প্রথমে বাসের সঙ্গে সংঘর্ষের পর মাইক্রোবাসটিকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয় আরেকটি মাইক্রোবাস।
Published : 02 Apr 2025, 02:55 PM
পাহাড়ি ঢালু রাস্তায় বাঁক পেরিয়ে ব্রেক কষতেই বাসটি সড়কে আড়াআড়ি হয়ে যায়। আর ঠিক তখনই বিপরীত দিক থেকে দ্রুতগতিতে আসতে থাকা মাইক্রোবাসের ঘটে যায় সংঘর্ষ।
কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে দুর্ঘটনাকবলিত মাইক্রোবাসটিকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয় আরেকটি মাইক্রোবাস।
লোহাগাড়ায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চুনতি জাঙ্গালিয়ায় বুধবার সকালে দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকাজে যাওয়া হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনার এমন বর্ণনা দিয়েছেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের কাছে।
রিলাক্স পরিবহনের চট্টগ্রামমুখী বাসের সাথে সংঘর্ষে কক্সবাজারগামী মাইক্রোবাসে থাকা ১০ জনের মৃত্যু হয়।
দোহাজারী হাইওয়ে থানার ওসি শুভরঞ্জন চাকমার ভাষ্য, ঘটনাস্থলেই ৭ জনের মৃত্যু হয়।
দুর্ঘটনার পর আহত চার জনকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেলে পাঠানোর পর সেখানে ১০-১২ বছরের একটি শিশু ও ৩০-৩৫ বছরের এক পুরুষের মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সুস্মিতা সাহা।
আহত আরেকটি শিশু ও এক তরুণীকে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
আর বেলা পৌনে ১২টার দিকে লোহাগাড়া থানার ওসি মো. আরিফুর রহমান পদুয়া হাসপাতালে (লোহাগাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স) একজন পুরুষের মৃত্যুর খবর দেন।
নিহতদের মধ্যে এ পর্যন্ত চার জনের নাম জানা গেছেন, তাদের মধ্যে তিন জন এক পরিবারের।
এরা হলেন- দিলীপ বিশ্বাস (৪৩), সাধনা বিশ্বাস (৩৭), আশীষ মণ্ডল (৫০) ও দুর্জয় মণ্ডল (১৮)।
লোহাগাড়ার দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে চার জন এক পরিবারের
এদের মধ্যে দিলীপ বিশ্বাস ও সাধনা বিশ্বাস স্বামী স্ত্রী। আশীষ মণ্ডল নিহত সাধনা বিশ্বাসের ভাই।
দিলীপ ও সাধনা দম্পতির মেয়ে ৭ বছর বয়সী আরাধ্য বিশ্বাস ও আরেক তরুণী আহত হয়ে চট্টগ্রামে মেডিকেলে চিকিৎসাধীন আছে।
বুধবার চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের যে স্থানে দুর্ঘটনাটি ঘটে, সেখান থেকে মাত্র ৩০-৩৫ গজ দূরে ঈদের দিন সকালে বাস ও মিনিবাসের সংঘর্ষে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল।
পর দিন কাছাকাছি এলাকায় দুটি মাইক্রোবাস সড়ক থেকে উল্টে পাশের খাদে পড়ে গেলে ১২ জন আহত হয়।
বুধবার উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া দোহাজারী হাইওয়ে পুলিশের এসআই মো. আব্দুল মতিন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সোমবার যেখানে দুর্ঘটনা হয় তার ৩০-৩৫ গজ দূরে আজকের দুর্ঘটনাটি ঘটে।
“শুরুতে বাসের সাথে মাইক্রোবাসের সংঘর্ষ হয়। এরপর পিছন দিক থেকে আরেকটি মাইক্রোবাস এসে সেটিকে ধাক্কা দেয়।”
লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইনামুল হাছান বলেন, “দুর্ঘটনাস্থলের কাছে সড়কে বাঁক আছে। বাঁক পেরিয়ে ব্রেক কষতেই বাসটির সাথে বিপরীত দিক থেকে আসা মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।”
চট্টগ্রামে বাস-মাইক্রোবাস সংঘর্ষ: মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১০
চট্টগ্রামে বাস-মাইক্রো সংঘর্ষে ঝরল ৭ প্রাণ
উদ্ধার কাজে অংশ নেওয়া ফায়ার সার্ভিসের লোহাগাড়া স্টেশনের ফায়ার ফাইটার মো. বকুল হোসেন স্থানীয়দের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বলেছেন, “ব্রেক কষার পর বাসটি রাস্তার উপর আড়াআড়ি হয়ে যায়। ওই সময়েই মাইক্রোবাসটি বিপরীত দিকে থেকে দ্রুতগতিতে এলে বাসের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
“এরপর আরেকটি মাইক্রোবাস প্রথম মাইক্রোবাসটিকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। তবে পরের মাইক্রোবাসটির কেউ হতাহত হয়নি। সেটিতে তেমন ক্ষতিও হয়নি।”
ঈদের সকালে চট্টগ্রামের সড়কে ঝরল ৫ প্রাণ
লোহাগাড়া ফায়ার স্টেশনের লিডার রাখাল চন্দ্র রুদ্র বলেছেন, “শুরুতে ঘটনাস্থলে গিয়ে মাইক্রোবাসের যাত্রীদের মধ্যে যে কয়েকজনের শরীরে একটু নড়াচড়া দেখতে পান তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। কিন্তু ৭ জন যাত্রীর দেহে কোনো সাড়া ছিল না। তারা হয়ত দুর্ঘটনার সাথে সাথেই মারা যান।”