করছেন।