Published : 16 Dec 2024, 12:00 PM
একাত্তরে যে বীর সেনানীদের রক্তের বিনিময়ে বাঙালি পেয়েছে নতুন দেশ, সেই বীরদের স্মরণ করেছে চট্টগ্রামবাসী।
সোমবার সকালে নগরীর কাট্টলীর ডিসি পার্কের দক্ষিণে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভে বিজয় দিবস উদযাপনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। তোপধ্বনি ও সশস্ত্র অভিবাদনের মধ্য দিয়ে বিজয় দিবসের বার্তা দেওয়া হয়।
মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. জিয়াউদ্দীন এবং মেয়র শাহাদাত হোসেন।
এরপর চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম, চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) কমিশনার হাসিব আজিজ, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. আহসান হাবীব পলাশ, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার রায়হান উদ্দিন খান, চট্টগ্রাম জেল সুপার মো. ইকবাল হোসেন এবং জেলার মোহাম্মদ মাসুদ হাসান জুয়েল এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স চট্টগ্রাম বিভাগের কর্মকর্তারা শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।

এরপর একে একে শহীদ মিনারে ফুল দিতে আসেন সরকারি বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
শ্রদ্ধা জানিয়ে মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেন, “বিজয়ের ৫৩ বছরেও বাংলাদেশের মানুষের মৌলিক অধিকার তথা খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসার অধিকার নিশ্চিত হয়নি। ৫৩টি বছর পার হয়ে গেছে, কিন্তু আমরা এখনো গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করছি।
“গণতন্ত্রের পথে যে প্রতিবন্ধকতা রয়েছে, তা আমরা অতিক্রম করার চেষ্টা করছি। মানুষের মৌলিক অধিকার, কথা বলার স্বাধীনতা, গণতান্ত্রিক অধিকার, আইনের শাসন, মানবাধিকার, এবং ভোটের অধিকার নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।”

নগরীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক খান তালাত মাহমুদ রাফি।
এখানে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি (বিটিএ), চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ২০ তম ব্যাচ, পপুলার লাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ, জিয়া মঞ্চ, বিএসএ, বাংলাদেশ স্টুডেন্টস এসোসিয়েশন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শ্রদ্ধা রেখেছেন।

চট্টগ্রাম মিউনিসিপ্যাল মডেল হাইস্কুলের অস্থায়ী শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।
এখানে শ্রদ্ধা জানিয়েছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ চট্টগ্রাম মহানগর কমান্ড, বাসদ মার্কসবাদী, চট্টগ্রাম মহানগর যুবদল, মুক্তিযুদ্ধ গবেষণা কেন্দ্র ট্রাস্ট, উদীচী চট্টগ্রাম জেলা সংসদ, খেলাঘর চট্টগ্রাম মহানগরী, আবৃত্তি সংগঠন বোধন, প্রমা, বাংলাদেশ কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, প্রগতির যাত্রীসহ কয়েকটি সংগঠন।

সিপিবি চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি অশোক সাহা বলেন, “বাংলাদেশে এক কঠিন পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র যুদ্ধ করে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করেছিল। এখন এক প্রতিক্রিয়াশীর অন্ধকারের দিকে বাংলাদেশ এগিয়ে চলেছে।“

তবে এবারে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভ, চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও অস্থায়ী স্মৃতি সৌধে সকাল ১০টা পর্যন্ত সাধারণ মানুষের উপস্থিতি কম দেখা গেছে।