Published : 20 Jul 2026, 04:41 PM
টাঙ্গাইলের গোপালপুরে যমুনা নদী রক্ষা বাঁধের একশ মিটার অংশে আকস্মিক ধস দেখা দিয়েছে। এতে ঝুঁকিতে পড়েছে ভূঞাপুর-তারাকান্দি সড়ক, বসতবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।
এ ছাড়া উপজেলার সাখারিয়া এলাকায় রোববার থেকে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাঈন উদ্দীন বলেন, ভাঙন ঠেকাতে সোমবার দুপুর থেকে নদীতে জিও ব্যাগ ফেলছেন শ্রমিকরা। তবে নদীর প্রবল স্রোত থাকায় বেগ পেতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, এটি কেবল সাময়িক উদ্যোগ। স্থায়ী নদী তীর সংরক্ষণ বাঁধ নির্মাণ না হলে প্রতিবছরই একই সংকট ফিরে আসবে।

সড়কের একাধিক অংশ ভাঙনের মুখে পড়ায় আতঙ্কে দিন কাটছে নদীপাড়ের মানুষ। এর মধ্যে সড়কের একাংশ ধসে পড়েছে। যে কোনো সময় ভাঙন আরও বিস্তৃত হলে গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কের যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ভাঙনের কারণে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকায় দুর্ভোগে পড়েছেন হাজার হাজার মানুষ। যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী ট্রাক, অ্যাম্বুলেন্সসহ সব ধরনের যানবাহনকে বিকল্প সড়ক ব্যবহার করতে হচ্ছে। অনেককে প্রায় ১০ কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ ঘুরে গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে। এতে সময় নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি বাড়ছে পরিবহন ব্যয়, ভোগান্তি এবং জনদুর্ভোগ।
এলাকাবাসীর দাবি, প্রতি বছর জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলে সাময়িকভাবে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করা হয়। কিন্তু স্থায়ী নদী শাসনের উদ্যোগ না থাকায় সংকটের পুনরাবৃত্তি ঘটে। তাই দ্রুত একটি টেকসই নদী তীর সংরক্ষণ বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

স্থানীয় বাসিন্দা সালিম আহমেদ, কয়েকদিন ধরেই যমুনার তীব্র স্রোতে নদী ভয়ংকর রূপ ধারণ করেছে। প্রতিদিনই নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে নতুন নতুন অংশ। দ্রুত টেকসই ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ভাঙন আরও বিস্তৃত হয়ে মহাসড়ক গ্রাস করতে পারে। এতে ঢাকা-টাঙ্গাইল-তারাকান্দি-ভূঞাপুর অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
কার্যকর নদী শাসনের ব্যবস্থা না হলে ভবিষ্যতে যমুনা নদীর প্রবাহে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা দিতে পারে বলে শঙ্কার কথা বলেছেন স্থানীয় শিক্ষিকা আঞ্জু আনোয়ারা (ময়না)।
যমুনায় একটি স্থায়ী বাঁধের ব্যবস্থা হলে সড়ক এবং নদীপাড়ের মানুষ নিরাপদে বসবাস করতে পারবে বলে বিশ্বাস এই শিক্ষিকার।

বাঁধে ধসের খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন টাঙ্গাইল-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম পিন্টু। এ সময় তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাঙন রোধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা মাঈন উদ্দীন বলেন, তাৎক্ষণিকভাবে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধ করা হচ্ছে। এ ছাড়া নদীর স্রোতের আঘাত কমাতে গাছের গুঁড়ি নদীতে ফেলা হচ্ছে।
তবে শুষ্ক মৌসুমে বাঁধের যেসব জায়গা সংস্কার করা দরকার সেগুলো মেরামত করলেই সড়ক নিরাপদ থাকবে বলে মনে করেন তিনি।