Published : 10 Oct 2025, 10:48 PM
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচনে ইসলামী ছাত্র শিবির ও ছাত্রদল আচরণবিধি লঙ্ঘনের পরস্পরবিরোধী অভিযোগ তুললেও ভোটের সার্বিক পরিবেশ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন দুই প্যানেলের দুই ভিপি প্রার্থী।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সঙ্গে আলাপে ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের ভিপি প্রার্থী সাজ্জাত হোসেন হৃদয় ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্রার্থী ইব্রাহীম রনি এ পরিবেশ ধরে রাখার আহ্বানও জানিয়েছেন।
হৃদয় বলেছেন, এখন পর্যন্ত ভোটের পরিবেশ তার কাছে ‘সন্তোষজনক’ মনে হয়েছে। তবে কিছু বিষয়ে ‘আশঙ্কা’ আছে।
ছাত্রশিবিরের প্রার্থী রনি বলছেন, পরিবেশ ঠিক আছে, তবে কিছু বিষয়ে অস্পষ্টতা আছে।
ইব্রাহীম রনি বলছেন, “ভোট গণনা পদ্ধতি, বুথের পোলিং এজেন্ট, হলগুলোতে প্রজেকশন মিটিং— এসব জায়গায় প্রশাসনকে আরও বেশি স্পষ্ট হতে হবে । প্রার্থীরা কী চাচ্ছেন, তাদের মতকে প্রাধান্য দিয়েই প্রশাসনের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে।”
দুই-একটি জায়গায় অসঙ্গতি থাকার অভিযোগ তুলে রনি বলেন, আচরণবিধি বা অন্যান্য ক্ষেত্রে যেগুলো সীমা লঙ্ঘনের দিকে চলে যাচ্ছে বলে মনে হয়েছে, সেসব বিষয়ে তারা নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছেন।
“আমরা মনে করি, নির্বাচন কমিশনসহ সবাই মিলে যথাযথ ব্যবস্থা নিলে সবাই আচরণবিধির মধ্যে থাকবেন।”
নির্বাচনে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নেই—ছাত্রদলের এমন অভিযোগ নিয়েও কথা বলেন রনি।
তিনি বলেন, “আমরা মনে হয়, যে সংগঠন বা প্যানেল ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ দেখবে না, তাদের নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ জানানো উচিত। অসঙ্গতিপূর্ণ মনে হলে আমরাও অভিযোগ জানিয়েছি।”
কমিশনকে সব প্রার্থীর জন্য ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আপনি যদি সমতা করতে না পারেন, তাহলে একটা ‘পক্ষপাতী’ নির্বাচন হবে। নির্বাচনের মাধ্যমে যোগ্য প্রতিনিধি উঠে আসবে না। যোগ্য প্রতিনিধি উঠে আসার জন্য ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ বা সবার জন্য সমতা কায়েম করতে হবে।”
ইব্রাহীম রনির ভাষ্য, সবাই নিজেদের মত করে কাজ করছে। দু-একটি অভিযোগের বাইরে আর কোনো ঘটনা তার কানে আসেনি।

১৯৬৬ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর চাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে ছয় বার। আগামী ১৫ অক্টোবর সপ্তম চাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে সর্বশেষ নির্বাচন হয় ১৯৯০ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি।
ছাত্রদল ওই নির্বাচনে জাসদ ছাত্রলীগ, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টসহ ১২টি ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে জোট করে ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে ‘সর্বদলীয় ছাত্রঐক্য’ প্যানেলের মাধ্যমে নির্বাচন করে। সেখানে সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্য জয় পায় পূর্ণ প্যানেলে।
এবারের চাকসু নির্বাচনে ২৬ পদের বিপরীতে অংশ নিচ্ছেন ৪১৫ জন প্রার্থী। শিবির-ছাত্রদল ছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো ১২টি প্যানেল ঘোষণা করেছে। আছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীও। এরই মধ্যে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগও উঠেছে নানা পক্ষের তরফে।
বুধবার ইসলামী ছাত্র শিবিরের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে ‘আচরণবিধি লঙ্ঘনের’ অভিযোগ জানায় ছাত্রদল।
তাদের লিখিত অভিযোগে বলা হয়, “তরুয়া ভবনের (নতুন কলা ভবন) ৩২৩ নম্বর কক্ষে গিয়ে ছাত্রশিবির সমর্থিত ভিপি প্রার্থী ইব্রাহীম রনি প্রচার চালিয়েছেন, যা আচরণবিধির স্পষ্ট লঙ্ঘন।”
বিভিন্ন হল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পর্ষদের ছাত্র প্রতিনিধিদের বেশিরভাগই ছাত্র শিবিরের নেতা কর্মী এবং তাদের অনেকেই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাল আল নোমান।
নোমান বলেন, নির্বাচনে তারা 'লেবেল প্লেয়িং ফিল্ড’ দেখছেন না; প্রশাসন একটি গোষ্ঠীকে ‘প্রশ্রয়’ দিচ্ছে।
সংগঠনের পক্ষ থেকে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ না থাকার অভিযোগ থাকলেও ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের ভিপি প্রার্থী সাজ্জাত হোসেন হৃদয় বলছেন, “ভোটের পরিবেশ ‘সন্তোষজনক’।
“তবে আমাদের আশঙ্কা আছে। নির্বাচন কমিশন কতটুকু সুষ্ঠু এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করবে। তবুও নির্বাচন কমিশন ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসের ওপর আমরা আশা রাখতে চাই, দীর্ঘ ৩৬ বছর পর যে চাকসু নির্বাচন হচ্ছে, সেটা যেন গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠে।”
শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটা উদ্বেগ কাজ করছে মন্তব্য করে হৃদয় বলেন, “জুলাই আন্দোলনের পর আশা করেছিলাম, গণতান্ত্রিক দেশ পাব। সেখানে ঢাকসু এবং জাকসু নির্বাচনে বিভিন্ন অনিয়ম কারচুপির অভিযোগ এসেছে। সেক্ষেত্রে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝেও একটা আশঙ্কা আছে—কতটুকু নির্বাচনি পরিবেশ সম্ভব; তবুও আমরা আশাবাদী।
আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ জানানোর পরও কমিশন ব্যবস্থা নিচ্ছে না অভিযোগ তোলেন এ ভিপি প্রার্থী।
তিনি বলেন, “অভিযোগ জানানোর পরও আমরা দেখেছি, বিভিন্ন প্যানেলের প্রার্থীরা আচরণবিধি লঙ্ঘন করছেন। তারা কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি।
“এর আগে মেয়েদের হলে ছাত্রী সংস্থা ‘ফাস্ট এইড’ বক্স সহায়তা দিয়েছিল, যা স্পষ্ট আচরণবিধি লঙ্ঘন। তখনও আমরা নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছিলাম। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য, কিন্তু কোনো কার্যকর ব্যবস্থা আমরা দেখিনি।”