অস্ট্রেলিয়ায় বোলিং শুরু করেছেন নাহিদ, দলে ফিরতে পারবেন কবে
অস্ট্রেলিয়াতে চিকিৎসা চলছে বাংলাদেশের গতি তারকার, দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে তাকে পাওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।
“ঐতিহাসিক ওয়াকা মাঠে নিউ সাউথ ওয়েলস ও ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার ম্যাচ দেখছি... বড় স্বপ্ন বুনছি”- সামাজিক মাধ্যমে কিছু দিন আগে এই কথা লিখেছেন নাহিদ রানা। হয়তো পার্থের এই মাঠের মতোই বিখ্যাত ভেন্যুগুলোতে গতির ঝড় তোলার স্বপ্নের কথাই বোঝাতে চাইছিলেন বাংলাদেশের তরুণ পেসার।
পার্থে না হোক, অস্ট্রেলিয়ার মাঠে খেলার স্বপ্নটা তার পূরণ হতে পারত গত অগাস্টেই। কিন্তু চোটের কারণে ছিটকে যান আগেই। সেই চোটের সমস্যা কাটিয়ে উঠতে এখন পার্থেই চলছে তার পুনর্বাসন প্রক্রিয়া। মাঠে ফিরতে অপেক্ষায় থাকতে হবে আরও বেশ কিছুদিন।
পিঠের নিচের দিক ও শ্রোণিদেশে (পেলভিক অঞ্চল) ব্যথা ও দুর্বলতার কারণে গত ১৫ অক্টোবর অস্ট্রেলিয়ার পার্থে যান নাহিদ। সেখানে কোস্টাল অর্থপেডিক হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পিটার ডি আলেসান্দ্রোর তত্ত্বাবধানে শুরু হয় তার পুনর্বাসন প্রক্রিয়া।
প্রাথমিকভাবে সব পরীক্ষানিরীক্ষার পর গত শুক্রবার থেকে বোলিং করার অনুমতি দেওয়া হয় নাহিদকে। একজন করে স্পোর্টস সার্জন, স্পোর্টস ফিজিশিয়ান, ট্রেইনার ও ফিজিও আপাতত তার সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন।
গত কয়েক দিনের ধারাবাহিকতায় সোমবার ৬০ থেকে ৬৫ শতাংশ দিয়ে বোলিং করেছেন ২৪ বছর বয়সী পেসার। কোনোরকম অস্বস্তি বা ব্যথা অনুভূত হয়নি তার। সার্বিকভাবে এটিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে বিবি।
বিসিবির প্রধান চিকিৎসক দেবাশিষ চৌধুরি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বললেন, আগামী মঙ্গলবার দেশে ফিরবেন নাহিদ। এরপর চলবে বাকি পুনর্বাসন প্রক্রিয়া।
“নাহিদ রানা ১০ তারিখে দেশে ফিরবে, যদি ফ্লাইট সূচি ঠিক থাকে। অস্ট্রেলিয়ায় সে এর মধ্যে বোলিং শুরু করে দিয়েছে। সেখান থেকে একটা পুনর্বাসন পরিকল্পনা দেওয়ার কথা। দেশে ফেরার পর আমরা সেটি ধরে পরবর্তী প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করব। দেশে ফেরার আগে তাই নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।”
গত জুলাইয়ে জিম্বাবুয়ে সফরে টি-টোয়েন্টি সিরিজ চলাকালে সাইড স্ট্রেইনে ভোগেন নাহিদ। সেই চোটের কারণেই অস্ট্রেলিয়া সফরে যেতে পারেননি তরুণ ফাস্টবোলার। তাকে ছাড়াই ডারউইন টেস্টে ঐতিহাসিক সাফল্য পায় বাংলাদেশ।
পরে সংযুক্ত আরব আমিরাতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্ট দিয়ে ফেরার লক্ষ্যে চলতে থাকে তার পুনর্বাসন। তবে এর মাঝেই পিঠের নিচের দিক ও শ্রোণিদেশে ব্যথা টের পান তরুণ পেসার। যা কমিয়ে দেয় বোলিংয়ের শক্তি।
স্ট্রেংথ ও ফ্লেক্সিবিলিটি কমে যাওয়ার কারণে পূর্ণ মাত্রায় বোলিং করতে পারছিলেন না তিনি। বোলিংয়ের সেই শক্তি ফেরানোর লক্ষ্যে শুরু হয় নতুন পুনর্বাসন প্রক্রিয়া। দেশে কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর সব কিছু বিবেচনা করে অস্ট্রেলিয়ায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় বিসিবি।
সেখানে গত মাসের মাঝামাঝি থেকে পার্থে চলছে নাহিদের পুনর্বাসন প্রক্রিয়া। প্রাথমিকভাবে আশা ছিল, সামনের দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের টেস্ট সিরিজ দিয়ে মাঠে ফিরবেন নাহিদ। তবে সেই সম্ভাবনা এখন শূন্যের কোটায়। শুধু তাই নয়, দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ওয়ানডে বা টি-টোয়েন্টি সিরিজেও তাকে পাওয়ার আশা ক্ষীণ।
পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে সম্পৃক্ত বিসিবির চিকিৎসা বিভাগের এক সদস্য নাম না প্রকাশের শর্তে জানিয়েছেন, দেশে ফেরার পরও অন্তত চার-পাঁচ সপ্তাহ সময় লাগবে নাহিদের মাঠে ফেরার সবুজ সংকেত পেতে।
“নাহিদ রানা এখন অস্ট্রেলিয়ায় বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানেই আছে। আমাদের সবশেষ যখন আলোচনা হয়েছে, তখন একটা ধারণা দিয়েছিল যে দেশে ফেরার পর হয়তো আরও ৪-৫ সপ্তাহ ওকে নিয়ে কাজ করতে হবে। এরপর অবস্থা বুঝে মাঠে ফেরার বিষয়টা ঠিক করা যাবে।”
তবে সার্বিকভাবে তরুণ ফাস্ট বোলারের অগ্রগতিতে সন্তুষ্ট বিসিবির চিকিৎসা বিভাগ। অস্ট্রেলিয়া থেকে ফেরার আগেই ৯০ শতাংশ দিয়ে বোলিং করতে পারবেন নাহিদ, এমনটাই আশা তাদের। পরে দেশে ফিরলে স্ট্রেংথ পুরোপুরি ফিরিয়ে আনার বাকি কাজ করা হবে।
“আমাদের এখন অপেক্ষা মূলত নাহিদের দেশে ফেরার। সে এখন পর্যন্ত ভালো উন্নতি করেছে। কোনো অস্বস্তির অভিযোগ করেনি বোলিং শুরুর পর। ওর ফ্লেক্সিবিলিটি বাড়ছে আগের চেয়ে। এখন ধীরে ধীরে পূর্ণ স্ট্রেংথ ফিরিয়ে আনাটাই মূল লক্ষ্য।”
সব বিবেচনায় রাখলে, দীর্ঘ পুনর্বাসন প্রক্রিয়া সেরে আগামী ১৫ ডিসেম্বর শুরু হতে যাওয়া ডি থ্রি ট্রফির টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে কিছু ম্যাচ খেলার সুযোগ পেতে পারেন নাহিদ। তবে ওই টুর্নামেন্টে খেলার ঝুঁকি না নিলে হয়তো ঘরের মাঠে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ দিয়েই আবার গতির ঝড় তুলতে দেখা যাবে তাকে।
