“তিনি হাজার হাজার নেতাকর্মী সৃষ্টি করেছেন; তার হাত ধরে অনেকেই বিএনপির রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হয়েছিল,” বলেন আবুল হাশেম বক্কর।
Published : 28 Feb 2025, 01:26 PM
চট্টগ্রাম নগর বিএনপির কার্যালয় নাসিমন ভবন প্রাঙ্গণে শেষবারের মত আনা হলো আবদুল্লাহ আল নোমানের মৃতদেহ। সেখানে প্রয়াত নেতাকে শ্রদ্ধা জানাতে ঢল নামল সব বয়সী মানুষের।
শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে নিজের প্রিয় প্রাঙ্গণে ফিরলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, তবে নিথর দেহে।
দলের এই নেতাকে শ্রদ্ধা জানাতে সেখানে সমবেত হন নেতাকর্মীরা। ফুলে ফুলে ঢাকা পড়ে যায় নোমানের মৃতদেহ বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সটি। অনেককে আবেগ আক্রান্ত হতে দেখা গেছে সেসময়।
শ্রদ্ধা জানাতে আসেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম আকবর খন্দকার, বিএনপি নেতা এনামুল হক, এরশাদ উল্লাহ, আবুল হাশেম বক্কর ও জামায়াতে ইসলামের নেতা শাজাহান চৌধুরী।
নগর বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব আবুল হাশেম বক্কর বলেন, “নোমান ভাই শুধু বিএনপির নেতা ছিলেন না, তিনি সাধারণ গণমানুষের নেতা ছিলেন। তিনি হাজার হাজার নেতাকর্মী সৃষ্টি করেছেন। তার হাত ধরে অনেকেই বিএনপির রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হয়েছিল।
“আজকে জাতির দুঃসময়ে নোমান ভাই চলে গেলেন। এটা বড় বেদনার ও অপূরণীয় ক্ষতির।”
নাসিমন ভবন প্রাঙ্গণে উপস্থিত নোমানের ছেলে সাঈদ আল নোমান বলেন, “আমার বাবা বলে বলছি না, উনাকে আমরা বাবার চেয়ে বেশি দেখেছি একজন রাজনৈতিক নেতা হিসেবে। তিনি গতানুগতিক ধারার রাজনীতিবিদ ছিলেন না। গণমানুষের রাজনীতিবিদ ছিলেন।
“এই দীর্ঘ যাত্রায় অনেক ত্যাগের বিনিময়ে তিনি মানুষের ভালোবাসা অর্জন করেছিলেন। আত্ন নিবেদন ও সততার সাথে তিনি মানুষের সেবা করেছেন। আজও তার প্রতিফলন আমরা দেখতে পাচ্ছি। এজন্যই সন্তান হিসেবে আমি গর্বিত। আপনারা সবাই উনার জন্য দোয়া করবেন।”
তখনও দলে দলে বিএনপির বিভিন্ন স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মী, যুবদল, ছাত্রদল ও মহিলা দলের নেতাকর্মীরা আসছিলেন নেতাকে একনজর দেখার জন্য।
পুরো নাসিমন ভবন প্রাঙ্গণ নোমানের ছবি সম্বলিত শোকের ব্যানার পোস্টারে ছেয়ে গেছে। তার মাঝে ফুলে ফুলে ঢাকা অ্যাম্বুলেন্সটির সামনে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা বাঁধা।
বেলা সাড়ে ১২টায় শেষবারের মত নেতাকর্মীদের ভিড় ঠেলে এগিয়ে যায় অ্যাম্বুলেন্সটি। নিজের প্রিয় প্রাঙ্গণে আর আসবেন না নোমান, যেখানে থেকে শুরু হওয়া অজস্র মিছিলের নেতৃত্বে দিয়েছিলেন তিনি। শুক্রবারও একটি মিছিল এগিয়ে যায় মৌনতায় ভর করে। আর তার একেবারে সামনে নোমানের নিথর দেহ।
অ্যাম্বুলেন্সটি এগিয়ে যায় জমিয়তুল জাতীয় মসজিদ প্রাঙ্গণের দিকে। সেখানেই বাদ জুমা জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে।
এরপর বিকালে গ্রামের বাড়ি রাউজান গহিরা স্কুল মাঠে প্রয়াতের জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।
এর আগে শুক্রবার সকালে নগরীর খুলশীতে চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিম্যাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এবং পরে ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটি প্রাঙ্গণে ছাত্র, শিক্ষক ও কর্মচারী-কর্মকর্তাদের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হয়েছিল নোমানের মরদেহ।
মঙ্গলবার ভোরে রাজধানীতে মারা যান বিএনপির বর্ষীয়ান নেতা আবদুল্লাহ আল নোমান।
১৯৪৫ সালে চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার গহিরা গ্রামে জন্ম নেওয়া নোমান একসময় বাম রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন। ষাটের দশকের শুরুতে হামিদুর রহমান শিক্ষা কমিশনের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে তিনি ছাত্র ইউনিয়নে যোগ দেন, কারাবরণও করেন।
মেননপন্থি ছাত্র ইউনিয়নের চট্টগ্রাম মহানগরীর সাধারণ সম্পাদক, বৃহত্তর চট্টগ্রামের সভাপতি এবং কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেন।
ছাত্রজীবন শেষে মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর হাত ধরে নোমান যোগ দেন শ্রমিক রাজনীতিতে। পূর্ববাংলা শ্রমিক ফেডারেশনের সহ-সভাপতি ছিলেন তিনি। গোপনে ভাসানীপন্থি ন্যাপের রাজনীতির সঙ্গেও জড়িত হন। ১৯৭০ সালে ন্যাপের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক হন।
১৯৭১ সালে তিনি সক্রিয়ভাবে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন। যুদ্ধ শেষে ন্যাপের রাজনীতিতে তার পথ চলা। এরপর ১৯৮১ সালে যোগ দেন বিএনপিতে।
১৯৯১ ও ২০০১ সালে চট্টগ্রাম-৯ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন নোমান। খালেদা জিয়ার দুই সরকারের আমলে মৎস্য ও পশু সম্পদ, শ্রম ও কর্মসংস্থান, বন ও পরিবেশ এবং খাদ্য মন্ত্রণায়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব তিনি পালন করেন।
কাজীর দেউড়িতে নোমানের লাশ, দাফন শুক্রবার
বিএনপি নেতা আবদুল্লাহ আল নোমান আর নেই
সভা মঞ্চে ওঠার আগে বিদায় জীবন মঞ্চেই