একদিন আগে শিল্প পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।
Published : 15 Mar 2023, 04:57 PM
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে সীমা অক্সিজেন প্ল্যান্টে বিস্ফোরণের ঘটনায় গ্রেপ্তার ওই কোম্পানির পরিচালক পারভেজ উদ্দিন শান্টুকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এক দিনের হেফাজতে পেয়েছে পুলিশ।
বুধবার পুলিশের আবেদনের শুনানি শেষে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নাজমুন নাহার রিমান্ডের এ আদেশ দেন।
পারভেজকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ সাতদিন রিমান্ডের আবেদন করেছিল বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম জেলা আদালত পুলিশের পরিদর্শক জাকির হোসেন মাহমুদ।
সীতাকুণ্ডের সীমা অক্সিজেন প্ল্যান্টে বিস্ফোরণের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে কারখানা পরিচালনায় গাফিলতি চিহ্নিত হওয়ার পর মঙ্গলবার রাতে পরিচালক পারভেজকে গ্রেপ্তার করে শিল্প পুলিশ।
চট্টগ্রাম শিল্প পুলিশ সুপার সোলায়মান জানান, শিল্প পুলিশ গত সোমবার বিস্ফোরণের ঘটনায় হওয়া মামলাটির তদন্তভার নেয়। এরপর নগরীর জিইসি মোড়ের হোটেল পেনিনসুলার সামনে থেকে শান্টুকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সীমা অক্সিজেনের মালিকদের একজন গ্রেপ্তার
‘অব্যবস্থাপনা ছিল’ সীমা অক্সিজেন প্ল্যান্টে, ‘ছিল না’ দক্ষ জনবল
গত ৪ মার্চ সীতাকুণ্ডের সোনাইছড়ি ইউনিয়নে সীমা অক্সিজেন প্ল্যান্টে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে সাতজন নিহত হয়, আহত হয় ২৫ জন। বিস্ফোরণ এতটাই ভয়াবহ ছিল যে লোহার টুকরা, সিলিন্ডার কয়েকশ গজ দূরে গিয়েও পড়ে, তাতে একজন নিহত হয়।
বিস্ফোরণে নিহত আবদুল কাদেরের স্ত্রী রোকেয়া বেগম বাদী হয়ে কারখানা কর্তৃপক্ষের অবহেলায় প্রাণহানির অভিযোগ এনে ৭ মার্চ সীতাকুণ্ড থানায় মামলা করেন। মামলায় তিন মালিকসহ মোট ১৬ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়।
দণ্ডবিধির ৩৩৭, ৩৩৮, ৩০৪ ও ৪২৭ ধারায় ওই মামলা করা হয়েছে। ৩০৪ ধারায় বলা আছে- হত্যার উদ্দেশ্য না থাকার পরও মৃত্যু ঘটলে তা ‘অপরাধজনক নরহত্যা’ বিবেচনা করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অথবা ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং তার সঙ্গে অর্থদণ্ড দেওয়া যাবে।
গ্রেপ্তার পারভেজ উদ্দিন শান্টু সীমা অক্সিজেন কোম্পানির পরিচালক হিসেবে রয়েছেন। তার ভাই মামুন উদ্দিন কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তাদের আরেক ভাই আশরাফ উদ্দিন বাপ্পিও কোম্পানির পরিচালক। তাদের বাবা এই কারখানা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
ওই অগ্নিকাণ্ড তদন্তে গঠিত জেলা প্রশাসনের কমিটি মঙ্গলবার তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়। তাতে কারখানা কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কথা উল্লেখ করা হয়; যদিও সীমা অক্সিজেন কর্তৃপক্ষ বলে আসছিল, তারা সব নিয়ম মেনেই কারখানা পরিচালনা করছিলেন।