ইরানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ অভিযানের সময় মার্কিন নৌবাহিনীর বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের ফ্লাইট ডেক থেকে একটি ই-২ডি হকআই নজরদারি বিমান উড্ডয়ন করছে। ছবি: রয়টার্স
Published : 19 Sep 2026, 02:35 PM
ইরানের সঙ্গে গেল ছয় মাসের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে আসলে কত খরচ করতে হয়েছে?
শুক্রবার মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন যে হিসাব কংগ্রেসকে জানিয়েছে, তার সঙ্গে তিন দিন আগে কংগ্রেসনাল বাজেট অফিসের (সিবিও) পূর্বাভাসের কতটা মিল আছে?
পেন্টাগন ৪৫ দশমিক ১ বিলিয়ন বা ৪ হাজার ৫১০ কোটি ডলারের হিসাব দিয়েছে কংগ্রেসকে।
বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুটি সূত্রের বরাত দিয়ে সিএনএন লিখেছে, ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যুদ্ধের ব্যয় ছিল ৪৩ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার। এর সঙ্গে অতিরিক্ত জ্বালানির জন্য আরও ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে।
তবে ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর যে যুদ্ধ শুরু হয়েছে পশ্চিম এশিয়ায় সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের খরচের এ হিসাব তাদের মোট ব্যয়ের পূর্ণ চিত্র নয় বলছে সিএনএন।
ট্রাম্প প্রশাসন যখন এই সংঘাত অবসানের ও গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি খোলার রাস্তা খুঁজছে তখন পেন্টাগন মার্কিন কংগ্রেসকে খরচের এ হিসাব তুলে ধরেছে
সিএনএন একটি সূত্রের বরাত দিয়ে বলেছে, যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত ঘাঁটি ও ভবন মেরামতের ব্যয় এতে ধরা হয়নি। পাশাপাশি সামরিক অভিযানের পরোক্ষ ব্যয়ের বিস্তারিত হিসাবও কংগ্রেসকে দেওয়া হয়নি, যদিও আইনপ্রণেতারা তা চেয়েছিলেন।
পেন্টাগনের ৪ হাজার ৫১০ কোটি ডলারের এ হিসাব কংগ্রেসনাল বাজেট অফিসের (সিবিও) পূর্বাভাসকেও ছাড়িয়ে গেছে।
এর আগে মঙ্গলবার সিবিও জানিয়েছিল, ১ আগস্ট পর্যন্ত ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় হয়েছে ৩ হাজার ৮০০ কোটি ডলার। এর আগে জুলাইয়ে পেন্টাগন যুদ্ধের ব্যয় ৩ হাজার ৭৫০ কোটি ডলার বলে জানিয়েছিল।
বাজেট অফিসও যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত যুক্তরাষ্ট্রের স্থাপনাগুলো মেরামতের ব্যয় তাদের হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করেনি। তাদের হিসাবে মোট ব্যয়ের বড় অংশই গেছে অস্ত্র ও গোলাবারুদ কেনায়।
সিবিও জানিয়েছে, ১ আগস্টের পরও যুদ্ধ চলতে থাকলে প্রতি মাসে যুক্তরাষ্ট্রের আরও প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ কোটি ডলার ব্যয় হতে পারে। লড়াই তীব্র হলে এ ব্যয় আরও বাড়তে পারে।
বাজেট অফিস কংগ্রেসকে আরও জানিয়েছে, ২০২৭ সালের প্রথম প্রান্তিকে যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে। এমন এক সময়ে এ বাড়তি ব্যয়ের চাপ তৈরি হচ্ছে, যখন দেশটির অর্থনীতি নিয়ে মার্কিনদের উদ্বেগও বাড়ছে।
আগের খবর: