ডেঙ্গু: চট্টগ্রামে ৯ দিনে আট মৃত্যু, অর্ধেক শিশু

জ্বর হলে ব্যথানাশক বা অ্যান্টিবায়োটিক না খেয়ে পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দিয়েছে জেলার স্বাস্থ্য বিভাগ।

চট্টগ্রাম ব্যুরোবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 11 Nov 2022, 06:21 AM
Updated : 11 Nov 2022, 06:21 AM

নভেম্বরের প্রথম নয় দিনেই চট্টগ্রাম জেলায় ডেঙ্গুতে ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে চারজনই শিশু। এই সময়ে জেলায় ৭০১ জন নতুন রোগী ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে গেছেন।

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় জানিয়েছে, এইডিস মশাবাহিত এই রোগে আক্রান্ত হয়ে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১০৬ জন, যা জেলায় এ বছরের সর্বোচ্চ। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত চট্টগ্রামের বিভিন্ন হাসপাতালে ১৩৪ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি ছিলেন।

সিভিল সার্জন ডা. মো. ইলিয়াছ চৌধুরী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ডেঙ্গু আক্রান্তের হার কমেনি। দৈনিক ৭০-৮০ জন নতুন করে আক্রান্ত হচ্ছেন।”

বুধবার এ জেলায় ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয় দুইজনের। তাদের একজনের বয়স ৮৫ বছরের বেশি, অন্যজন ছয় বছরের শিশু। মঙ্গলবার মা ও শিশু হাসপাতালে ৭ বছরের একটি শিশুর মৃত্যু হয়।

তার আগে ৬ নভেম্বর দুইজন ডেঙ্গুতে মারা যান। ২ থেকে ৫ নভেম্বর পর্যন্ত তিনদিন জেলায় একজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে, যাদের দুইজন ছিল শিশু।

আগের মাস অক্টোবরে ডেঙ্গুতে ১০ জনের মৃত্যু হয়, শনাক্ত হয় ১ হাজার ৮৬১ জন নতুন রোগী।

চলতি বছরে চট্টগ্রামে ডেঙ্গুতে মারা গেছেন ২৩ জন, যাদের মধ্যে নয়জন শিশু, আটজন নারী এবং পুরুষ ৬ জন। তাদের মধ্যে চারজনের বয়স ষাটের বেশি ছিল।

ডেঙ্গুতে মৃত্যু বাড়ছে কেন প্রশ্ন করলে সিভিল সার্জন ইলিয়াছ চৌধুরী সম্ভাব্য তিনটি কারণ দেখিয়ে বলেন, “ম্যাল ট্রিটমেন্ট, ওভার ট্রিটমেন্ট এবং লেট ট্রিটমেন্ট- এই তিন কারণে মৃত্যু বাড়ছে।“

জ্বর হলে পরীক্ষার পরামর্শ দিয়ে এই চিকিৎসক বলেন, “শুরুতেই টেস্ট করানো উচিত। পরীক্ষা না করে অনেকে ব্যথানাশক ও এন্টিবায়োটিক খাওয়া শুরু করছে। ফলে আক্রান্তরা দেরিতে হাসপাতালে আসছেন। এতে চিকিৎসার সুযোগ সঙ্কুচিত হয়ে যায়।”

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেসের (বিআইটিআইডি) সহযোগী অধ্যাপক মো. মামুনুর রশীদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ রক্তের প্লাজমা (তরল অংশ) রক্তনালী থেকে কোষে চলে আসা। এতে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ যেমন কিডনি ও হৃদযন্ত্রে রক্ত প্রবাহ কমে যায়।

“ফলে রেনাল ফেইলিওর বা রোগী শকে চলে যাওয়ার মত ঘটনা ঘটে। তাই ডেঙ্গু আক্রান্ত মুমূর্ষ রোগীদের ২-৩ ঘণ্টা পরপর দেখতে হয় এবং ফ্লুইড ম্যানেজমেন্ট করতে হয়।”

সংক্রামক ব্যাধি নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করা ডা. মামুন বলেন, “ডেঙ্গু আক্রান্ত ব্যক্তির যদি কোমরবিডিটি (অন্য দীর্ঘমেয়াদী রোগ) যেমন- উচ্চ ডায়বেটিস, হৃদরোগ, কিডনির রোগে থাকে, বা রোগী যদি অন্তঃসত্ত্বাদের ক্ষেত্রেও মৃত্যুঝঁকি বেশি থাকে।”

শিশু এবং ৬০ বছরের বেশি বয়সীদের ক্ষেত্রে ডেঙ্গুতে মৃত্যু হার বেশি জানিয়ে এ চিকিৎসক বলেন, ১২ বছরের নিচে যাদের বয়স, তাদের শরীরে রক্তের পরিমাণ এমনিতেই কম থাকে। শিশুদের যদি রক্তচাপ কমে যায়, তা পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা সব হাসপাতালে থাকে না। এছাড়া শিশুদের শরীরে ফ্লুইডও দিতে হয় খুব সাবধানতার সাথে।

আরও পড়ুন:

Also Read: ডেঙ্গু: সময় ও উপসর্গে পরিবর্তন ভাবাচ্ছে চিকিৎসকদের

Also Read: চট্টগ্রামে ডায়রিয়া কমছে, বাড়ছে ডেঙ্গু

Also Read: ডেঙ্গু: চট্টগ্রামে এক দিনে ৩ মৃত্যু, মশক নিধন কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন

Also Read: চট্টগ্রামে ডেঙ্গুতে শিশুর মৃত্যু, দিনে শনাক্ত ৩৩

Also Read: চট্টগ্রামে এক দিনে বছরের সর্বোচ্চ ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত

Also Read: চট্টগ্রামের ৯ ওয়ার্ড ও সাতকানিয়ায় ডেঙ্গুর সংক্রমণ বেশি: আইইডিসিআর

Also Read: চট্টগ্রামে কোভিড ও ডেঙ্গু দুটোই বাড়ছে

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক