১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩

লিচ-রেহানের স্পিনে দিশাহারা পাকিস্তান

দিনের শেষে বেলায় ব্যাটিংয়ে নেমে উইকেট হারিয়েছে ইংল্যান্ডও।

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 17 Dec 2022, 10:00 PM

Updated : 17 Dec 2022, 10:00 PM

প্রথম দিনেই উইকেট থেকে স্পিনাররা পেলেন সহায়তা। যা দারুণভাবে কাজে লাগালেন জ্যাক লিচ। রেকর্ড গড়া অভিষেকে নিজের সামর্থ্যের ঝলক দেখালেন রেহান আহমেদও। তাদের স্পিনে তিনশ পার হতেই গুটিয়ে গেল পাকিস্তান। শেষ বেলায় ব্যাটিংয়ে নেমে উইকেট হারিয়েছে ইংল্যান্ডও।

করাচি টেস্টের প্রথম দিন পাকিস্তানের ইনিংস থেমে গেছে ৩০৪ রানে। পরে স্রেফ ৩ ওভার ব্যাটিং করে জ্যাক ক্রলিকে হারিয়ে ৭ রান করেছে ইংলিশরা। তারা এখনও পিছিয়ে ২৯৭ রানে।

পাকিস্তানের শুরুর ৭ ব্যাটসম্যানের ছয়জনই পান ভালো শুরু। কিন্তু কেউই খেলতে পারেননি বড় ইনিংস। ফিফটি ছাড়ানো ইনিংস আসে কেবল বাবর আজম ও আঘা সালমানের ব্যাট থাকে। পাকিস্তান অধিনায়ক করেন ৭৮, সালমান ৫৬।

প্রতিপক্ষকে শনিবার দিনই গুটিয়ে দেওয়ার পথে বড় অবদান রাখেন লিচ। ১৪০ রান খরচায় বাঁহাতি এই স্পিনার নেন ৪ উইকেট। ইংল্যান্ডের সর্বকনিষ্ঠ ক্রিকেটার হিসেবে প্রথম টেস্ট খেলতে নেমে ২ উইকেট নেন ১৮ বছর ১২৬ দিন বয়সী রেহান।

পিচ রিপোর্টের সময় ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক মাইক আথারটন বলেন, দ্বিতীয় দিনের উইকেটের মতো মনে হচ্ছে। দুই প্রান্তেই স্পষ্ট ছিল ফাটল।

এমন উইকেটে টস হেরে ফিল্ডিংয়ে নামা ইংল্যান্ড দ্বিতীয় ওভারেই আক্রমণে আনে লিচকে। দলকে সাফল্য এনে দিতে দেরি করেননি এই স্পিনার। ষষ্ঠ ওভারে এলবিডব্লিউ করে ফিরিয়ে দেন আবদুল্লাহ শফিককে।

দ্রুত রান তুলে পাল্টা-আক্রমণের চেষ্টা চালান দলে ফেরা শান মাসুদ (৫ চারে ৩০)। গতিময় এক ডেলিভারিতে এই ওপেনারকে ফিরিয়ে দেন মার্ক উড। ৪৬ রানে ২ উইকেট হারানো দলকে টানেন বাবর ও আজহার আলি।

তাদের ৭১ রানের জমে যাওয়া জুটি ভাঙেন অলিভার রবিনসন। ক্যারিয়ারের শেষ টেস্ট খেলতে নামা আজহার কট বিহাইন্ড হয়ে ফেরেন ৬ চারে ৪৫ রানে।

গত টেস্টে জোড়া ফিফটি করা সাউদ শাকিল এবার করতে পারেননি কিন্তু। শর্ট লেগে অলি পোপের দারুণ ক্যাচে ফেরেন তিনি। রেহান পান নিজের প্রথম টেস্ট উইকেটে স্বাদ। কয়েক ওভার পর রুটের ফুলটসে মিড-অনে ধরা পড়েন মোহাম্মদ রিজওয়ান।

৭৪ বলে ফিফটি করে এক প্রান্ত ধরে রেখে দলকে এগিয়ে নিচ্ছিলেন বাবর আজম। কিন্তু রান আউটে শেষ হয় তার ৯ চারে ১২৩ বলের লড়াই।

ফাহিম আশরাফের পর নুমান আলি কিছুক্ষণ সঙ্গ দেন সালমানকে। নবম ব্যাটসম্যান হিসেবে লিচের বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন সালমান (৬ চারে ৫৬)। ওই ওভারেই আবরার আহমেদকে বোল্ড করে লিচ গুটিয়ে দেন পাকিস্তানের ইনিংস।

শেষ বেলায় ব্যাটিংয়ে নেমে পঞ্চম বলেই উইকেট হারায় ইংল্যান্ড। আগের টেস্টে রেকর্ড গড়া বোলিং করা লেগ স্পিনার আবরারের বলে শূন্য রানে এলবিডব্লিউ হন ক্রলি। বাকিটা সময় ইংল্যান্ডকে আর বিপদে পড়তে দেননি বেন ডাকেট ও পোপ।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

পাকিস্তান ১ম ইনিংস: ৭৯ ওভারে ৩০৪ (শফিক ৮, মাসুদ ৩০, আজহার ৪৫, বাবর ৭৮, শাকিল ২৩, রিজওয়ান ১৯, সালমান ৫৬, ফাহিম ৪, নুমান ২০, ওয়াসিম ৮*, আবরার ৪; রবিনসন ৮-১-৩১-১, লিচ ৩১-২-১৪০-৪, উড ১৫-২-৩৩-১, রেহান ২২-২-৮৯-২, রুট ৩-০-৭-১)

ইংল্যান্ড ১ম ইনিংস: ৩ ওভারে ৭/১ (ক্রলি ০, ডাকেট ৪*, পোপ ৩*; আবরার ২-১-২-১, নুমান ১-০-৫-০)