Published : 06 Nov 2025, 03:51 PM
চট্টগ্রাম নগরীতে রোজ যে আবর্জনা সৃষ্টি হয়, তার পুরোটাই অপসারণ করতে পারলে আর জলাবদ্ধতা সমস্যা থাকবে না বলে মন্তব্য করেছেন সিটি মেয়র শাহাদাত হোসেন।
তিনি বলেছেন, “প্রতিদিন নগরীতে ৩০০০ টন ময়লা হয়, এর মধ্যে ২২০০ টন কালেকশন করছি; বাকিটা করতে পারছি না। কী কারণে? শহরের বাসিন্দারা এই ময়লা জানালা দিয়ে ফেলে দিচ্ছেন ডাস্টবিনে না দিয়ে। পথ চলতি যানবাহন থেকে ফেলছেন।
“এ কারণে ডোর টু ডোর চালু করেছি। এটাতে আপনাদের আর্থিকভাবে হয়তো কিছু সমস্যা হচ্ছে। বাসাবাড়ি থেকে ৭০ টাকা নির্ধারিত। কিন্তু কেউ কেউ হয়তো বেশি নিচ্ছে। এ বিষয়ে ফেইসবুকে না দিয়ে, সরাসরি লিখিত অভিযোগ দেবেন সিটি করপোরেশনে। বেশি নিলে তাদের বরাদ্দ বাতিল করে দেব।”
মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালনের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে বৃহস্পতিবার দুপুরে নগরীর কাজীর দেউড়ির একটি কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শাহাদাত হোসেন এ কথা বলেন।
আবর্জনা থেকে বায়োগ্যাস উৎপাদনে হালিশহরে একটি প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে জানিয়ে মেয়র শাহাদাত বলেন, “কোরিয়ান একটি প্রতিষ্ঠানের সাথে করব সেটা হালিশহরে। তখন ডোর টু ডোর—এটাও হয়ত বিনামূল্যে করে দেব। বায়োগ্যাস উৎপন্ন হলে হয়তো ময়লার জন্য আপনাদের টাকা দিব। একটু সময় দিতে হবে।
“ময়লা কি জটিলতা সৃষ্টি করছে, সেটা আমি জানি। তাই শতভাগ ময়লা কালেক্ট করতে ডোর টু ডোর করছি। এর ফলে ৫০০ টন কালেকশন বেড়েছে। এ মাসে ২৭০০ মেট্রিক টন ময়লা কালেকশন হয়েছে।”
নগরীর জলাবদ্ধতা গত ৩০ বছরের সমস্যা মন্তব্য করে মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেন, “এটা ৫০-৬০ ভাগ কমিয়ে দিতে সমর্থ হয়েছি। এখন পানির মধ্যে আর মানুষ বাস করে না। আগে বহদ্দারহাট-মুরাদপুর নিয়ে নানা রকম কমেডি হত। আগের মেয়র বাসা থেকে বের হতে পারত না। এবার ভৌগোলিক কারণে ৫ মাস বৃষ্টি হচ্ছে। তবু সমস্যা হচ্ছে না।
“শহর পরিষ্কার রাখতে প্লাস্টিক রিসাইক্লিং প্রসেসের জন্য আলাদা কনটেইনার দিতে চেষ্টা করব। শতভাগ ময়লা কালেকশনে যদি সফল হতে পারি, জলাবদ্ধতা থাকবে না। সবাই যদি সচেতন না হই, যতই পরিষ্কার করি কমবে না। ময়লার জন্য ডেঙ্গু চিকনগুনিয়া হচ্ছে।”

নগরীতে বর্জ্য থেকে গ্রিন এনার্জি উৎপাদনের একটি প্রকল্প করার জন্য তিনটি দেশের সাথে আলোচনা চলছে বলেও জানান মেয়র।
চলতি বছর বর্ষাকাল দীর্ঘায়িত হওয়ায় জনগণকে কাঙ্ক্ষিত রাস্তা উপহার দিতে পারেননি দাবি করে মেয়র বলেন, “৫০-৬০ টি বড় রাস্তা সামনের এক বছরে উপহার দিব। ১০টি সেবা নিয়ে অ্যাপ ওপেন করব ডিসেম্বরে। ময়লা, রাস্তা, আলো, মশা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা এরকম ১০টি সেবা থাকবে- ‘আমাদের চট্টগ্রাম’ অ্যাপে।”
দরিদ্র ও মধ্যবিত্তের জন্য গৃহকর সহনশীল রাখার লক্ষ্যে কাজ চলছে জানিয়ে শাহাদাত হোসেন বলেন, “গরিব ও মধ্যবিত্ত যারাই আমার কাছে এসেছে, হোল্ডিং ট্যাক্স যাতে কমফোর্ট ফিল করে সেটাই করেছি। কমার্শিয়ালে শক্তভাবে আদায় করছি।
“পোর্টের বিষয়ে কোনো ছাড় দিচ্ছি না। মাত্র ৪৫ লাখ টাকা পাচ্ছি। ৪৭৬ কোটি টাকা আসে, সেটাই চাচ্ছি। তাহলে সিটি করপোরেশনের স্কুলগুলোর ব্যয় নির্বাহ করতে পারব। যেটা আমাদের হক, বন্দরের কাছে সেটাই চাই।”
‘কিশোর গ্যাং’ বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছে উল্লেখ করে মেয়র বলেন, “তাদের মেন্টাল হেলথ ডেভলপ করতে না পারলে নতুন বাংলাদেশের মুখ থুবড়ে পড়বে। তারা যাতে সন্ত্রাস মাদকের পথে না যায়, সে উদ্দেশ্যে অভিনেতা জিয়াউল হক পলাশের টিম (ডাকবাক্স ফাউন্ডেশন) সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাবে। বাইরের কিশোর-তরুণদের সাথেও কাজ করবে।
“নাগরিকদের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্য সেবা পৌঁছে দেয়ার জন্য প্রাইমারি হেলথ কেয়ার সিস্টেম চালু করব, আরবান হেলথ কেয়ার সেন্টারগুলোতে। নগরীতে ৫টি জোনে ব্রেস্ট ফিডিং সেন্টার করা হবে। ডাকবাক্স ফাউন্ডেশন সিটি করপোরেশনের সাথে এই কার্যক্রম বাস্তবায়ন করবে। আগামী মাস থেকে সেন্টার চালু করা হবে।”
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আহসান হাবিব পলাশ, সিএমপি কমিশনার হাসিব আজিজ, সিডিএ চেয়ারম্যান নুরুল করিম, ওয়াসার ভারপ্রাপ্ত এমডি মনোয়ারা বেগম, জেলা পরিষদের প্রশাসক নুরুল্লাহ নুরী, সাংবাদিক জাহিদুল করিম কচি ও চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন জাহাঙ্গীর আলম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নগর সংস্থার সচিব মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন।