Published : 20 Jul 2026, 04:46 PM
নাটক, গান ও আবৃত্তিতে অভিবাসী মানুষের জীবনের সংকট, টানপোড়েন তুলে ধরল সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘আনন্দধারা আর্টস’।
‘দেশান্তর’ শিরোনামের অনুষ্ঠানটি হয়েছে পূর্ব লন্ডনের ড্রাইভ মেথডিস্ট চার্চের মঞ্চে রোববার। কথাসাহিত্যিক অধ্যাপক শাহাদুজ্জামানের ভাবনা ও উপস্থাপনায় অভিবাসন, পরিচয় ও মানবতার চিরন্তন সম্পর্ককে কেন্দ্র করে এই আয়োজনটি নির্মিত হয়।
আনন্দধারা আর্টসের পরিচালক ইমতিয়াজ আহমেদ অনুষ্ঠানের সঙ্গীত পরিচালনা করেন। শুরুতে ছিল সূচনায় কবিতা পাঠ, গান ও নাচের সমন্বিত পরিবেশনা।
শঙ্খ ঘোষ, জীবনানন্দ দাশ এবং সৈয়দ শামসুল হকের কবিতা ও কবিতা থেকে গান নিয়ে এই পর্বটি সাজানো হয়। অনুষ্ঠানের বেশিরভাগ গানের সুর ও সংগীতায়োজন করেন ইমতিয়াজ আহমেদ, এছাড়া একটির সুরকার ছিলেন শাহীন সরদার।

আবৃত্তি করেন তানিশা চৌধুরী, সমর সাহা এবং জিয়াউর রহমান সাকলায়েন। অন্যদিকে ঈশিতা সাহা ও ইমতিয়াজ আহমেদের গানের ও মাটি সিদ্দিকীর নাচ অনুষ্ঠানকে করে অনন্য।
এছাড়া আলোচক শাহাদুজ্জামানের বর্ণনায় অভিবাসী মানুষের অনুভূতি, সংগ্রাম ও স্বপ্ন জীবন্তভাবে ফুটে ওঠে।
প্রথম পর্বের পর মুকুল আহমেদ পরিচালিত প্রামাণ্যচিত্র ‘হু অ্যাম আই’ নির্বাচিত অংশ প্রদর্শিত হয়। আত্মঅন্বেষণ এবং আপন সত্তার সন্ধান এই প্রামাণ্যচিত্রের মূল উপজীব্য।
যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী হীরা চৌধুরীর একক নাট্যাভিনয় ছিল একটি পর্বে। শাহাদুজ্জামানের ছোটগল্প ‘উড্ডিন’ অবলম্বনে নির্মিত এই নাটকে অভিবাসী জীবনের বেদনা, সংগ্রাম ও মানবিক অনুভূতিকে অত্যন্ত শক্তিশালীভাবে তুলে ধরে।

শাহাদুজ্জামান বলেন, “অভিবাসী হিসেবে আমাদের প্রত্যেকের জীবন ও মানসজগৎ স্বতন্ত্র। সেই অভিন্ন অথচ বৈচিত্র্যময় অভিজ্ঞতাগুলোকেই আমরা এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তুলে ধরতে চেয়েছি।”
ইমতিয়াজ আহমেদের কথায়, অভিবাসন মানবসভ্যতার ইতিহাসে একটি চলমান বৈশ্বিক বাস্তবতা।
“আমাদের উচিত একে অপরকে সম্মান করা এবং সহমর্মিতা, মর্যাদা ও মানবিকতার সঙ্গে পরস্পরের পাশে দাঁড়ানো।”
সঙ্গীত পরিবেশনায় সহযোগিতা করেন অমিত দে ও পিয়াশ বড়ুয়া। মঞ্চসজ্জায় গুলাম আকবর মুক্তা এবং শব্দ পরিকল্পনার দায়িত্বে ছিলেন আরাফাত কীর্তি।
অনুষ্ঠানের মিডিয়া পার্টনার ছিল এআর টেলিভিশন, যার পরিচালক জয়দীপ রায়।