Published : 20 Dec 2022, 03:04 PM
চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সুফল নিয়ে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে ‘স্মার্ট সিটিজেন’ প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. হুমায়ুন কবীর খোন্দকার।
মঙ্গলবার বাংলাদেশ টেলিভিশনের চট্টগ্রাম কেন্দ্রে ‘চতুর্থ শিল্প বিপ্লব: সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ- বাংলাদেশ প্রেক্ষিত’ বিষয়ক এক সেমিনারে তিনি এ মন্তব্য করেন।
তথ্য সচিব বলেন, “এটা দুর্ভাগ্য যে প্রথম ও দ্বিতীয় শিল্প বিপ্লবের সুফল আমরা পাইনি। তবে ২০০৯ সাল থেকে আমরা তৃতীয় শিল্প বিপ্লবের সুফল ধরতে পেরেছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপরেখা যখন দেন তখন অনেকে বুঝতেও পারেনি এটা কী।
“বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেছিলেন যে, এজন্য আমাদের প্রযুক্তিতে জোর দিতে হবে। এবং ডিজিটাল বাংলাদেশে এখন বাস্তবতা। এর সুফল আমরা ভোগ করছি। এখন চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের যুগ। সহজ কথায় এটা হলো অটোমেশন। মানুষের সরাসরি হস্তক্ষেপ ছাড়াই প্রযুক্তির সহায়তায় অনেক কাজ হবে। এটাই চতুর্থ শিল্প বিপ্লব।”
তথ্য সচিব মো. হুমায়ুন কবীর খোন্দকার বলেন, “আমাদের ভবিষ্যত লক্ষ্য স্মার্ট বাংলাদেশ। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সুফল গ্রহণের মাধ্যমে স্মার্ট বাংলাদেশ করতে হলে প্রয়োজন স্মার্ট সিটিজেন।
“ভবিষ্যতে যাদের যোগ্যতা ও দক্ষতা থাকবে, তারাই ভালো কাজ পাবে। যাদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা থাকবে না, তারা কাজ হারাবে। তবে সবাই কাজের অযোগ্য হয়ে যাবে তা মোটেই নয়। অনেক বেশি কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের ফলে।”
সেজন্য প্রস্তুতি নিয়ে যোগ্য হয়ে ওঠার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের ফলে বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু আয় বর্তমানের চেয়ে ৫-১০ গুণও বাড়তে পারে।
“ভবিষ্যতের এই অদম্য অগ্রযাত্রায় সবাইকে সামিল হতে হবে। আমাদের জনসংখ্যার বিরাট অংশ তরুণ জনশক্তি। তাদের দক্ষ ও যোগ্য করতে পারলেই স্মার্ট বাংলাদেশ করতে পারবে। নতুন প্রজন্ম পাবে নতুন এক বাংলাদেশ।”
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রেজাউল করিম বলেন, “কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবটিক্স, আইওটি (ইন্টারনেট অব থিংস), স্বনিয়ন্ত্রিত যানবাহন, থ্রিডি প্রিন্টার, ক্রিপটোকারেন্সি, ন্যানোটেকনোলজি, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, ম্যাটেরিয়াল সায়েন্স এবং এনার্জি স্টোরেজের মত বিষয়গুলোর উপর ভর করে চতুর্থ শিল্প বিপ্লব সংঘটিত হচ্ছে।
“ধারণা করা হয়, এর অতি দ্রুত অগ্রগতির ফলে এক দশকে বাংলাদেশে ৫৫ লাখ লোক কাজ হারাবে। বিপরীতে এক কোটি নতুন কর্মসংস্থান হবে। সেজন্য অবশ্যই প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ থাকতে হবে।”
সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে জানিয়ে রেজাউল করিম বলেন, “তৈরি পোশাক শিল্পকে রপ্তানির একমাত্র প্রধান খাত না ভেবে তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর শিল্পকে বিকল্প হিসেবে নিতে হবে।”
বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালক সোহরাব হোসেন সেমিনারে বলেন, “ঢাকা-চট্টগ্রামের মত আমাদের বড় নগরীগুলোতে কোনো কাজ নিয়েই ঠিকভাবে এগুতে পারে না সিটি করপোরেশনগুলো। আমাদের স্মার্ট সিটিজেন হতে হবে। সেবা দিতে প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে সেবা সংস্থাগুলোকে।
“দেশে খাদ্য উৎপাদন অনেক বেড়েছে সরকারের নানা উদ্যোগে। কিন্তু পথেঘাটে যে খাবার আমরা খাই তা কি নিরাপদ? নিরাপদ খাদ্য শনাক্ত করতে প্রযুক্তির ব্যবহার করতে হবে। এরকম সব ক্ষেত্রে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবকে মানুষের কাছে পৌঁছাতে গণমাধ্যমকর্মীদেরও ভূমিকা রাখতে হবে।”
অন্যদের মধ্যে বাংলাদেশে টেলিভিশনের উপ-মহাপরিচালক (বার্তা) অনুপ খাস্তগীর এবং বাংলাদেশ টেলিভিশন চট্টগ্রাম কেন্দ্রের জেনারেল ম্যানেজার মাহফুজা আক্তার সেমিনারে বক্তব্য দেন।